সোশ্যাল মিডিয়ায় টাকা জমানোর নতুন ট্রেন্ড, ১০০ খামে সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ
প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর কমবেশি সবার একটিই সংকল্প থাকে এ মাস থেকেই সঞ্চয় করব। কিন্তু বাড়িভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিল, পড়াশোনা, চিকিৎসা আর নানা প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষ দিকে এসে অনেকেরই হাতে টাকা থাকে না। পরিকল্পনা যেন নোটবুকেই আটকে থাকে। সঞ্চয়ের কথা মনে থাকলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সঞ্চয় করা যায় তার নানান উপায় খুঁজতে থাকেন অনেকে। বর্তমানে টাকা জমানোর একটি পদ্ধতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। সেটি হচ্ছে ‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’। নাম শুনে কঠিন মনে হলেও পদ্ধতিটি বেশ সহজ। ১০০টি খামে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমানো। নির্দিষ্ট সময় শেষে সেই সঞ্চয় দাঁড়াবে ৫০ হাজার টাকার বেশি। ১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ আসলে কী ‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’ শুনতে যতটা কঠিন মনে হচ্ছে। ব্যাপারটি মোটেই কঠিন কিছু না। চ্যালেঞ্জটি শুরু করতে প্রয়োজন ১০০টি সাধারণ খাম। প্রতিটি খামে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি সংখ্যা লিখতে হবে। এরপর খামের নম্বর অনুযায়ী টাকা ১০ দিয়ে গুণ করে তা জমা রাখতে হবে। অর্থাৎ, ১ নম্বর খামে ১০ টাকা, ২ নম্বর খামে ২০ টাকা। একইভাবে ৫০ নম্বর খামে ৫০০ টাকা এবং ১০০ নম্বর খামে ১ হাজার টাক
প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর কমবেশি সবার একটিই সংকল্প থাকে এ মাস থেকেই সঞ্চয় করব। কিন্তু বাড়িভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিল, পড়াশোনা, চিকিৎসা আর নানা প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষ দিকে এসে অনেকেরই হাতে টাকা থাকে না। পরিকল্পনা যেন নোটবুকেই আটকে থাকে। সঞ্চয়ের কথা মনে থাকলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে না।
এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সঞ্চয় করা যায় তার নানান উপায় খুঁজতে থাকেন অনেকে। বর্তমানে টাকা জমানোর একটি পদ্ধতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। সেটি হচ্ছে ‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’। নাম শুনে কঠিন মনে হলেও পদ্ধতিটি বেশ সহজ। ১০০টি খামে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমানো। নির্দিষ্ট সময় শেষে সেই সঞ্চয় দাঁড়াবে ৫০ হাজার টাকার বেশি।
১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ আসলে কী
‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’ শুনতে যতটা কঠিন মনে হচ্ছে। ব্যাপারটি মোটেই কঠিন কিছু না। চ্যালেঞ্জটি শুরু করতে প্রয়োজন ১০০টি সাধারণ খাম। প্রতিটি খামে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি সংখ্যা লিখতে হবে। এরপর খামের নম্বর অনুযায়ী টাকা ১০ দিয়ে গুণ করে তা জমা রাখতে হবে।
অর্থাৎ, ১ নম্বর খামে ১০ টাকা, ২ নম্বর খামে ২০ টাকা। একইভাবে ৫০ নম্বর খামে ৫০০ টাকা এবং ১০০ নম্বর খামে ১ হাজার টাকা রাখতে হবে। এভাবে ১০০টি খামে ১০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা হলে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৫ হাজার টাকা।
আচ্ছা হিসাবটা আরেকটু সহজে করে দেই-
১ নম্বর খাম = ১০ টাকা
১০ নম্বর খাম = ১০০ টাকা
২৫ নম্বর খাম = ২৫০ টাকা
৫০ নম্বর খাম = ৫০০ টাকা
৭৫ নম্বর খাম = ৭৫০ টাকা
১০০ নম্বর খাম = ১ হাজার টাকা
সবগুলো খাম পূরণ করাই মূল লক্ষ্য।
প্রতিদিন একটি খাম পূরণ করতেই হবে?
এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। চ্যালেঞ্জটির সবচেয়ে সুবিধাজনক দিকগুলোর একটি হলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট ক্রমে টাকা জমাতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ধরুন, কোনো দিন হাতে বাড়তি টাকা আছে। সেদিন ৫০০ বা ১ হাজার টাকার খাম পূরণ করে ফেলতে পারেন। আবার খরচের চাপ বেশি থাকলে ১০, ২০ কিংবা ৫০ টাকার খাম বেছে নেওয়া যায়। অর্থাৎ, খামের নম্বর দেখে নয়, নিজের সামর্থ্য বুঝে কোন খামটি আগে পূরণ করবেন, সেটি ঠিক করা যায়। এতে সঞ্চয়কে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
১০০ দিনে শেষ করা জরুরি নয়
‘১০০ খাম’ নাম হলেও ১০০ দিনের মধ্যে চ্যালেঞ্জ শেষ করতেই হবে এমন নিয়ম নেই। কারো আয় নিয়মিত হলে ১০০ দিনের লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে খাম পূরণ করলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তবে যাদের আয় অনিয়মিত, তাঁদের জন্য সময়টা একটু দীর্ঘ করা বেশি বাস্তবসম্মত। চাইলে ১০০ সপ্তাহের লক্ষ্যও নেওয়া যায়।
আরেকটি সহজ কৌশল হলো সপ্তাহে দুটি খাম পূরণ করা। প্রথম সপ্তাহে ১০ ও ২০ টাকার খাম, পরের সপ্তাহে ৩০ ও ৪০ টাকার খাম এভাবে এগোলে ৫০ সপ্তাহে ১০০টি খাম পূরণ হয়ে যাবে।
বড় খামের টাকা একবারে দিতে হবে না
চ্যালেঞ্জের শুরুতে ১০, ২০, ৩০ বা ৫০ টাকা জমাতে খুব বেশি চাপ নাও লাগতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় বড় অঙ্কের খামের ক্ষেত্রে। ৭০০, ৮০০, ৯০০ কিংবা ১ হাজার টাকা একবারে আলাদা করা অনেকের মাসিক বাজেটেই চাপ ফেলতে পারে।
এ ক্ষেত্রে খাম পূরণের নিয়মে একটু নমনীয় হওয়া যায়।
যেমন, ১ হাজার টাকার খাম একবারে পূরণ করা কঠিন হলে ২৫০ টাকা করে চারবার জমিয়ে সেটি পূর্ণ করা যেতে পারে। একইভাবে ৮০০ টাকার খাম ২০০ টাকা করে চারবারে শেষ করা সম্ভব। তাই কোনো খাম পূরণ করতে গিয়ে যদি সংসারের প্রয়োজনীয় খরচে টান পড়ে, তাহলে জোর করে সেই টাকা আলাদা না করাই ভালো। সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যই হলো আর্থিক চাপ কমানো, বাড়ানো নয়।
খাম কেন, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং নয়?
বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সঞ্চয়ব্যবস্থা থাকায় খামে টাকা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই পদ্ধতির মূল আকর্ষণ আসলে এর দৃশ্যমানতা। একটি খাম পূর্ণ হলে সেটি চোখের সামনে রাখা যায়। ১০০টি খামের মধ্যে কতগুলো শেষ হয়েছে, কত টাকা জমেছে সেটিও সহজে বোঝা যায়। প্রতিটি পূর্ণ খাম ছোট একটি অর্জনের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
তবে ঘরে দীর্ঘদিন নগদ টাকা জমিয়ে রাখা নিরাপদ নয়। তাই খামে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ বাড়লে তা নিরাপদ ব্যাংক বা অন্য উপযুক্ত সঞ্চয়ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। খাম তখন হয়ে থাকবে শুধু সঞ্চয়ের হিসাব ও অভ্যাস তৈরির একটি মাধ্যম।
শুরুতেই খরচ করবেন না ‘সঞ্চয়ের সরঞ্জামে’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জের জন্য নানা ধরনের রঙিন খাম, বিশেষ বাক্স, সঞ্চয় ট্র্যাকারসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এসব কেনার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। শুরু করতে কয়েকটি সাধারণ খামই যথেষ্ট। কারণ চ্যালেঞ্জটির আসল উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ সঞ্চয়বাক্স কেনা নয়; বরং নিয়মিতভাবে আয় থেকে কিছু টাকা আলাদা করার অভ্যাস তৈরি করা।
৫৫ হাজার টাকা জমলে কী করবেন?
চ্যালেঞ্জ শুরু করার আগেই সঞ্চয়ের টাকার গন্তব্য ঠিক করে রাখলে লক্ষ্য ধরে এগোনো সহজ হয়। জমানো অর্থ জরুরি তহবিল হিসেবে রাখা যেতে পারে। আবার সন্তানের পড়াশোনা, ঈদের খরচ, ভ্রমণ, প্রয়োজনীয় কোনো বড় কেনাকাটা কিংবা ছোট ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারো উচ্চ সুদের ঋণ থাকলে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঞ্চয়ের অর্থের একটি অংশ ঋণ পরিশোধেও ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে এই চ্যালেঞ্জের সাফল্য শুধু ৫৫ হাজার টাকা জমাতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করাই এর বড় অর্জন। আজ ১০ টাকা দিয়ে শুরু করা সেই অভ্যাসই পরে আরও বড় আর্থিক লক্ষ্য পূরণের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
কেএসকে
What's Your Reaction?

