১৯ লাখ টাকা বরাদ্দের কালভার্টে কাজ বন্ধ ১ বছর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে নির্মাণাধীন একটি আর.সি.সি কালভার্ট এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪.২৬ মিটার দৈর্ঘ্যের ওই কালভার্ট নির্মাণে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য সড়কটি খনন করা হয়। এরপর রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায় পুরো কাজ। এখন পর্যন্ত বেস ঢালাইসহ মূল কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার নূর আলম কাজ শুরু করলেও মাঝপথে তা বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৬০) বলেন, এই রাস্তা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয়। আমরা কৃষক মানুষ। আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। ব্রিজ না থাকায় ধান ঘরে তুলতে পারছি না। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি। আ

১৯ লাখ টাকা বরাদ্দের কালভার্টে কাজ বন্ধ ১ বছর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে নির্মাণাধীন একটি আর.সি.সি কালভার্ট এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪.২৬ মিটার দৈর্ঘ্যের ওই কালভার্ট নির্মাণে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য সড়কটি খনন করা হয়। এরপর রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায় পুরো কাজ। এখন পর্যন্ত বেস ঢালাইসহ মূল কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার নূর আলম কাজ শুরু করলেও মাঝপথে তা বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৬০) বলেন, এই রাস্তা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয়। আমরা কৃষক মানুষ। আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। ব্রিজ না থাকায় ধান ঘরে তুলতে পারছি না। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি।
আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, এই সড়ক দিয়ে মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসা, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এবং অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বর্তমানে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, অস্থায়ীভাবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটি নিম্নমানের হওয়ায় এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চলতে পারে না। আমরা দিন আনি দিন খাই। কাজে যেতে না পারলে খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

শাহজালাল নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমার ভাতিজা এই সড়ক দিয়ে পারাপারের সময় পানিতে পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। এই দুর্ভোগের বিষয়ে আমরা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. সেলিনা আফরোজ ও সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ভোগান্তির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আনুপাতিক হারে কমে গেছে। দ্রুত কালভার্টটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলম জানান, এই এলাকায় বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে কাজ বিলম্ব হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি কাজ সম্পন্ন করেননি। পুনরায় দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ তানজিলা তাসনিম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow