স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বলে ওঠে সবুজ, হলুদ ও লাল বাতি। যানজট নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে এখনো হাতের ইশারা দিয়েই কাজ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরতরা বলছেন, সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে সড়কে চলাচলে নিয়ম মানছেন না যানবাহন চালকরা। ফলে একপ্রকার নিয়ম মানাতে বাধ্য হয়েই সিগন্যাল বাতির পাশাপাশি ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি মোড়ে নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আটটি মোড়। এর মধ্যে আটটি স্থানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর মোড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতি সক্রিয় থাকলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একাধিক ট্রাফিক সদস্য সেখানে ব্যস্ত সময় পার ক

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বলে ওঠে সবুজ, হলুদ ও লাল বাতি। যানজট নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে এখনো হাতের ইশারা দিয়েই কাজ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা।

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরতরা বলছেন, সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে সড়কে চলাচলে নিয়ম মানছেন না যানবাহন চালকরা। ফলে একপ্রকার নিয়ম মানাতে বাধ্য হয়েই সিগন্যাল বাতির পাশাপাশি ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি মোড়ে নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আটটি মোড়। এর মধ্যে আটটি স্থানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর মোড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতি সক্রিয় থাকলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একাধিক ট্রাফিক সদস্য সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মোড়গুলোতে উন্নত বিশ্বের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর লাল, হলুদ ও সবুজ বাতি জ্বললেও তারা চালকদের সেই পুরোনো পদ্ধতি, অর্থাৎ হাতের ইশারায় নিয়ম মানাতে বাধ্য করছেন। সেই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি ও মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে বেতারযন্ত্রে যোগাযোগের মাধ্যমে সড়কবাতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এরপরও সুযোগ পেলেই বন্ধ সিগন্যালেও গাড়ি চালিয়ে দিচ্ছেন চালকরা।

আরও পড়ুন
ডিএমপির সম্মতি ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলে ব্যবস্থা
অকার্যকর সিগন্যাল বাতি, সম্বল হাতের ইশারা
পথচারী পারাপারে শিগগির ৪ পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট চালু

এদিকে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ ঘুরে দেখা গেছে, সেখান থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কে নজরদারি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দায়িত্বরত কর্মীরা।

তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

কারওয়ান বাজার ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আশিক জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চালকরা সচেতন না হলে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থায় উন্নতি হবে না।

ফার্মগেটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সব চালকের মধ্যে আগে যাওয়ার প্রবণতাটা বেশি। সবাই চান আগে সিগন্যাল পার হবেন। এজন্য সিগন্যাল বন্ধ থাকলেও যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সড়কের মধ্যে দাঁড়িয়ে গাড়ি না থামাই ততক্ষণ গাড়ি চলতেই থাকে। কেউই নিয়ম মানতে চান না।’

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত সার্জেন্ট অভিজিৎ হাজরা বলেন, ‘বাতি দেখেও সিগন্যাল মেনে গাড়ি না চালানোর কারণে আমাদের ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় কাজ করতে হচ্ছে, যাতে তারা নিয়মগুলো মেনে চলেন। হাতের ইশারার মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বোঝানো হচ্ছে যে এখন লাল বাতি জ্বলে আছে আপনারা থামেন। আবার গ্রিন সিগন্যাল জ্বলেছে আপনারা এখন চলাচল করেন। কিন্তু বাতি দেখে নিয়ম মেনে কেন চলছে না এটা আইন ভঙ্গকারীরাই ভালো বলতে পারবেন।’

এদিকে এর আগে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সিগন্যাল ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করে প্রচার-প্রচারণার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন জাগো নিউজকে।

আরও পড়ুন
স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালও মানতে অনীহা, এখনো ভরসা হাতের ইশারা
নতুন ট্রাফিক সিগন্যালেও ত্রুটি, ভরসা সেই ‘হাতের ইশারা’
সিগন্যাল বাতি জ্বলে না, হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

সে সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন নিয়ে আসতে হলে যারা নিয়ম মানবে না তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ভিডিও নজরদারির মাধ্যমে হোক আর যেভাবেই হোক জরিমানা তাদের দিতেই হবে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। তাহলে মানুষের ভেতরে একটি বার্তা যাবে যে, তিনি যদি সিগন্যাল অমান্য করেন তাহলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে। তারপরও যদি নিয়মের মধ্যে না আসে তখন দেখতে হবে মানুষ কেন মানছে না? প্রযুক্তিতে কোনো ভুল আছে কি না, পরিচালনায় কোনো সমস্যা আছে কি না? এসব চিহ্নিত করতে হবে।

সেই সঙ্গে এ নিয়ে প্রচার চালানোর ওপর জোর দেন সাইফুন নেওয়াজ। তিনি বলেন, ‘সিগন্যালগুলো যে কার্যকর এ বার্তা মানুষের মধ্যে জানাতে হবে। যেহেতু এ পদ্ধতির সঙ্গে মানুষ অভ্যস্ত নয়, সেহেতু আমাদের কোন কোন জায়গায় সিগন্যালগুলো কার্যকর সেটি মানুষকে জানাতে হবে, প্রচার করতে হবে। যাতে প্রত্যেক মানুষের কানে পৌঁছায় যে ঢাকার কোন কোন সিগন্যাল ডিজিটালাইজেশন হয়েছে এবং সেখানে নিয়ম না মানলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এটি প্রচুর পরিমাণে প্রচার করতে হবে। কারণ তা অনেকেই জানেন না। সবাইকে জানাতে হবে। এক মাস পর কঠিন জরিমানার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। যদি ১০০ শতাংশ জরিমানার আওতায় আনা যায় আর এ বার্তাটি সবার কানে পৌঁছানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক জায়গায় এ ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে।’

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

সে সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো.আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হতে মানুষের একটু সময় লাগে। নতুন এ পদ্ধতি এতদিন তো ছিল না। আবার সারা ঢাকা শহরেও নেই। হঠাৎ করে এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালে গিয়ে অনেকে মনে করেন, এখানে হয়তো নাই। এটি যদি পুরো ঢাকা শহরে একসঙ্গে করতে পারতাম তাহলে সবাই বুঝতো যে সিগন্যাল মেনে চলতে হবে। পুরো শহরে যেহেতু একসঙ্গে হয়নি, সুতরাং এটি মানাতে একটু সময় লাগবে।’

আনিছুর রহমান জানান, স্বয়ংক্রিয় এ পদ্ধতি বর্তমানে চালু আছে আটটি সিগন্যালে। মোট ২২টি মোড়ে তা চালু করা হবে।

আরও পড়ুন
যে দেশের রাস্তায় নেই ট্রাফিক সিগনাল, তবুও হয় না যানজট
ট্রাফিক সিগন্যালে এআই, সাদা দাগ পার হলেই অটো মামলা
জেনে নিন ট্রাফিক আইনে কোন অপরাধে কী শাস্তি

এআই ব্যবহার করে সিগন্যালে লাল-সবুজ বাতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ সময় ব্যবস্থাপনা হচ্ছে আমাদের মাধ্যমে। একটি এআইয়ের মাধ্যমে প্রোগ্রাম করা আছে। এতে আমরা জানি যে গাড়ির পরিমাণ কত এবং কোন জায়গায় কতক্ষণ লাগবে। সে অনুযায়ী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের আলাদা ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আছে। সেখান থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়।’

বর্তমান ব্যবস্থায় এআই দিয়ে হিসাব ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় জানিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে তাদের সম্পূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল এআইয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা আছে। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখন যানবাহন নিয়ম ভঙ্গ করলে তারা সিগন্যালে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেই সেগুলো শনাক্ত করে মামলার আওতায় নিয়ে আসছেন।

কেআর/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow