হাতে টাকা নেই-ব্যাংকের চেক বাউন্স, দুশ্চিন্তায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ী

রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার প্রবীণ চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মো. বাবুল। তিন দশকেরও বেশি সময় কোরবানির ঈদসহ সারা বছর চামড়া কেনাবেচা করেন। এবারও ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া কিনবেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পোস্তার এক গোডাউনে বসে ছেলে ও কর্মচারীদের নিয়ে কোরবানির দিন কীভাবে চামড়া কিনবেন তা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন।  জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাজী মো. বাবুল চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হাতে নগদ টাকা নেই। চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত টাকা পাইনি। এ সময় একজন ট্যানারি মালিকের দেওয়া ঢাকা ব্যাংকের ৬ লাখ ১১ হাজার টাকার একটি চেক দেখিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে চেক ডিজঅনার হয়েছে। ২০-২৫ লাখ টাকার চামড়া কেনার টার্গেট নিয়েছিলাম, কিন্তু এখন ৫-৬ লাখ টাকার চামড়া কিনতে পারবো কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও চামড়ার আড়তগুলোতে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। আগের তুলনায় আড়তের সংখ্যাও কমে গেছে। যে কয়েকটি রয়েছে সেগুলো ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হচ্ছে।   আরও পড়ুনচট্টগ্রামে এবারও কি পচব

হাতে টাকা নেই-ব্যাংকের চেক বাউন্স, দুশ্চিন্তায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ী

রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার প্রবীণ চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মো. বাবুল। তিন দশকেরও বেশি সময় কোরবানির ঈদসহ সারা বছর চামড়া কেনাবেচা করেন। এবারও ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া কিনবেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পোস্তার এক গোডাউনে বসে ছেলে ও কর্মচারীদের নিয়ে কোরবানির দিন কীভাবে চামড়া কিনবেন তা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন। 

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাজী মো. বাবুল চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হাতে নগদ টাকা নেই। চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত টাকা পাইনি।

এ সময় একজন ট্যানারি মালিকের দেওয়া ঢাকা ব্যাংকের ৬ লাখ ১১ হাজার টাকার একটি চেক দেখিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে চেক ডিজঅনার হয়েছে। ২০-২৫ লাখ টাকার চামড়া কেনার টার্গেট নিয়েছিলাম, কিন্তু এখন ৫-৬ লাখ টাকার চামড়া কিনতে পারবো কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও চামড়ার আড়তগুলোতে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। আগের তুলনায় আড়তের সংখ্যাও কমে গেছে। যে কয়েকটি রয়েছে সেগুলো ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হচ্ছে।  

আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে এবারও কি পচবে কোরবানির পশুর চামড়া? 
মাঝারি গরুর চড়া দাম, হতাশ ক্রেতারা 

একসময় পোস্তার চামড়া ব্যবসা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও বর্তমান মন্দা ও বৈষম্যের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে হাজী মো. বাবুল বলেন, গত ১৫ বছর চামড়া ব্যবসায়ীরা মোটেও ভালো নেই। এক সময় চামড়া, পাট ও চা পাতার ব্যবসা অনেক ভালো ছিল। এখন এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে চামড়ার কোনো দামই নেই।  

তিনি বলেন, দুই দশক আগেও যে চামড়া আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যেত, সেই একই চামড়ায় এখন ২০০-৩০০টাকাও বিক্রি হয় না।

agonews24.com

কম দামে চামড়া পাওয়া গেলে তো আপনাদের লাভ হওয়ার কথা- এমন প্রশ্নের জবাবে এ ব্যবসায়ী বলেন, চীনের বায়াররা আগে একটি চামড়ার দাম এক ডলার ৩৫ সেন্ট দিলেও বর্তমানে এটি শুধু ৩৫-৩৬ সেন্ট দিচ্ছে। তবে কী কারণে দাম কমে গেল সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত বলতে পারেননি।

শুধু বাবুল আলী একা নন, একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বড় বড় ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট এবং লাখ লাখ টাকার বকেয়া পাওনা আদায় না হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় আড়তদাররা জানান, বছরের পর বছর ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনায় অনেক ব্যবসায়ী এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। তারা বলেন, আমরা রক্ত পানি করা টাকা দিয়ে চামড়া কিনে ট্যানারিতে পাঠাই। কিন্তু মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও আমাদের পাওনা টাকা দেওয়া হয় না।

এমইউ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow