কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলামি স্কলারের সতর্কবার্তা

বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে বা পরিবারের অমতে ছেলেমেয়েরা এই পথ বেছে নেয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে এই ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানা জরুরি, যা না জানলে জীবনভর পাপের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে। স্বাক্ষরই কি বিয়ে? ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা একটি ওকালতনামা প্রস্তুত করে নিয়ে যায় এবং সেখানে উকিল শুধু স্বাক্ষর করে দেন। তারা মনে করে এতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর অমোঘ বিধান হলো, বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইজাব ও কবুল’ (প্রস্তাব ও গ্রহণ) মুখে উচ্চারণ করা শর্ত, কেবল কাগজে লেখা বা স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়। যদি স্বামী-স্ত্রীর মুখে কথা বলার সামর্থ্য থাকে, তবে মুখে উচ্চারণ ব্যতীত কেবল স্বাক্ষর করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। তিনি বলেন, এখানে ইসলামি আইনের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। তালাকের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি মুখে উ

কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলামি স্কলারের সতর্কবার্তা

বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে বা পরিবারের অমতে ছেলেমেয়েরা এই পথ বেছে নেয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে এই ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানা জরুরি, যা না জানলে জীবনভর পাপের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।

স্বাক্ষরই কি বিয়ে?

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা একটি ওকালতনামা প্রস্তুত করে নিয়ে যায় এবং সেখানে উকিল শুধু স্বাক্ষর করে দেন। তারা মনে করে এতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর অমোঘ বিধান হলো, বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইজাব ও কবুল’ (প্রস্তাব ও গ্রহণ) মুখে উচ্চারণ করা শর্ত, কেবল কাগজে লেখা বা স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়। যদি স্বামী-স্ত্রীর মুখে কথা বলার সামর্থ্য থাকে, তবে মুখে উচ্চারণ ব্যতীত কেবল স্বাক্ষর করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না।

তিনি বলেন, এখানে ইসলামি আইনের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। তালাকের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি মুখে উচ্চারণ না-ও করে, কেবল তালাকনামায় স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেয়, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ের জন্য অবশ্যই মুখে ইজাব-কবুল উচ্চারণ করতে হবে, অন্যথায় তা বৈধ হবে না।

কখন কোর্ট ম্যারেজ বৈধ হতে পারে?

ইসলামি এই স্কলারের মতে, কোর্ট ম্যারেজ বলতেই যে তা অবৈধ, বিষয়টি এমন নয়। যদি অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে উকিল বা কাজি সাহেব ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে পড়িয়ে দেন এবং ছেলে ও মেয়ে উভয়ে মুখে তা কবুল করে নেয়, তবেই সেই বিয়ে বিশুদ্ধ হবে। তবে কেবল হলফনামায় স্বাক্ষর করে ঘরে ফিরে আসাকে ইসলাম বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

পারিবারিক ও সামাজিক বিয়ের গুরুত্ব

ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হিসেবে গণ্য করে এবং একে যতটা সম্ভব উৎসবমুখর ও সামাজিক করার উৎসাহ দেয়। এজন্যই ইসলামে আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত করা এবং ‘ওলিমা’ বা বিয়ের ভোজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের প্রতি নসিহত

তারুণ্যের জোয়ারে ভেসে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিভাবকের সন্তুষ্টি ও উপস্থিতিতে এবং ইসলামি শরিয়াহর সীমারেখা মেনে ঘটা করে বিয়ে করাই ইসলামের সৌন্দর্য এবং এটিই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পছন্দ। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে শরিয়াহ ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া প্রত্যেক মুসলিম তরুণ-তরুণীর কর্তব্য। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow