স্ত্রী-ছেলের হাতেই প্রাণ হারান প্রবাসী আলমগীর
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘরের বাইরের 'অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের' সাজানো গল্প ছাপিয়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক নৃশংস পারিবারিক ট্র্যাজেডির চিত্র। মূলত পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। শুক্রবার (০১ মে) বিকেলে পুলিশের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রবাসী আলমগীরের সাথে তার প্রথম স্ত্রী রহিমার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের জেরে ২০০৭ সাল থেকে তাদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে পুনরায় প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে এলেও ঝগড়া থামেনি। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে মা ও ছেলে মিলে পাল্টা আক্রমণ করেন। ‘তারা ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘরের বাইরের 'অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের' সাজানো গল্প ছাপিয়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক নৃশংস পারিবারিক ট্র্যাজেডির চিত্র। মূলত পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
শুক্রবার (০১ মে) বিকেলে পুলিশের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রবাসী আলমগীরের সাথে তার প্রথম স্ত্রী রহিমার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের জেরে ২০০৭ সাল থেকে তাদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে পুনরায় প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে এলেও ঝগড়া থামেনি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে মা ও ছেলে মিলে পাল্টা আক্রমণ করেন। ‘তারা ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।’
ঘটনার পর অপরাধ আড়াল করতে আসামিরা এলাকায় প্রচার করেন যে, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে।
এ নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হলে তদন্তে নামে। হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ‘ধামা দা’ উদ্ধার করা হয়। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই আসামিদের কথায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ শুরু করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গত ২৮ এপ্রিল প্রবাসী আলমগীরের ঘরের বাইরে তার লাশ পাওয়া যায়। তখন তার স্ত্রী ও সন্তান দাবি করেছিলেন, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চৌকস তদন্তে মাত্র তিন দিনেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
What's Your Reaction?