স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ করায় বাবার ওপর হামলা
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে সুপারি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করায় গভীর রাতে শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামাল হাওলাদারের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার টবগী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীর বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামাল হাওলাদার জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার ছেলে প্রতিবেশীর বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যায়। পরে সে মনিরাম বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্বর্ণালঙ্কার চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এরপর জনসম্মুখে ওই শিক্ষার্থীর হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের চেয়ার ও এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে দীর্ঘ সময় নির্যাতন চালানো হয়। খবর পেয়ে তিনি ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে উল্টো তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদে
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে সুপারি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করায় গভীর রাতে শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামাল হাওলাদারের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার টবগী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীর বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামাল হাওলাদার জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার ছেলে প্রতিবেশীর বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যায়। পরে সে মনিরাম বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্বর্ণালঙ্কার চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এরপর জনসম্মুখে ওই শিক্ষার্থীর হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের চেয়ার ও এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে দীর্ঘ সময় নির্যাতন চালানো হয়। খবর পেয়ে তিনি ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে উল্টো তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে কামাল হাওলাদার বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে থানায় অভিযোগ করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন অভিযুক্তরা। গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় টবগী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মজনু বয়াতীর বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল কামাল হাওলাদারের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়।
কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের হুমকি দিচ্ছে। ফলে তার পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মনির ও তার মাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রধান অভিযুক্ত মজনু বয়াতী স্থানীয় যুবদলের প্রভাবশালী নেতা। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় বিভিন্ন বিচার-সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে নির্যাতনের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মজনু বয়াতী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই ছেলেটিকে চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা আটক করেছিল। এলাকায় তার বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির রেকর্ড রয়েছে। পরে তার পরিবারের অনুরোধেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, স্কুলছাত্র নির্যাতন ও পরবর্তীতে বাবার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?