হেলিকপ্টারে চড়ে মৌলভীবাজারে এলেন চীন দেশের কনে

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগরে ছুটে এসেছেন সাংহাইয়ের তরুণী ক্রিস হুই। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টারে করে তাকে নিয়ে আসেন প্রেমিক সুকান্ত সেন। হেলিকপ্টারে গ্রামের বাড়িতে কনের আগমন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক কৌতূহল। জানা গেছে, সুকান্ত সেন টিকরপাড়া গ্রামের সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে কনে ক্রিস হুই চীনের সাংহাই শহরের বাসিন্দা। আগামী ২১, ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি সুকান্তের গ্রামের বাড়িতে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বরের বাড়ি বর্ণিল আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিদেশি তরুণীর সঙ্গে গ্রামের ছেলের বিয়ে—এমন ঘটনা এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। তাই হবু বর-কনেকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। হেলিকপ্টারে কনের আগমন গ্রামবাসীর জন্য ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য সুকান্ত চীনে যান এবং সেখানে মাস্টা

হেলিকপ্টারে চড়ে মৌলভীবাজারে এলেন চীন দেশের কনে
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগরে ছুটে এসেছেন সাংহাইয়ের তরুণী ক্রিস হুই। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টারে করে তাকে নিয়ে আসেন প্রেমিক সুকান্ত সেন। হেলিকপ্টারে গ্রামের বাড়িতে কনের আগমন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক কৌতূহল। জানা গেছে, সুকান্ত সেন টিকরপাড়া গ্রামের সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে কনে ক্রিস হুই চীনের সাংহাই শহরের বাসিন্দা। আগামী ২১, ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি সুকান্তের গ্রামের বাড়িতে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বরের বাড়ি বর্ণিল আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিদেশি তরুণীর সঙ্গে গ্রামের ছেলের বিয়ে—এমন ঘটনা এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। তাই হবু বর-কনেকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। হেলিকপ্টারে কনের আগমন গ্রামবাসীর জন্য ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য সুকান্ত চীনে যান এবং সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় গড়ে ওঠে ভালোবাসায়। ২০২৩ সালে তারা যৌথভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে চীনে তাদের একটি নিজস্ব কোম্পানি রয়েছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে তাদের বিবাহের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশে আয়োজিত বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ক্রিস হুইয়ের মা-বাবা ও চাচাও এসেছেন। এতে দুই দেশের সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে। কনে ক্রিস হুই বলেন, ‘আজ আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। আমি বাংলাদেশে এসেছি আমার স্বামী সুকান্ত সেনের সঙ্গে। এখানে এসে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। সবার ভালোবাসায় মুগ্ধ।’ বর সুকান্ত সেন বলেন, ‘চীনে পড়াশোনা ও চাকরির সময় আমাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয় এবং আমরা ভবিষ্যৎ একসঙ্গে গড়ার সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশে বিয়েটা একটু ভিন্নভাবে আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। তাই ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে গ্রামে আসার পরিকল্পনা করি। এতে আমার স্ত্রী যেমন আনন্দিত হয়েছেন, তেমনি এলাকার মানুষও খুশি।’ প্রেমের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এখন রাজনগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভালোবাসা যে দূরত্ব মানে না—তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এই আন্তর্জাতিক ভালোবাসার গল্প।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow