১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোটি একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৩ ও ১৪ মে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোটি একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৩ ও ১৪ মে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময় থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন পাবেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়ায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে ভাতা ও অন্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে।
কর্মকর্তাদের মতে, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
এছাড়া পঞ্চম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিচের গ্রেডগুলোতেও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।