১৯ শতাংশ জমির জন্য আটকে আছে সাড়ে ৮ কোটির সেতু নির্মাণ
ময়মনসিংহের ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্থানীয়রা। সমাধানে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ থমকে আছে। সেতুর অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না, উল্টো বাড়ছে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা। জানা গেছে, অধিগ্রহণ জটিলতায় রয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দাবি করা হয় ২৫ লাখ টাকা। ওয়ারিশসহ জমির মালিক ২০-২২ জন। ফলে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। কমেনি ভোগান্তিও। ‘বেইলি সেতুতে উঠতে ভয় হয়। মনে হয় এই বুঝি সেতুসহ কিংবা পাটাতনসহ নিচে পড়ে যাবো। তবুও আতঙ্ক নিয়ে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে’ এদিকে পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। বিকল্প হিসেবে নির্মাণাধীন নতুন সেতুটি দ্রুত চালুর দাবি জানালেও জটিলতা কাটছে না। আরও পড়ুন:বৃষ্টি-কৃষকের চোখের জলে একাকার হাওরের ধানের জমিএক সময়ের আশীর্বাদ কমলা নদী এখন কৃষকের জন্
ময়মনসিংহের ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্থানীয়রা। সমাধানে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ থমকে আছে। সেতুর অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না, উল্টো বাড়ছে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, অধিগ্রহণ জটিলতায় রয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দাবি করা হয় ২৫ লাখ টাকা। ওয়ারিশসহ জমির মালিক ২০-২২ জন। ফলে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। কমেনি ভোগান্তিও।
‘বেইলি সেতুতে উঠতে ভয় হয়। মনে হয় এই বুঝি সেতুসহ কিংবা পাটাতনসহ নিচে পড়ে যাবো। তবুও আতঙ্ক নিয়ে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে’
এদিকে পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। বিকল্প হিসেবে নির্মাণাধীন নতুন সেতুটি দ্রুত চালুর দাবি জানালেও জটিলতা কাটছে না।
আরও পড়ুন:
বৃষ্টি-কৃষকের চোখের জলে একাকার হাওরের ধানের জমি
এক সময়ের আশীর্বাদ কমলা নদী এখন কৃষকের জন্য ‘অভিশাপ’
কালনী-কুশিয়ারার পেটে যাচ্ছে শত বছরের জনপদ
এক সময়ের খরস্রোতা নদী এখন সরু নালা
স্থানীয়রা জানান, খিরু নদীর এক পাশে ত্রিশাল উপজেলা, অন্য পাশে ফুলবাড়িয়া উপজেলা। এই নদীতে ৮০’র দশকে নির্মিত হয় বেইলি সেতুটি। বহু বছর ব্যবহারে সেতুটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এমতাবস্থায় ২০২২ সালে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো বেইলি সেতুটির পাশেই একটি নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় দেড় বছর ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন দুই উপজেলার লাখো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বেইলি সেতু পার হতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি নদীতে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ/ ছবি: জাগো নিউজ
স্থানীয় জামাল উদ্দিন বলেন, নদীর ওপর নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহন। এটি পথচারীদের একমাত্র ভরসা। তবে সেতু পারাপারে সবচেয়ে আতঙ্কে থাকেন বয়োবৃদ্ধ ও স্কুলের শিশুরা। কারণ সেতুতে উঠলেই তিন চাকার যানবাহনের চাপে দুলতে থাকে। এছাড়া পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাশে তৈরি করা সেতুটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।
‘সেতুর ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জমির মালিকদের জমি, স্থাপনা (বাড়িঘর) ও গাছের দর নির্ধারণ করতে হবে। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা পরিমাপ নিয়ে গেছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। কার্যক্রম শেষ হলেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে’
আরও পড়ুন:
এবারও কি কপাল পুড়বে হাওরের কৃষকের?
প্রিয়জনের হলুদ খাম এখন অতীত, যা আসে আইনি-তালাক নোটিশ
লোডশেডিং-ডিজেল সংকটে কপাল পুড়ছে কৃষকের
তাঁত শিল্পে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বিদ্যুৎ বিভ্রাট
মঠবাড়ী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, বেইলি সেতুতে উঠতে ভয় হয়। মনে হয় এই বুঝি সেতুসহ কিংবা পাটাতনসহ নিচে পড়ে যাবো। তবুও আতঙ্ক নিয়ে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা/ ছবি: জাগো নিউজ
সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ত্রিশাল পৌর শহরে যাতায়াত করতে এই বেইলি সেতুটিই ব্যবহার হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু ব্যবহার না করলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হয়। স্কুল-কলেজে যেতে বা নদী পারাপারে বেইলি সেতুটিই একমাত্র মাধ্যম। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন করে নতুন সেতুটি দ্রুত চালু করতে অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জানানো হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য।
‘নদীর ওপর নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহন। এটি পথচারীদের একমাত্র ভরসা। তবে সেতু পারাপারে সবচেয়ে আতঙ্কে থাকেন বয়োবৃদ্ধ ও স্কুলের শিশুরা। কারণ সেতুতে উঠলেই তিন চাকার যানবাহনের চাপে দুলতে থাকে। এছাড়া পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাশে তৈরি করা সেতুটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেইলি ব্রিজের পাশেই প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রকল্পটির কাজ পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতুটি ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। অধিগ্রহণ জটিলতায় রয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দাবি করা হয় ২৫ লাখ টাকা। ওয়ারিশসহ জমির মালিক ২০-২২ জন।
জমির মালিকদের মধ্যে একজন বাসন্তী রানী চৌধুরী। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণে আমার তিন শতকের ভিটে পড়েছে। অধিগ্রহণের টাকা পাইনি। সরকারি লোকজন অনেকবার এসেছে। তাদেরকে টাকা পরিশোধ করতে বললেও দেয়নি। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত জমির দখল ছাড়া হবে না।
‘অধিগ্রহণ জটিলতায় রয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দাবি করা হয় ২৫ লাখ টাকা। ওয়ারিশসহ জমির মালিক ২০-২২ জন। ফলে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। কমেনি ভোগান্তিও’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, প্রায় ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে অতিদ্রুতই কাজ শেষ করা যাবে।
এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়ের হোসেন বলেন, এরই মধ্যে সেতুর ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জমির মালিকদের জমি, স্থাপনা (বাড়িঘর) ও গাছের দর নির্ধারণ করতে হবে। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা পরিমাপ নিয়ে গেছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। কার্যক্রম শেষ হলেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এমডিকেএম/এনএইচআর/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?