হজযাত্রীকে বিদায় জানানোর সময় যে দোয়া পড়বেন

কেউ দূরের সফরে বের হওয়ার সময় বিদায় জানানোর সময় তার জন্য দোয়া করা সুন্নত। হজের সফরে যারা বের হবেন, তারা তো আরও বেশি দোয়ার হকদার। তাদের কাছেও দোয়া চাইতে হবে, যেন তারা পবিত্র স্থানগুলোতে, দোয়া কবুলের জায়গাগুলোতে আমাদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও হজ সুসম্পন্ন করতে পারার তওফিকের জন্যও দোয়া করতে হবে। হজযাত্রীদের বিদায় জানানোর সময় নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত তিনটি দোয়া পড়ুন, নবীজি (সা.) দূরের যে কোনো সফরের জন্য বিদায়া জানানোর সময়ই দোয়াগুলো পড়তেন। ১. হজযাত্রীকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করার জন্য পড়ুন: أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ উচ্চারণ: আসতাওদিউ-ল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া আখিরা আমলিকা। অর্থ: আপনার দীন আমানত আমানাত ও আপনার শেষ আমল আল্লাহর কাছে সমর্পণ করলাম। (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০) ২. হজযাত্রীর সফরের কষ্ট লাঘব হওয়ার জন্য পড়ুন: اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইতওয়ি লাহুল আরযা ওয়া হাওয়িন আলাইহিস সাফারা। অর্থ: হে আল্লাহ! তার পথের ব্যবধান কমিয়ে দিন এবং তার জন্য সফর সহজতর করে দিন। (সুনানে ত

হজযাত্রীকে বিদায় জানানোর সময় যে দোয়া পড়বেন

কেউ দূরের সফরে বের হওয়ার সময় বিদায় জানানোর সময় তার জন্য দোয়া করা সুন্নত। হজের সফরে যারা বের হবেন, তারা তো আরও বেশি দোয়ার হকদার। তাদের কাছেও দোয়া চাইতে হবে, যেন তারা পবিত্র স্থানগুলোতে, দোয়া কবুলের জায়গাগুলোতে আমাদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও হজ সুসম্পন্ন করতে পারার তওফিকের জন্যও দোয়া করতে হবে।

হজযাত্রীদের বিদায় জানানোর সময় নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত তিনটি দোয়া পড়ুন, নবীজি (সা.) দূরের যে কোনো সফরের জন্য বিদায়া জানানোর সময়ই দোয়াগুলো পড়তেন।

১. হজযাত্রীকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করার জন্য পড়ুন:

أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ

উচ্চারণ: আসতাওদিউ-ল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া আখিরা আমলিকা।

অর্থ: আপনার দীন আমানত আমানাত ও আপনার শেষ আমল আল্লাহর কাছে সমর্পণ করলাম। (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০)

২. হজযাত্রীর সফরের কষ্ট লাঘব হওয়ার জন্য পড়ুন:

اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইতওয়ি লাহুল আরযা ওয়া হাওয়িন আলাইহিস সাফারা।

অর্থ: হে আল্লাহ! তার পথের ব্যবধান কমিয়ে দিন এবং তার জন্য সফর সহজতর করে দিন। (সুনানে তিরিমিজি: ৩৪৪৫)

৩. হজযাত্রী যেন হজের সব আমল ইখলাসের সঙ্গে উত্তমরূপে পালন করতে পারেন সেজন্য পড়ুন:

زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى‏ وَغَفَرَ ذَنْبَكَ وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ

উচ্চারণ: যাওওয়াদাকা-ল্লাহুত তাকওয়া ওয়া গাফারা যামবাকা ওয়া য়াসসারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুনতা।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন। আপনার গুনাহ ক্ষমা করুন। আপনার জন্য কল্যাণকে সহজতর করুন, আপনি যেখানেই থাকুন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪৫)

হজযাত্রীর জন্য নিজের ভাষায় যে দোয়াগুলো করবেন

ওপরের দোয়াগুলোর পাশাপাশি হজযাত্রীর জন্য নিজের ভাষায় মনের গভীর থেকে এই দোয়াগুলোও করুন:

১. হজ কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করুন

হে আল্লাহ! এই বান্দাকে আপনার ঘরের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিন। তার হজকে হজে মাবরুর বানান যে হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।

২. নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়া করুন

হে আল্লাহ! এই হজযাত্রীকে সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে ও আকাশপথে আপনি তার হেফাজত করুন।

৩. গুনাহ মাফ ও নতুন জীবনের জন্য দোয়া করুন

হে আল্লাহ! এই হজযাত্রী যেন হজ শেষে সদ্যোজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফেরেন। তার জীবনের সব গুনাহ আপনি ক্ষমা করুন এবং তাকে বাকি জীবন আপনার আনুগত্যে কাটানোর তওফিক দিন।

হজযাত্রীর কাছে দোয়ার আবেদন করুন

হজযাত্রীর জন্য দোয়া করার পাশাপাশি তার কাছে দোয়া চাইতে ভুলবেন না। তিনি যেহেতু ইবাদতের সফরে থাকবেন, তাই তিনি আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী থাকবেন। এ ছাড়া মক্কা মদিনার দোয়া কবুলের জায়গাগুলোতেও তিনি দোয়া করার সুযোগ পাবেন।

হজ/ওমরাহযাত্রীকে বিদায় জানানোর সময় তার কাছে দোয়া চাওয়া নবীজির (সা.) সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ওমরকে (রা.) ওমরাহর সফরে বিদায় দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ভাই! দোয়া করার সময় আমাদের ভুলে যেও না। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৮)

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow