হাতের কাজ না কি মেশিনে এমব্রয়ডারি করা পোশাক যেভাবে বুঝবেন

চিকনকারি, জরি, জারদৌসি, কাঁথাস্টিচ কিংবা আড়ি কাজের মতো হাতে করা এমব্রয়ডারির পোশাকের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে অনেকেই এমন পোশাক পরতে পছন্দ করেন। কারণ এসব পোশাকে থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কারিগরের দক্ষতা এবং আলাদা সৌন্দর্য। তবে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারিও এতটাই নিখুঁত হচ্ছে যে, প্রথম দেখায় হাতে করা কাজের সঙ্গে পার্থক্য করা বেশ কঠিন। ফলে অনেকেই বেশি দাম দিয়ে হাতের কাজে পোশাক কিনে দেখলেন মেশিনে তৈরি পোশাক কিনে ফেলেছেন। তবে কিছু বিষয় খেয়াল করলেই আসল হাতের কাজ করা পোশাক সহজেই চিনে নেওয়া সম্ভব- সব সেলাই কখনো একরকম হয় না হাতে করা কাজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। একজন কারিগর যখন নিজের হাতে সূচিকর্ম করেন, তখন প্রতিটি ফোঁড় বা সেলাই একেবারে একই রকম হয় না। কোথাও সেলাই একটু ছোট, কোথাও একটু বড় বা দূরত্বে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। এই ছোট ছোট অসমতাই আসলে হাতে করা কাজের আসল পরিচয়। অন্যদিকে, মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারির প্রতিটি সেলাই একই মাপের এবং একই দূরত্বে থাকে। তাই খুব নিখুঁত ও একরকম দেখালে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। 

হাতের কাজ না কি মেশিনে এমব্রয়ডারি করা পোশাক যেভাবে বুঝবেন

চিকনকারি, জরি, জারদৌসি, কাঁথাস্টিচ কিংবা আড়ি কাজের মতো হাতে করা এমব্রয়ডারির পোশাকের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে অনেকেই এমন পোশাক পরতে পছন্দ করেন।

কারণ এসব পোশাকে থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কারিগরের দক্ষতা এবং আলাদা সৌন্দর্য। তবে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারিও এতটাই নিখুঁত হচ্ছে যে, প্রথম দেখায় হাতে করা কাজের সঙ্গে পার্থক্য করা বেশ কঠিন। ফলে অনেকেই বেশি দাম দিয়ে হাতের কাজে পোশাক কিনে দেখলেন মেশিনে তৈরি পোশাক কিনে ফেলেছেন।

তবে কিছু বিষয় খেয়াল করলেই আসল হাতের কাজ করা পোশাক সহজেই চিনে নেওয়া সম্ভব-

jago

সব সেলাই কখনো একরকম হয় না

হাতে করা কাজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। একজন কারিগর যখন নিজের হাতে সূচিকর্ম করেন, তখন প্রতিটি ফোঁড় বা সেলাই একেবারে একই রকম হয় না। কোথাও সেলাই একটু ছোট, কোথাও একটু বড় বা দূরত্বে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।

এই ছোট ছোট অসমতাই আসলে হাতে করা কাজের আসল পরিচয়। অন্যদিকে, মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারির প্রতিটি সেলাই একই মাপের এবং একই দূরত্বে থাকে। তাই খুব নিখুঁত ও একরকম দেখালে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। 

jago

সেলাইয়ের দিকে ভালো করে নজর দিন

কোনো এমব্রয়ডারির পোশাক কেনার আগে সেলাইগুলো কাছ থেকে দেখুন। হাতে করা কাজের প্রতিটি সেলাইয়ে মানুষের স্পর্শের ছাপ থাকে। তাই সেখানে স্বাভাবিক বৈচিত্র্য দেখা যায়।

অন্যদিকে, মেশিনের সেলাই সাধারণত একদম সমান, টানটান এবং একই ধরনের হয়। তাই সেলাই যত বেশি যান্ত্রিকভাবে নিখুঁত দেখাবে, সেটি মেশিনে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।

পোশাকের উল্টা দিকও দেখে নিন

অনেকেই শুধু পোশাকের সামনের অংশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাপড়ের উল্টা পাশ দেখলে আসল হাতের কাজের পোশাকের পার্থক্য বোঝা যায়। হাতে করা কাজের ক্ষেত্রে কাপড়ের পেছনে ছোট গিঁট, সুতা জোড়া লাগানোর চিহ্ন কিংবা সামান্য এলোমেলো অংশ থাকে। কারণ প্রতিটি ফোঁড় আলাদা করে হাতে তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে, মেশিনে তৈরি এমব্রয়ডারির উল্টা অংশও সাধারণত খুব পরিষ্কার, সমান এবং গোছানো থাকে। তাই পোশাক কেনার সময় সম্ভব হলে উল্টা দিকটিও একবার দেখে নিন।

jago

নকশার আকার লক্ষ্য করুন

জারদৌসি, আড়ি কাজ, চিকনকারি বা ফুলকারির মতো ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মে সুতা, পুঁতি, সিকুইন বা ধাতব সুতা ব্যবহার করা হয়। ফলে নকশায় একটি স্বাভাবিক উঁচু-নিচু ভাব তৈরি হয় এবং পুরো কাজটি অনেক বেশি জীবন্ত দেখায়। হাতে করা এমব্রয়ডারিতে আলো পড়লে নকশার গভীরতা ও আকার স্পষ্ট বোঝা যায়। তুলনায় মেশিনে তৈরি নকশা অনেক সময় বেশি সমতল ও একঘেয়ে মনে হয়।

কেন হাতে করা পোশাকের মূল্য বেশি?

আসল হাতের কাজের পোশাক শুধু একটি পোশাক নয়, এটি একজন কারিগরের শিল্পকর্ম। প্রতিটি সেলাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার ধৈর্য, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম। তাই হাতে তৈরি পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

পোশাক কেনার সময় শুধু নকশা বা রং নয়, সেলাই, টেক্সচার, কাপড়ের উল্টা দিক এবং কাজের সূক্ষ্মতা খেয়াল করুন। সামান্য সচেতন থাকলেই সহজে বুঝতে পারবেন কোনটি সত্যিকারের হাতে করা এমব্রয়ডারি আর কোনটি মেশিনে তৈরি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow