সোহরাওয়ার্দী কলেজের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের ছড়াছড়ি

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি প্রশাসনের জন্য খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘরের পাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ (সিগারেটের বাট)। সোমবার (১৪ জুলাই) সরেজমিন কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের রসায়ন বিভাগের পেছনসহ একাধিক স্থানে যত্রতত্র পড়ে রয়েছে সিগারেটের ফিল্টার ও খালি প্যাকেট। রান্নাঘরের পাশের আড়াল অংশেও একই চিত্র চোখে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জায়গা। সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। ধূমপানমুক্ত নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আগন্ত বাবু বলেন, আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে ধূমপান সম

সোহরাওয়ার্দী কলেজের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের ছড়াছড়ি

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি প্রশাসনের জন্য খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘরের পাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ (সিগারেটের বাট)।

সোমবার (১৪ জুলাই) সরেজমিন কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের রসায়ন বিভাগের পেছনসহ একাধিক স্থানে যত্রতত্র পড়ে রয়েছে সিগারেটের ফিল্টার ও খালি প্যাকেট। রান্নাঘরের পাশের আড়াল অংশেও একই চিত্র চোখে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জায়গা। সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। ধূমপানমুক্ত নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আগন্ত বাবু বলেন, আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের বাট পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা কোনোভাবেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত।’

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, কলেজ পড়াশোনার জায়গা। ধূমপানের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক কর্মচারী দাবি করেন, ওই স্থানে বহিরাগতদের তেমন যাতায়াত নেই। কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে ধূমপান করেন।

তাদের ধূমপানে কখনো বাধা দেওয়া হয় কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা ছাত্রদল করে।’ তবে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমার জানা মতে ছাত্রদলের কেউ কলেজে ধূমপান করে এমন তথ্য নেই। যদি সংগঠনের কোনো সদস্য কলেজের অভ্যন্তরে ধূমপান করে থাকে, তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং সাংগঠনিকভাবেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সিগারেটের অবশিষ্টাংশ দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ওই স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow