সোনার দামে রেকর্ড পতন, এই সুযোগ থাকবে কতদিন?

রেকর্ড চূড়ায় ওঠার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় পতন হয়েছে সোনার দামে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্যাপক ওঠানামার পর বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে কিছুটা স্বস্তিতে ক্রেতারা। তবে যে কোনো ভূরাজনৈতিক সংকট বা নীতিমালার পরিবর্তন সোনাকে আবার চড়া করে তুলতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুটা সোনার জন্য ছিল চরম অস্থির। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। কিন্তু জুন মাসের শেষের দিকে তা কমে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে সোনার দাম প্রায় সাত শতাংশ কমেছে। আরও পড়ুন ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের মুখে সোনার দাম দরপতনের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, ধীরগতির বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সোনার বাজার এখন স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বছরের বাকি সময়ে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের আশপাশে ৫ শতাংশ কম-বেশিতে ওঠানামা করতে পারে। জানুয়ারির রেকর্ড দামের পর এই বড় পতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এনেছে। যারা

সোনার দামে রেকর্ড পতন, এই সুযোগ থাকবে কতদিন?

রেকর্ড চূড়ায় ওঠার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় পতন হয়েছে সোনার দামে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্যাপক ওঠানামার পর বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে কিছুটা স্বস্তিতে ক্রেতারা। তবে যে কোনো ভূরাজনৈতিক সংকট বা নীতিমালার পরিবর্তন সোনাকে আবার চড়া করে তুলতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুটা সোনার জন্য ছিল চরম অস্থির। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। কিন্তু জুন মাসের শেষের দিকে তা কমে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে সোনার দাম প্রায় সাত শতাংশ কমেছে।

দরপতনের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, ধীরগতির বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সোনার বাজার এখন স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বছরের বাকি সময়ে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের আশপাশে ৫ শতাংশ কম-বেশিতে ওঠানামা করতে পারে।

জানুয়ারির রেকর্ড দামের পর এই বড় পতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এনেছে। যারা দাম বাড়ার কারণে সোনা কেনা বন্ধ রেখেছিলেন, তারা আবার বাজারে ফিরছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান দামকে পুরোপুরি সংশোধন বলা যাবে না। বাজার এখন নতুন কোনো ধাক্কার জন্য অপেক্ষা করছে।

কেন আবার বাড়তে পারে দাম?

অর্থনৈতিক মন্দা, নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক সংকট কিংবা সুদের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিলে সোনার দাম আবার আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার বা তার বেশি হতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, দাম ১০ শতাংশের বেশি কমলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা কেনা বাড়িয়ে দেয়। ফলে দাম বেশি কমার সুযোগ থাকে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ওপর সোনার দাম অনেকখানি নির্ভর করছে। অক্টোবরের মধ্যে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে সোনার দাম সাধারণত কমে। তবে যদি সুদের হার কমানোর আভাস পাওয়া যায়, তবে সোনার দাম দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।

এশিয়ার বাজার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা

চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেনের সময় সোনার দাম কমেছে। কিন্তু এশিয়ার বাজারে লেনদেনের সময় তা আবার বেড়েছে। এর অর্থ হলো, এশিয়ার ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীরা কম দামে সোনা কিনে বাজারকে বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা করছেন। বিশেষ করে এশিয়ার বিয়ের মৌসুম ও উৎসবগুলোতে সোনার চাহিদা বেশি থাকে।

পাশাপাশি, ২০২২ সাল থেকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতি বছর গড়ে এক হাজার টন সোনা কিনছে। এ বছরও তারা সোনা কেনা অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বাড়তি চাহিদা সোনার দামকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ

চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে সোনার দাম বর্তমানের কাছাকাছি থাকলে ক্রেতারা কেনার জন্য একটি ভালো সুযোগ পাবেন। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা সুদের হারের বড় কোনো পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাজার এই সীমার মধ্যেই থাকবে বলে মনে করছে ডব্লিউজিসি।

সূত্র: গালফ নিউজ
কেএএ/

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow