নন্দীগ্রামে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীর হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) রোগীরা চিকিৎসা নিতে এলে তাঁদের হাতে ধরে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসক যে চেম্বারে বসেন সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড। শনিবার সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) গিয়ে দেখে গেছে এমন দৃশ্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাঃ শামীম জাফর (সনেট) বেলা পৌনে ১১ টায় হাসপাতালে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টায় তিনি রুমে বসেন। রোগীরা তাঁর দরজার সামনে বসে থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলে সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন। বিদ্যুৎ আসার পরে রোগীদের ডাকেন তিনিসেখানে সকল রোগীর ব্যবস্থাপত্রে সঙ্গে দেওয়া হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেইসাথে হাতে ধরে দেওয়া হয় ব্যক্তিগত চেম্বার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বগুড়ার ভিজিটিং কার্ড। রোগীদের বলা হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর সাথে দেখা করতে। প্রতিবেদক নিজে রোগী সেজে তাঁর কাছে গেলে তাকেও একইভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলে হাতে ধরে দেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড। এই হাসপাতালেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলা হলে তিনি বলেন, এখানকার যন্ত্রপাতি ভলো না। আপনে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করে দেখ

নন্দীগ্রামে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীর হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) রোগীরা চিকিৎসা নিতে এলে তাঁদের হাতে ধরে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসক যে চেম্বারে বসেন সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড। শনিবার সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) গিয়ে দেখে গেছে এমন দৃশ্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাঃ শামীম জাফর (সনেট) বেলা পৌনে ১১ টায় হাসপাতালে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টায় তিনি রুমে বসেন। রোগীরা তাঁর দরজার সামনে বসে থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলে সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন। বিদ্যুৎ আসার পরে রোগীদের ডাকেন তিনিসেখানে সকল রোগীর ব্যবস্থাপত্রে সঙ্গে দেওয়া হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেইসাথে হাতে ধরে দেওয়া হয় ব্যক্তিগত চেম্বার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বগুড়ার ভিজিটিং কার্ড। রোগীদের বলা হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর সাথে দেখা করতে।

প্রতিবেদক নিজে রোগী সেজে তাঁর কাছে গেলে তাকেও একইভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলে হাতে ধরে দেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড। এই হাসপাতালেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলা হলে তিনি বলেন, এখানকার যন্ত্রপাতি ভলো না। আপনে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করে দেখা করবেন। এর পর বেলা ১২ টার দিকে রোগীদের বসে রেখে হাসপাতাল থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাঃ শামীম জাফর (সনেট)।

এবিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফাতেমা নামের একজন রোগী বলেন, আমি এর আগে ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। আমাকে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার জন্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড দিয়েছিল। আমি অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করে এনেছি। এজন্য ডাক্তার আমার রিপোর্ট দেখল না। আবার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করতে বলেছেন ডাক্তার। আমি গরিব মানুষ একবার পরীক্ষা করে এনেছি। আবার পরীক্ষা করার টাকা কথায় পাবো?

সেকেন্দার আলী প্রাং নামের একজন রোগী বলেন, ডাক্তারকে বললাম আমি বয়স্ক মানুষ বাবা আমাকে একটু দেখেন। সে বলে আজ হবে না আগামীকাল আসবেন।

সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীকে ব্যক্তিগত চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দেওয়া ও সরকার নিধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত এবং চলে যাওয়া বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ডাঃ শামীম জাফর (সনেট) বলেন, রোগীদের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাহিরে করতে বলা হয়। তবে ব্যক্তিগত চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড আমি দেইনি। আজ আমার একটু ব্যস্থতা ছিল তাই হাসপাতালে যেতে দেরি হয়েছে। আর আমার সিনিয়রকে বলে একটু আগে চলে এসেছি। আপনে আমার সাথে এসে আগামীকাল দেখা করেন বলে সে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, এসব বিষয়ে আমার জানা ছিল না। কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow