স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত এখানকার কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে চরজানাজাত ইউনিয়নে গত কয়েক বছর ধরে জনবসতি বাড়লেও সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফলে সামান্য অসুখ থেকে শুরু করে জরুরি প্রসবকালীন সেবার জন্য প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সরেজমিনে চরজানাজাতে গিয়ে দেখা যায়, নদীপথে খেয়া পারাপারই এখানকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ২০২১ সালে জেগে ওঠা এই চরে ২০২২ সাল থেকে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে এখানে কোনো চিকিৎসক বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারে না। চরের বাসিন্দারা জানান, নদীপথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। প্রতিকূল আবহাওয়া বা রাতের বেলা তীব্র স্রোতের কারণে রোগী পরিবহন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন স্বজনরা। নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত এখানকার কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে চরজানাজাত ইউনিয়নে গত কয়েক বছর ধরে জনবসতি বাড়লেও সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা।
ফলে সামান্য অসুখ থেকে শুরু করে জরুরি প্রসবকালীন সেবার জন্য প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে চরজানাজাতে গিয়ে দেখা যায়, নদীপথে খেয়া পারাপারই এখানকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ২০২১ সালে জেগে ওঠা এই চরে ২০২২ সাল থেকে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে এখানে কোনো চিকিৎসক বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারে না।
চরের বাসিন্দারা জানান, নদীপথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। প্রতিকূল আবহাওয়া বা রাতের বেলা তীব্র স্রোতের কারণে রোগী পরিবহন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন স্বজনরা। নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক নারী ঘরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন।
চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, গত মাসে আমার প্রসববেদনা উঠলে রাতে কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। অনেক কষ্টে ভোরে নদী পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। মাঝরাতে কিছু হয়ে গেলে হয়তো বাঁচতাম না। আমাদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এখানে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে।
শ্বাসকষ্টে ভোগা বৃদ্ধ জব্বার মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, হাসপাতাল বা রাস্তার কত প্রতিশ্রুতিই তো শুনলাম, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পেলাম না। আমাদের কষ্ট কারও চোখে পড়ে না।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বেপারী ও ইউপি সদস্য মোতালেব বেপারী জানান, চরের মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গোনে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অন্তত একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্যাপ্ত ওষুধসহ ক্লিনিক এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মতিউর রহমান জানান, জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কারণে দুর্গম চরে নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা সপ্তাহে দুইদিন সেবা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন চরে মাসে অন্তত একদিন ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া স্থায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য ৩০ শতাংশ জমি প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা হলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
What's Your Reaction?