সড়ক দখল করে যত্রতত্র পার্কিং, নগরজীবনে কমছে গতি
রাজধানীর ঢাকার আফতাবনগরের বাসিন্দা আলী আহসান। পেশায় একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টায় ব্যাংকের একটা কাজে গুলশানে যান। তাকে গুলশান-১ এ নির্দিষ্ট ব্যাংকের সামনে নামিয়ে পার্কিং খুঁজতে থাকেন প্রাইভেটকারের চালক আফজাল। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও কোথায়ও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত পার্কিং না পেয়ে গাড়িটি পার্কিং করেন ২৪ নম্বর রোডের একপাশে। গাড়ি থেকে নেমে পাশেই ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন আফজাল। এরই মধ্যে হঠাৎ গাড়ির সামনে হাজির পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মরত সদস্যরা। তারা গাড়িটিতে রেকার লাগিয়ে দেন। পরে ১২শ টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়িটি ছাড়াতে হয় তাকে। আক্ষেপ করে আফজাল জাগো নিউজকে বলেন, গুলশানের কোথায়ও গাড়ি পার্কিংয়ে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত জায়গা পাইনি। বাধ্য হয়ে মূল সড়ক বাদ দিয়ে একটা গলিতে পার্কিং করেছিলাম। এ কারণে জরিমানা গুনতে হলো। অথচ নগর ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি করে পার্কিং থাকা আবশ্যক। ঢাকায় পার্কিং অব্যবস্থাপনার এমন চিত্র শুধু গুলশান-মহাখালীতে নয়, পুরো নগরজুড়েই চলছে। যে যেখানে পারছে গাড়ি পার্কিং করছে। ইদানীং ফুটপাতের ওপরও পার্কিং করছে
রাজধানীর ঢাকার আফতাবনগরের বাসিন্দা আলী আহসান। পেশায় একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টায় ব্যাংকের একটা কাজে গুলশানে যান। তাকে গুলশান-১ এ নির্দিষ্ট ব্যাংকের সামনে নামিয়ে পার্কিং খুঁজতে থাকেন প্রাইভেটকারের চালক আফজাল। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও কোথায়ও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত পার্কিং না পেয়ে গাড়িটি পার্কিং করেন ২৪ নম্বর রোডের একপাশে।
গাড়ি থেকে নেমে পাশেই ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন আফজাল। এরই মধ্যে হঠাৎ গাড়ির সামনে হাজির পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মরত সদস্যরা। তারা গাড়িটিতে রেকার লাগিয়ে দেন। পরে ১২শ টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়িটি ছাড়াতে হয় তাকে।
আক্ষেপ করে আফজাল জাগো নিউজকে বলেন, গুলশানের কোথায়ও গাড়ি পার্কিংয়ে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত জায়গা পাইনি। বাধ্য হয়ে মূল সড়ক বাদ দিয়ে একটা গলিতে পার্কিং করেছিলাম। এ কারণে জরিমানা গুনতে হলো। অথচ নগর ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি করে পার্কিং থাকা আবশ্যক।
ঢাকায় পার্কিং অব্যবস্থাপনার এমন চিত্র শুধু গুলশান-মহাখালীতে নয়, পুরো নগরজুড়েই চলছে। যে যেখানে পারছে গাড়ি পার্কিং করছে। ইদানীং ফুটপাতের ওপরও পার্কিং করছে প্রাইভেটকার। কোথাও পুলিশ গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, আবার কোথাও কোনো দৃষ্টি নেই। ফলে ক্রমাগতই বাড়ছে যত্রতত্র পার্কিং। নগরের সড়কে পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়ার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এ বিষয় সংস্থাগুলোর তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।
শুধু প্রাইভেটকার নয়, অবৈধ পার্কিংয়ে পিছিয়ে নেই বাস বা অন্য যানবাহনও। রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী একসঙ্গে ৩৫০টির মতো বাস রাখা যায়। অথচ টার্মিনালটির সামনের সড়কে প্রতিদিন শত শত বাস সব সময় পার্কিং করে রাখতে দেখা যায়। এসব বাসের কারণে দিনের ২৪ ঘণ্টাই ওই সড়কে যানজট লেগে থাকে। এমনকি সড়কের দুপাশের গলি সড়কগুলো থেকে অন্য যানবাহনগুলোও ঠিকমতো মূল সড়কে উঠতে পারে না।
অধিকাংশ সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এতে একদিকে সরু হচ্ছে সড়ক, অন্যদিকে যানজটে কমছে যানবাহনের গতি
বিশেষত, অবৈধভাবে সারি সারি বাস পার্কিং করে রাখায় মহাখালীর আইসিডিডিআরবি বা কলেরা হাসপাতালের ভেতর অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ ও বের হওয়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। চোখের সামনে নিত্যদিন এসব দেখেও ট্রাফিক পুলিশ এ বাসগুলোর বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা বা যথাযথ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অভাব ও পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকাই এ সমস্যার মূল কারণ। তাদের মতে, রাজধানীতে যেসব বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস রাখা হয়নি। ফলে গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও পার্কিং সুবিধা সে হারে বাড়েনি। ভবন নির্মাণের সময় পার্কিং নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসতো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেকক্ষেত্রে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আরও তীব্র হচ্ছে পার্কিং সংকট।
আরও পড়ুন
রাস্তায় অবৈধ পার্কিং করা গাড়ি পেলে দেওয়া হচ্ছে ভিডিও মামলা
ঢাকায় প্রতিদিন চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি-মোটরসাইকেল
ঢাকার সাইকেল লেনে গাড়ি পার্কিং
সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। জমির স্বল্পতা এবং বাজেট সংকটের কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে। তারা নিজেরাও এ সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন।
মহাখালী বাস টার্মিনালের পার্কিং ঠেকেছে আইসিডিডিআরবি পর্যন্ত
যা দেখা যায় সরেজমিনে
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার অভাবে চালকেরা যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করছেন। বিশেষত গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও মতিঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অফিস সময়ের শুরু ও শেষে এসব এলাকায় যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়।
এসব এলাকার অধিকাংশ সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এতে একদিকে সরু হচ্ছে সড়ক, অন্যদিকে যানজটে কমছে যানবাহনের গতি।
ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে সিটি সেন্টারে প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এছাড়া পাশে দিলকুশা ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিম পাশে আরও পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আরও কয়েক হাজার গাড়ি সড়ক, ফুটপাতে যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলো দিনের বেশিরভাগ সময় কার্যত অচল হয়ে থাকে।
সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে না। এতে জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার মধ্যে অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশান, বাড়িধারা, বনানী, নিকেতন। এ এলাকাগুলোতে সিটি করপোরেশনের তেমন পার্কিং নেই। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিং করা হয়। এর বাইরে অন্য এলাকা থেকে কেউ ওই চারটি এলাকায় গেলে তাদের গাড়ি সড়কেই পার্কিং করতে হয়। বিশেষ করে আবাসিক ভবনগুলোর ফটকে লেখা থাকে ‘অতিথিদের গাড়ি বাইরে পার্কিং করুন’। কিন্তু বাইরে কোথায় পার্কিং করা হবে তার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে সড়কেই পার্কিং করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে না। এতে জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বনানী ১৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা শামসুদ্দিন বলেন, ‘অনেক সময় দেখি পুরো একটা লেন দখল করে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে বাকি লেনে সব গাড়ি গাদাগাদি করে চলে, এতে দিনভর জ্যাম লেগেই থাকে।’
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জরিমানার ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও তা সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে।’
ঢাকা দক্ষিণের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডি। এ এলাকার সড়কগুলোতেও যত্রতত্র পার্কিং গড়ে উঠেছে। বিশেষত মিরপুর রোড সংলগ্ন অলিগলি সড়কগুলো দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে।
ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডের বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, ‘গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে নগরে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ও যানজট কমবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে পারলে পার্কিং সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। শুধু আইন করে বা জরিমানা করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।’
বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে ট্রাফিক আইন। যা অমান্য করলে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে। ।
১৯৮৩ সালের ‘মোটরযান আইন’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিসমূহ হলো—১) নিষিদ্ধ হর্ন/হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ১০০ টাকা জরিমানা (ধারাঃ ১৩৯); ২) আদেশ অমান্য বাধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে ৪০০ টাকা জরিমানা {ধারা ১৪০(১)}; ৩) ওয়ানওয়ে সড়কে বিপরীত দিকে গাড়ি চালালে ২০০ টাকা জরিমানা {ধারা ১৪০(২)}; ৪) অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে ৩০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ৫০০ টাকা জরিমানা (ধারাঃ ১৪২); ৫) দুর্ঘটনা সংক্রান্ত যেসব অপরাধে থানায় ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই, সেসব অপরাধে ৫০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ১০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৪৬); ৬) নিরাপত্তা বিহীন অবস্থায় গাড়ি চালালে ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৪৯); ৭) কালো বা অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়া মোটরযান ব্যবহারে ২০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫০)।
৮) মোটরযান আইনের সাথে সঙ্গতিবিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রয় বা ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তন সাধনে ২০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫১); ৯) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিট ব্যতীত মোটরযান ব্যবহারে ১৫০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ২৫০০ জরিমানা (ধারা ১৫২); ১০) অনুমোদনবিহীন এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োগ করলে ৫০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ১০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৩)।
১১) অতিরিক্ত মাল বা অনুমোদিত ওজন অতিক্রমপূর্বক গাড়ি চালালে ১০০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ২০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৪); ১২) বিমা ব্যতীত গাড়ি চালানো- ৭৫০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৫); ১৩) অনুমতি ব্যতীত গাড়ি চালানো- ৭৫০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৬); ১৪) প্রকাশ্য সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ৫০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৭); ১৫) গাড়ির ব্রেক কিংবা কোনো যন্ত্র অথবা গাড়ির বডি কিংবা স্পিড গভর্নর সিল বা ট্যাক্সি মিটারের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করা- ৫০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৫৮); ১৬) যেসব অপরাধের জন্য মোটরযান আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই, সেসব ক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ৪০০ টাকা জরিমানা (ধারা ১৩৭)।
মহাখালী বাস টার্মিনালের পার্কিং ঠেকেছে আইসিডিডিআরবি পর্যন্ত
জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিএসসিসি নির্ধারিত প্রায় ৩০টির মতো পার্কিং রয়েছে। এ অধিক্ষেত্র আরও বাড়ানোর কাজ করছে করপোরেশন। এখন সিটি করপোরেশন নগরবাসীর জন্য যে পরিকল্পনাই নেয়, সেখানে পার্কিং সংযুক্ত রাখে। যেন সড়কের ওপর যানবাহন পার্কিং করতে না পারে। সড়কে পার্কিং করলে যানজটে নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করলে যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেয়। অনেক সময় সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে।’
টার্মিনালে অতিরিক্ত বাস অনুমোদন, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা-যানজট
রাজধানীর অন্যতম পরিবহন কেন্দ্র মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার সংযোগ স্থাপন করছে এ টার্মিনাল। তবে দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি ঘিরে অব্যবস্থাপনা, যানজট ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, টার্মিনালে ৩৫০টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে প্রায় চার হাজার বাস চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
পুলিশের সদস্যরা অবৈধ পার্কিং করলে ব্যবস্থা
যে কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিবছর যানজট
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশপথ থেকে শুরু করে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত বাসের সারি লেগেই থাকে। নির্ধারিত জায়গার অভাবে অনেক বাস সড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে, যা আশপাশের যান চলাচলে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব পড়ছে মহাখালী, বনানী, গুলশান ও তেজগাঁও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও। সেসব সড়কেও প্রায় সারাদিন যানজট লেগে থাকছে।
টার্মিনালের ভেতরে জায়গা পাই না। তাই রাস্তায় পার্কিং করেছি। এক এক করে টার্মিনাল থেকে বাস বের হলে পাকিংয়ে থাকা বাসগুলো ভেতরে ঢুকবে
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, টার্মিনালটি মূলত ৩৫০টি বাস রাখার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসের সংখ্যা বাড়লেও টার্মিনালের পরিধি বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমনভাবে হয়নি। বরং বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাসের অনুমোদন দেওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
একাধিক বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট পার্কিং স্পেস না থাকায় অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে জ্বালানি খরচও।
ঢাকার শাহীনবাগের বাসিন্দা আনিস খান। তিনি বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে চার লেন। এর মধ্যে তিনটি লেন বাস দখল করে রাখে। ফলে বনানী থেকে মহাখালী পর্যন্ত সড়কে যানজট লেগেই থাকে। টার্মিনালের সামনে বাস আড়াআড়ি করে রাখা হয়। এমনকি কলেরা হাসপাতালে রোগী গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারে না ঠিকঠাক।
তার ভাষ্য, মহাখালী বাস টার্মিনালে পরিকল্পনাহীনভাবে বাসের অনুমোদন দেওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ। একটি নির্দিষ্ট টার্মিনালের ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে অতিরিক্ত বাস অনুমোদন দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবেই। অথচ ঢাকার মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সামান্য অসঙ্গতিও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মহাখালী বাস টার্মিনালের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়াবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সোনার বাংলা পরিবহনের চালক হান্নান হাসান বলেন, টার্মিনালের ভেতরে জায়গা পাই না। তাই রাস্তায় পার্কিং করেছি। এক এক করে টার্মিনাল থেকে বাস বের হলে পাকিংয়ে থাকা বাসগুলো ভেতরে ঢুকবে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘টার্মিনালে বাস রাখা বা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে ৩৫০টির মতো। কিন্তু টার্মিনাল থেকে এক হাজার ২০০ বাসের রুট পারমিট দিয়েছে বিআরটিএ। এছাড়া ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রুট পারমিট পাওয়া আরও অসংখ্য বাস নিয়মিত মহাখালী টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহন করে। এতো সংখ্যক বাসতো টার্মিনালে জায়গা দেওয়া যায় না। ফলে অনেক গাড়ি সড়কের ওপর পার্কিং করা হয়।’
‘ওই পার্কিংয়ে টার্মিনালের সামনের সড়কে যানজট তেমন হয় না। তবে সম্প্রতি টার্মিনালের আশপাশের তেলের পাম্পগুলোতে সব ধরনের যানবাহের চাপ রয়েছে। ফলে সড়কটিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে’—যোগ করেন তিনি।
এমএমএ/এমকেআর/এএসএ
What's Your Reaction?