হত্যার হুমকির পর ডোবায় মিলল মরদেহ, সন্দেহভাজনদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের খাককান্দা গ্রামের অটোচালক সবুজ মিয়া হত্যার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ধরা না পড়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকেলে অটোরিকশা ভাড়ার টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সবুজ মিয়ার সঙ্গে পাশের রুপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের মুরশিদ মিয়ার ছেলে শাহাবুদ্দিন এবং অদু মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়াসহ কয়েকজনের ঝগড়া ও মারামারি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় সবুজ মিয়াকে হত্যার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর রাতেও সবুজ মিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বিতীয় দফায় ঝগড়া হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে আগরবাতি কেনার কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর, ২৩ মে শনিবার সকাল ৭টার দিকে খাককান্দা গ্রামের পূর্বপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি সবুজ মিয়

হত্যার হুমকির পর ডোবায় মিলল মরদেহ, সন্দেহভাজনদের খুঁজছে পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের খাককান্দা গ্রামের অটোচালক সবুজ মিয়া হত্যার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ধরা না পড়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকেলে অটোরিকশা ভাড়ার টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সবুজ মিয়ার সঙ্গে পাশের রুপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের মুরশিদ মিয়ার ছেলে শাহাবুদ্দিন এবং অদু মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়াসহ কয়েকজনের ঝগড়া ও মারামারি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় সবুজ মিয়াকে হত্যার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর রাতেও সবুজ মিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বিতীয় দফায় ঝগড়া হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে আগরবাতি কেনার কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর, ২৩ মে শনিবার সকাল ৭টার দিকে খাককান্দা গ্রামের পূর্বপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি সবুজ মিয়ার বলে শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের ছেলে তানভীর ওরফে মহিন মিয়া বলেন, আমার আব্বার সঙ্গে শাহাবুদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের ঝগড়া হয়েছিল, মারামারিও হয়েছে। শাহাবুদ্দিন অনেক খারাপ লোক। রাতেও আব্বার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ঝগড়া করেছে। তারা যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকতো, তাহলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন? আমরা গরিব মানুষ। প্রশাসনের কাছে আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই শাহাবুদ্দিন, জিহাদ মিয়াসহ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, তদন্ত চলমান আছে। আশা করি শিগ্‌গিরই রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে। সন্দেহজনক ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হয়ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াশ বসাক বলেন, ঘটনাস্থলে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় পাবে না। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আশা করি খুব শিগ্‌গিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow