স্টেডিয়ামে ট্রাম্পকে দেখে দর্শকদের দুয়োধ্বনি 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনালসের একটি ম্যাচ দেখতে গিয়ে দর্শকদের দুয়ো ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিনি উপস্থিত হলে পুরো স্টেডিয়ামে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ চলাকালে ভিডিও স্ক্রিনে ট্রাম্পকে দেখানো হলে উপস্থিত দর্শকদের একটি অংশ তীব্র ভুয়ো ধ্বনি ও ধিক্কার জানায়। প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ‘ইউ-এস-এ’ স্লোগান শোনা গেলেও পরে ট্রাম্পকে সামরিক কায়দায় স্যালুটরত অবস্থায় বড় পর্দায় দেখানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এরপর দর্শকদের একাংশ তার বিরুদ্ধে দুয়ো দিতে শুরু করে। তবে পরবর্তী মুহূর্তে মার্কিন পতাকা প্রদর্শিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে এবং নিউ ইয়র্ক নিক্সের খেলোয়াড়দের দেখানোর সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাসও দেখা যায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দল সান আন্তোনিও স্পার্সের নাম ঘোষণার সময়ও কিছু দর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ম্যাচে উপস্থিত থাকা ট্রাম্প অবশ্য প্রতিক্রিয়াকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। ওয়াশিংটনে ফেরার উদ্দেশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সে

স্টেডিয়ামে ট্রাম্পকে দেখে দর্শকদের দুয়োধ্বনি 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনালসের একটি ম্যাচ দেখতে গিয়ে দর্শকদের দুয়ো ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিনি উপস্থিত হলে পুরো স্টেডিয়ামে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ চলাকালে ভিডিও স্ক্রিনে ট্রাম্পকে দেখানো হলে উপস্থিত দর্শকদের একটি অংশ তীব্র ভুয়ো ধ্বনি ও ধিক্কার জানায়। প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ‘ইউ-এস-এ’ স্লোগান শোনা গেলেও পরে ট্রাম্পকে সামরিক কায়দায় স্যালুটরত অবস্থায় বড় পর্দায় দেখানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এরপর দর্শকদের একাংশ তার বিরুদ্ধে দুয়ো দিতে শুরু করে। তবে পরবর্তী মুহূর্তে মার্কিন পতাকা প্রদর্শিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে এবং নিউ ইয়র্ক নিক্সের খেলোয়াড়দের দেখানোর সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাসও দেখা যায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দল সান আন্তোনিও স্পার্সের নাম ঘোষণার সময়ও কিছু দর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ম্যাচে উপস্থিত থাকা ট্রাম্প অবশ্য প্রতিক্রিয়াকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। ওয়াশিংটনে ফেরার উদ্দেশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সেখানে বেশির ভাগই করতালির শব্দ ছিল। এটি বেশ উচ্চশব্দে এবং অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ছিল।’ ম্যাচটি তিনি নিক্সের মালিক জেমস ডোলানের ব্যক্তিগত স্যুট থেকে উপভোগ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন নাতনি কাই, ব্যক্তিগত উপদেষ্টা বরিস এপশটাইন এবং ক্যাবিনেট সদস্য লি জেলডিন, শন ডাফি ও ডগ বার্গাম। খেলার সময় তিনি এনবিএ কমিশনার অ্যাডাম সিলভারসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্প নিউ জার্সি থেকে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে করে ওয়াল স্ট্রিটের কাছে অবতরণ করেন এবং পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ম্যানহাটনে পৌঁছান। পথে কিছু মানুষের বিরূপ অঙ্গভঙ্গি এবং অ্যারেনার বাইরে ‘ট্রাম্পকে অবশ্যই যেতে হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। তার আগমনের আগে থেকেই নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএস সিক্রেট সার্ভিস পুরো এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই দর্শকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করতে হয়, যেখানে মেটাল ডিটেক্টরসহ একাধিক নিরাপত্তা চেক পার হতে হয়েছে। ফলে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে পর্যটক ও কর্মজীবীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দর্শকদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জটিল ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিযোগ করেন। আবার অনেকেই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নেন। নিক্স ও স্পার্সের কোচরা অবশ্য নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতাকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেননি। নিরাপত্তা জোরদারের কারণে ম্যাচের বাইরে পরিকল্পিত একটি ওয়াচ পার্টিও বাতিল করা হয়। টিকিটধারীদের ব্যাগ ছাড়াই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকায় কার্যত কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow