হালদায় আগাম ডিমের আভাস, জো’র অপেক্ষায় নদীপাড়

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র ও মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদী-এ কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুমের আগাম ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সংগ্রহকারীদের জালে ধরা পড়েছে নমুনা ডিম, যা জেলেদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এর আগেই বুধবার রাত থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ দ্রুত তৈরি হয়েছে। রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, বৃষ্টিপাত আগে হওয়ায় পানি ও পরিবেশ দ্রুত অনুকূলে এসেছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে সামনের পূর্ণিমার জো-তেই মা মাছ ব্যাপকহারে ডিম ছাড়তে পারে। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য রাউজান অংশের মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে হাটহাজারী অংশেও সংগ্রহকারীরা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছেন। ডিম সংগ্রহকারী ফজল আহমেদ বলেন, সকাল থেকে আমরা প্রতি জন ২০-২৫টি করে নমুনা ডিম পেয়েছি। পরিবেশ এমন থাকলে যেকোনো সময় মূল ডিম ছাড়তে পারে। তবে অনেকেই এ

হালদায় আগাম ডিমের আভাস, জো’র অপেক্ষায় নদীপাড়
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র ও মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদী-এ কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুমের আগাম ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সংগ্রহকারীদের জালে ধরা পড়েছে নমুনা ডিম, যা জেলেদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এর আগেই বুধবার রাত থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ দ্রুত তৈরি হয়েছে। রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, বৃষ্টিপাত আগে হওয়ায় পানি ও পরিবেশ দ্রুত অনুকূলে এসেছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে সামনের পূর্ণিমার জো-তেই মা মাছ ব্যাপকহারে ডিম ছাড়তে পারে। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য রাউজান অংশের মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে হাটহাজারী অংশেও সংগ্রহকারীরা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছেন। ডিম সংগ্রহকারী ফজল আহমেদ বলেন, সকাল থেকে আমরা প্রতি জন ২০-২৫টি করে নমুনা ডিম পেয়েছি। পরিবেশ এমন থাকলে যেকোনো সময় মূল ডিম ছাড়তে পারে। তবে অনেকেই এখনো পুরো প্রস্তুত হতে পারেননি—এটাই দুশ্চিন্তা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাউজানের সরকারি হ্যাচারি ও শতাধিক মাটির কুয়ায় রেণু ফোটানোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।  পশ্চিম গুজরার সংগ্রহকারী রোশাঙ্গীর আলম বলেন, জোয়ারে আজিমের ঘাট এলাকায় এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত কয়েক দফায় ডিম সংগ্রহ করেছি। পূর্ণ জো-তে আরও বেশি ডিম পাওয়ার আশা করছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে নমুনা ডিম পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে—সামনের জো-তেই পূর্ণাঙ্গ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। উল্লেখ্য, সাধারণত চৈত্র থেকে আষাঢ় (এপ্রিল-জুন) মাসে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হালদায় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে। তখন রাউজান ও হাটহাজারীর কয়েকশ সংগ্রহকারী বিশেষ নৌকা ও জাল ব্যবহার করে এই ডিম সংগ্রহ করেন, যা পরবর্তীতে হ্যাচারি ও কুয়ায় রেণুতে রূপান্তর করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow