১১ ট্রেনে ২৯টি বাড়তি কোচ সংযোজন

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঈদ যাত্রায় বাড়তি কোচ সংযোজন করে রেলওয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সড়কযানে ভোগান্তির আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে প্রধান প্রধান রুটগুলোতে সংযোজন হচ্ছে ২৯টি কোচ। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটের একাধিক ট্রেনের পরিবর্তিত রেক প্রতিস্থাপন ছাড়াও জনপ্রিয় তুর্না এক্সপ্রেস ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া নতুন কোচ। রমজানের ঈদকে সামনে রেখে রেলওয়ের দুই অঞ্চল পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে বিশেষ ট্রেন সার্ভিসও রয়েছে। এতে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রী সুবিধাসহ সকল প্রকার নিরাপত্তায় রেল প্রশাসন কঠোর মনিটরিং ও নজরদারিতে থাকবে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয় পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে। এসব রুটের ট্রেনগুলোতে রোজা শুরুর পর কয়েক দফায় মেরামত করা কোচ সংযোজনের মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন পূরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ¦লানী সংকটের কারণে সড়কযানে যাত্রী ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর প্রতিটিতে ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩টি পর্যন্ত বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে। আগা

১১ ট্রেনে ২৯টি বাড়তি কোচ সংযোজন

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঈদ যাত্রায় বাড়তি কোচ সংযোজন করে রেলওয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সড়কযানে ভোগান্তির আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে প্রধান প্রধান রুটগুলোতে সংযোজন হচ্ছে ২৯টি কোচ। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটের একাধিক ট্রেনের পরিবর্তিত রেক প্রতিস্থাপন ছাড়াও জনপ্রিয় তুর্না এক্সপ্রেস ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া নতুন কোচ।

রমজানের ঈদকে সামনে রেখে রেলওয়ের দুই অঞ্চল পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে বিশেষ ট্রেন সার্ভিসও রয়েছে। এতে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রী সুবিধাসহ সকল প্রকার নিরাপত্তায় রেল প্রশাসন কঠোর মনিটরিং ও নজরদারিতে থাকবে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয় পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে। এসব রুটের ট্রেনগুলোতে রোজা শুরুর পর কয়েক দফায় মেরামত করা কোচ সংযোজনের মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন পূরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ¦লানী সংকটের কারণে সড়কযানে যাত্রী ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর প্রতিটিতে ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩টি পর্যন্ত বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রা ও বাড়ি ফেরার ট্রেনগুলো যাত্রী প্রদান করবে। 

পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া নতুন মিটারগেজ কোচ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তুর্না নীশিতা এক্সপ্রেসের রেক সাজানো হচ্ছে। রেকটি ১৮/৩৬ কোচের সমন্বয়ে তৈরি করা হবে। পূর্বের তুর্না এক্সপ্রেসের রেকটি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে একই রুটের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে। এছাড়া মহানগর এক্সপ্রেসের রেকটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসে সংযোজন করবে রেলওয়ে। 

তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে। এছাড়াও একই রুটের তুর্না এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের বিজয় এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতো। পর্যটন নগরীর যাত্রী পরিবহন হলেও ট্রেনটিতে সর্বোচ্চ ভালোমানের আসন ছিল শোভন চেয়ার। অর্থাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ ও আসন না থাকায় যাত্রী ভোগান্তিও ছিল চরমে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসের কোচগুলো ঈদের সময়ে ওয়ার্কশপে কাজ সম্পন্ন করে ঈদ পরবর্তী যাত্রী পরিবহনে ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা পাচ্ছে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন।  

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে সারা দেশে জ্বালানি সংকটে দূরপাল্লার বাসের চলাচল সীমিত থাকার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে রেলপথে যাত্রী চাপ বাড়বে। সেজন্য বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনগুলোতে বাড়তি কোচ সংযোজনের মাধ্যমে যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবারও ট্রেনের উপরে যাত্রী উঠার বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ স্ট্যান্ডিং টিকিটধারী যাত্রী প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।  

রেলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলে প্রতিদিন ১১৯টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ৭০ থেকে ৭৫টির বেশি ইঞ্জিন সরবরাহ দিতে পারে না যান্ত্রিক বিভাগ। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৭২টির বেশি ইঞ্জিন দেওয়া হচ্ছে না। তবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে সর্বোচ্চ ৮৫টি ইঞ্জিন সরবরাহের জন্য কড়া বার্তা দিয়েছে পরিবহন বিভাগ। 

নাম প্রকাশ না করে পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন ৮৫ টি বা ৮৫টির বেশি ইঞ্জিন দেওয়া না হলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। আমরা ইতোমধ্যে যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু ঈদযাত্রার জন্য চাহিদামতো ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রেল প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সব প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। এবার নির্ধারিত কোচ ছাড়াও প্রায় সবগুলো ট্রেনেই বাড়তি কোচ এবং কয়েকটি রুটে স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসও রয়েছে যাত্রী সুবিধায়। পাশাপাশি নতুন আমদানি করা কোচ দিয়ে নতুন রেক তৈরি করে প্রতিস্থাপিত রেকগুলো একাধিক পুরোনো আন্তঃনগর ট্রেনে দেওয়া হচ্ছে। এতে আসন্ন ঈদের যাত্রায় যাত্রীরা আগের চেয়েও স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow