১ ডলারে দখল করা জমি যুক্তরাষ্ট্রকে দিলো ইসরায়েল, হবে স্থায়ী দূতাবাস

ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে দখল করা জমি মাত্র এক ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের জন্য এই জমি দেওয়া হয়েছে। ৯৯ বছরের জন্য এই জমি লিজ দেওয়া হয়েছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিম জেরুজালেমের ওই জমি স্থায়ী মার্কিন দূতাবাসকে দেওয়ার চুক্তিটি গত বুধবার সই হয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি সইয়ের সময় জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়ন উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব / গাজায় ফিলিস্তিনি গোলরক্ষককে গুলি করে মারল ইসরায়েল চুক্তি সইয়ের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, এই জমির লিজ চুক্তিটি ৯৯ বছরের জন্য করা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে মাত্র এক ডলার পরিশোধ করছে। এর আগে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৮ সালের মে মাসে সেখানে মার্কিন দূত

১ ডলারে দখল করা জমি যুক্তরাষ্ট্রকে দিলো ইসরায়েল, হবে স্থায়ী দূতাবাস

ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে দখল করা জমি মাত্র এক ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের জন্য এই জমি দেওয়া হয়েছে। ৯৯ বছরের জন্য এই জমি লিজ দেওয়া হয়েছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিম জেরুজালেমের ওই জমি স্থায়ী মার্কিন দূতাবাসকে দেওয়ার চুক্তিটি গত বুধবার সই হয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি সইয়ের সময় জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়ন উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি সইয়ের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, এই জমির লিজ চুক্তিটি ৯৯ বছরের জন্য করা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে মাত্র এক ডলার পরিশোধ করছে।

এর আগে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৮ সালের মে মাসে সেখানে মার্কিন দূতাবাসের একটি অস্থায়ী কার্যালয় চালু করা হয়। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

জমিটি আসলে ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন ‘আদালাহ’ ২০২২ সালে জানিয়েছিল, মার্কিন দূতাবাসের জন্য বরাদ্দ করা এই জমিটি আসলে ফিলিস্তিনিদের। ১৯৫০ সালের বিতর্কিত ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’ ব্যবহার করে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে এই জমি বাজেয়াপ্ত করেছিল।

আর্কাইভাল বা ঐতিহাসিক নথিপত্র প্রমাণ করে, ১৯৪৮ সালের আগে এই জমির মালিক ছিল বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবার। ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষের কাছে তখন জমিটি লিজ দেওয়া ছিল। মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা নেই

জাতিসংঘের মতে, পূর্ব জেরুজালেম ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করার যে কোনো পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত হলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তাদের দূতাবাস তেল আবিবেই বহাল রেখেছে। তবে নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow