সোশ্যাল মিডিয়ার হিরো মুহূর্তেই হতে পারেন জিরো

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অনেকেই রাতারাতি হিরো হয়েছেন। আবার একটু ভুলেই মুহূর্তে জিরো হয়ে গেছেন। এমন উদাহরণ কম নেই বাংলাদেশে। দেশের বাইরে তাকালেও রানু মণ্ডল বা ভুবন বাদ্যকরসহ অনেককেই দেখতে পাওয়া যায়। কেননা সোশ্যাল মিডিয়ার রেশ বেশিদিন থাকে না। তাছাড়া সত্য বেরিয়ে এলে নেটিজেনরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার ঘটনাটি বাস্তব উদাহরণ হতে পারে। আমরা জানি, নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছেন রিপন মিয়া। তার ফেসবুক আইডিতেও ২৯ জুলাইয়ের পর কোনো পোস্ট দেখা যায়নি। রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তিনি পৈতৃক গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বাড়ি করেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করেন। বিভিন্ন ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। তখন ‘রিপন ভিডিও’ তার নাম আইডি ছিল। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ। আরও পড়ুন গ্যারিসনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

সোশ্যাল মিডিয়ার হিরো মুহূর্তেই হতে পারেন জিরো

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অনেকেই রাতারাতি হিরো হয়েছেন। আবার একটু ভুলেই মুহূর্তে জিরো হয়ে গেছেন। এমন উদাহরণ কম নেই বাংলাদেশে। দেশের বাইরে তাকালেও রানু মণ্ডল বা ভুবন বাদ্যকরসহ অনেককেই দেখতে পাওয়া যায়। কেননা সোশ্যাল মিডিয়ার রেশ বেশিদিন থাকে না। তাছাড়া সত্য বেরিয়ে এলে নেটিজেনরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।

সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার ঘটনাটি বাস্তব উদাহরণ হতে পারে। আমরা জানি, নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছেন রিপন মিয়া। তার ফেসবুক আইডিতেও ২৯ জুলাইয়ের পর কোনো পোস্ট দেখা যায়নি।

রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তিনি পৈতৃক গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বাড়ি করেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করেন। বিভিন্ন ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। তখন ‘রিপন ভিডিও’ তার নাম আইডি ছিল। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।

স্কুলছাত্রীর পরিবারটির অভিযোগ, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন আগে থেকেই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি এখন গা ঢাকা দিয়েছেন।

আরেকটি ভাইরাল ঘটনার উদাহরণ বেশিদিন আগের নয়। ২০২২ সালে সোহেল মিয়া নামের একজন ভাইরাল হয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রওশনকে ভালোবেসে বিয়ে করার মাধ্যমে। অথচ এর আগেও তার একটি সংসার আছে। ভাইরাল হওয়ার পর বেরিয়ে আসে সব তথ্য। পরে তিনি আগের সংসারের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, স্ত্রী ও চার সন্তান ফেলে বাড়ি থেকে চলে আসেন তিনি। তার প্রকৃত নাম মোখলেছুর রহমান বকুল।

ওই বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের শারীরিক প্রতিবন্ধী রওশন ও সোহেল মিয়া দম্পতির ১৪ বছরের ভালোবাসার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে। কিন্তু এরপরই জাগো নিউজের কাছে আসে ভিন্ন তথ্য। জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে তার বাড়ি।

১৯৯২ সালে শুরাতন বেগম নামে একজনকে বিয়ে করেন বকুল। তাদের সংসারে চার সন্তানের জন্ম হয়। অভাব-অনটনে দিন দিন ঋণগ্রস্ত হতে থাকায় ১৫ বছর আগে কাজের কথা বলে ঢাকায় চলে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। এমনকি তিন বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার কথা জানালেও তিনি আসেননি।

প্রথম বিয়ের কথা স্বীকার করে সোহেল মিয়া জানিয়ে ছিলেন, ১৯৯২ সালে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। আগের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের ছেড়ে চলে আসেন। তাদের সঙ্গে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। তবে সম্পর্ক ভালো ছিল না। ফোন করলেই তারা গালাগালি করতেন। পরে ওই বছর স্ট্রোক করার পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।

তখন রওশন-সোহেল দম্পতির ভালোবাসার গল্প ভাইরাল হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মানুষের আবেগকে নাড়া দিয়েছিল ঘটনাটি। কিন্তু আসল তথ্য বেরিয়ে আসতেই নেটিজেনরা নড়েচড়ে বসেন। মূলত ভাইরাল ঘটনার পেছনে এমন অনেক অসত্য তথ্য লুকিয়ে থাকে। সবগুলো ঘটনাই মূলত মানুষের আবেগকে পুঁজি করে সংঘটিত হয়। তাই বলা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার যত দ্রুত হিরো বানাতে পারে, তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যেই আবার জিরো বানিয়ে দেয়।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow