হাসপাতালের বেডে তেলাপোকার উৎপাত, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগী

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিছানায় তেলাপোকা-ছারপোকার  উপদ্রবে বেডে থাকা দায় হয়ে পড়েছে রোগীদের। এছাড়াও প্রতিদিন রোগীদের খাবার নষ্ট হচ্ছে। এসব পতঙ্গের যন্ত্রণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।  অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ডের একাধিক বেডে তেলাপোকা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় উপদ্রব বেড়ে যায়। যে কোনো খাবার ওয়ার্ডে এনে রাখলে তেলাপোকা নষ্ট করে দিচ্ছে। যার ফলে সংক্রমণ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো নতুন ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা। ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন সঞ্জয় কান্তি দাস কালবেলাকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই তেলাপোকার উৎপাত লক্ষ্য করছি। রাতে রোগীর শরীরের ওপর দিয়েও তেলাপোকা চলাফেরা করে। এইসব কারণে রোগী সারারাত নির্ঘুম কাটায় এবং মানসিক অস্থিরতার মধ্যে থাকে। এমন পরিবেশে সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে। সুজন মিয়া নামের রোগীর আরেক স্বজন কালবেলাকে বলেন, এটা কোনোভাবেই একটি হাসপাতালের চিত্র হতে পারে না। যেখানে মানুষ সুস্থতার আশা

হাসপাতালের বেডে তেলাপোকার উৎপাত, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগী

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিছানায় তেলাপোকা-ছারপোকার  উপদ্রবে বেডে থাকা দায় হয়ে পড়েছে রোগীদের। এছাড়াও প্রতিদিন রোগীদের খাবার নষ্ট হচ্ছে। এসব পতঙ্গের যন্ত্রণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। 

অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ডের একাধিক বেডে তেলাপোকা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় উপদ্রব বেড়ে যায়। যে কোনো খাবার ওয়ার্ডে এনে রাখলে তেলাপোকা নষ্ট করে দিচ্ছে। যার ফলে সংক্রমণ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো নতুন ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন সঞ্জয় কান্তি দাস কালবেলাকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই তেলাপোকার উৎপাত লক্ষ্য করছি। রাতে রোগীর শরীরের ওপর দিয়েও তেলাপোকা চলাফেরা করে। এইসব কারণে রোগী সারারাত নির্ঘুম কাটায় এবং মানসিক অস্থিরতার মধ্যে থাকে। এমন পরিবেশে সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে।

সুজন মিয়া নামের রোগীর আরেক স্বজন কালবেলাকে বলেন, এটা কোনোভাবেই একটি হাসপাতালের চিত্র হতে পারে না। যেখানে মানুষ সুস্থতার আশায় আসে, সেখানে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া যায় না।

তুহিন হাসান নামে অন্য এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে কালবেলাকে জানান, হাসপাতালে মানুষ স্বস্তির জন্য আসে। সরকারি হাসপাতাল আমাদের শেষ ভরসা। এখানের পরিবেশ যদি এমন হয়, আমরা সাধারণ মানুষজন কোথায় যাব? কার কাছে বিচার দিব?  

ওয়ার্ডের পরিবেশ ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি বেডের আশপাশে ময়লা ও অপরিচ্ছন্নতার চিহ্ন রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। তবু বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও স্বজনরা।

এ বিষয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আমার এ বিষয়ে জানা নেই। আপনি ৩৭ নাম্বার ওয়ার্ড ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেন। 

এ সময় ‘আপনি জানেন কি-না’ এমন প্রশ্ন করায়, উত্তরে ‘আপনার মুখ থেকে প্রথম শুনলাম’ বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

স্বাস্থ্যসচেতন মহল বলছে, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে তেলাপোকা কিংবা ছারপোকার উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেকোনো পোকাই হাসপাতালের মতো জায়গাতে জন্মানো কাম্য নয়। হাসপাতালের পরিবেশ এমন হওয়াটা দুঃখজনক। তাই দ্রুত কীটনাশক প্রয়োগ, ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়মিত তদারকি এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ওসমানী হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে রোগীরা শঙ্কিত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের তথ‍্যে নাগরিক হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন কালবেলাকে বলেন, ‘একজন রোগী হাসপাতালে যান চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু রোগীকে যদি উল্টো অসুস্থ করা হয় তখন তো রোগীকে সেবা দেওয়ার যোগ্যতা ওই হাসপাতালের থাকে না। আর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো বিশেষ করে টয়লেটগুলো এতো বেশি নোংরা যে, কেউ যেতে চায় না। আর বেডে ছারপোকার উৎপাত হলে তো থাকাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থা থাকলে রোগীরা সেবা নিতে এসে উল্টো আরও বেশি সংক্রমিত হবে। জরুরি ভিত্তিতে এসব বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow