২৩ বছর আগেও অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছিল বাংলাদেশ, অথচ এবার ৫৪ রানে অলআউট!

আচ্ছা, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ যে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল, তার ফল কী ছিল? বাংলাদেশ কি জিতেছিল? ওই সিরিজের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন আর অর্ডার ব্যাটার হাবিবুল বাশার সুমনের কেউই মনে করতে পারছেন না ম্যাচের ফল কী হয়েছিল। অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না। স্মৃতি হাতড়ে না পেয়ে সুজন বলে উঠলেন, আশরাফুলকে ফোন করেন। ওর অনেক পুরোনো কথা মনে থাকে। সেই ম্যাচের এক ইনিংসে ৯৯ করা হাবিবুল বাশারও মনে করে উঠতে পারলেন না। শুধু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি এক ইনিংসে ৯৯ রানে আউট হয়েছিলাম। তবে খেলার ফল কী ছিল মনে আসছে না।’ সুজন ও সুমনের কেউ যখন খেলার ফল মনে করে উঠতে পারেননি, তখন আর কী করা? মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফোন দেওয়া ছাড়া আর করণীয় নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এবারের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ব্যাটিং কোচ হিসেবে যাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফোনে পাওয়া গেল না। অগত্যা ক্রিকেট ওয়েবসাইট ঘেঁটে ফল বের করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ক্রিকেটের সেরা ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ ঘেঁটে জানা গেল আসল তথ্য। কী সেই তথ্য? শুনলে অবাকই হবেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম হয়তো বিশ্বাসই

২৩ বছর আগেও অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছিল বাংলাদেশ, অথচ এবার ৫৪ রানে অলআউট!

আচ্ছা, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ যে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল, তার ফল কী ছিল? বাংলাদেশ কি জিতেছিল?

ওই সিরিজের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন আর অর্ডার ব্যাটার হাবিবুল বাশার সুমনের কেউই মনে করতে পারছেন না ম্যাচের ফল কী হয়েছিল। অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না। স্মৃতি হাতড়ে না পেয়ে সুজন বলে উঠলেন, আশরাফুলকে ফোন করেন। ওর অনেক পুরোনো কথা মনে থাকে।

সেই ম্যাচের এক ইনিংসে ৯৯ করা হাবিবুল বাশারও মনে করে উঠতে পারলেন না। শুধু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি এক ইনিংসে ৯৯ রানে আউট হয়েছিলাম। তবে খেলার ফল কী ছিল মনে আসছে না।’

সুজন ও সুমনের কেউ যখন খেলার ফল মনে করে উঠতে পারেননি, তখন আর কী করা? মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফোন দেওয়া ছাড়া আর করণীয় নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এবারের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ব্যাটিং কোচ হিসেবে যাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফোনে পাওয়া গেল না। অগত্যা ক্রিকেট ওয়েবসাইট ঘেঁটে ফল বের করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

ক্রিকেটের সেরা ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ ঘেঁটে জানা গেল আসল তথ্য। কী সেই তথ্য? শুনলে অবাকই হবেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম হয়তো বিশ্বাসই করবে না। কিন্তু সেটাই সত্য।

আজ থেকে ২৩ বছর আগে বাংলাদেশ যে বার প্রথম ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল, সেই সিরিজের আগে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ২ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা।

আজকের প্রধান নির্বাচক আর তখনকার ওয়ান ডাউন ব্যাটার হাবিবুল বাশার সুমন ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে (১৮৮ মিনিটে ১৪৬ বলে ১৬টি বাউন্ডারি) আউট হয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন জাভেদ ওমর বেলিম (২১৩ মিনিটে ১৭৪ বলে ৫৯ রান)।

দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট থেকে এসেছিল ৬১ (১০৫ বলে ২ ছক্কা ও ৬ বাউন্ডারি) আর অলক কাপালি করেছিলেন ৯৯ বলে ৪৪ (৮ বাউন্ডারি) রান। এ দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তার সঙ্গে যোগ হয় উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলট (৩৪ বলে ২৮) আর অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের (৪৫ বলে ২৮ নট আউট) দুটি ক্যামিও ইনিংস। আর তারই ফলশ্রুতিতে ২ উইকেটের দারুণ জয় পায় বাংলাদেশ।

টার্গেট ছিল ২৩০ (৭২ ওভারে)। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংক ক্রিকেট একাডেমি। তুলনামূলক কম বয়সী ক্রিকেটারে সাজানো সেই দলের পক্ষে সাবেক অসি ক্যাপ্টেন মাইকেল ক্লার্কও অংশ নিয়েছিলেন।

ভাবছেন, ২৩ বছর আগের সেই গা গরমের ম্যাচের তথ্য-উপাত্ত আর খেলার ফল জানার কারণ কী? উত্তর খুব সোজা। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ২ ম্যাচে স্টিভ ওয়াহ, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ম্যাথ্যু হেইডেন, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের গড়া তখনকার বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২ ম্যাচেই ইনিংসে হারলেও সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র তিনদিনের ম্যাচে জিতেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের বাংলাদেশ।

হান্নান সরকার, জাভেদ ওমর বেলিম, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল, অলক কাপালি, খালেদ মাহমুদ সুজন, খালেদ মাসুদ পাইলট, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আনোয়ার হোসেন মুনির, তারেক আজিজ ও মোহাম্মদ রফিকরা।

কিন্তু এবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ইনজুরিমুক্ত হয়ে আবার মাঠে ফেরা অসি ফাস্ট বোলার ক্যাম্পবেলের দানবীয় বোলিংয়ের মুখে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৭৮ রানে করুণ পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল শতকের ওপর (১৪১ বলে ১১ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কা) ভর করে আড়াইশ পেরিয়ে (২৬৩) গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার করা ৩৫৫ রানের বিরুদ্ধে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জায় ডুবেছে টিম বাংলাদেশ।

বাঁ-হাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (২২) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। প্রতিপক্ষ যেমনই থাকুক, টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এমন ন্যক্কারজনক ব্যাটিং পরিষ্কার বলে দিচ্ছে শান্তর দলের ব্যাটিং বড্ড নড়বড়ে। এমন ছন্নছাড়া ব্যাটিং নিয়ে ডারউইনে প্রথম টেস্টে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কী করবে টাইগাররা? এ প্রশ্ন প্রতিটি সমর্থকের।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow