৪০ বিঘা জমি চাষ করে কপাল পুড়ল চাষির

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। স্বপ্নের সোনালি ফসল চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। জেলার ৫টি উপজেলার অন্তত ২১ হাজার কৃষক এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া গ্রামের কৃষক শিবু দাস এ বছর প্রতি বিঘা ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ১৯ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। এতে তার খরচ হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ২ বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও বাকি সব জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।  তিনি জানান, কাটা ধানও রোদের অভাবে খলায় পচে নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে তার পুরো বিনিয়োগই ডুবে গেছে, এখন দেনা শোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই চিত্র আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কালাম মিয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি ৪০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন, যার পেছনে খরচ হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। কিন্তু আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে তার পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের সামনে তলিয়ে যেতে থাকা ধান দেখে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার হাওরাঞ্চলে একইভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্

৪০ বিঘা জমি চাষ করে কপাল পুড়ল চাষির

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। স্বপ্নের সোনালি ফসল চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। জেলার ৫টি উপজেলার অন্তত ২১ হাজার কৃষক এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া গ্রামের কৃষক শিবু দাস এ বছর প্রতি বিঘা ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ১৯ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। এতে তার খরচ হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ২ বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও বাকি সব জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। 

তিনি জানান, কাটা ধানও রোদের অভাবে খলায় পচে নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে তার পুরো বিনিয়োগই ডুবে গেছে, এখন দেনা শোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই চিত্র আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কালাম মিয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি ৪০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন, যার পেছনে খরচ হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। কিন্তু আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে তার পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের সামনে তলিয়ে যেতে থাকা ধান দেখে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।

জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার হাওরাঞ্চলে একইভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেতের ধান পানির নিচেই নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে কাটা কিছু ধান রোদ না পাওয়ায় পচে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল জানান, আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জেলায় প্রায় ২০৯ কোটি টাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকাতে না পারায় আরও ১৩৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন কৃষকরা। তাদের মতে, কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়নি; বরং প্রায় ৩০ শতাংশ ফসল কাটার পরই বন্যা শুরু হয়। ফলে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা পানি ও টানা বৃষ্টিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের উঁচু জমিগুলোও এখন পানির নিচে। বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া ও আশপাশের উঁচু জমিও তলিয়ে গেছে। বাহুবল উপজেলার গুঙ্গিয়াজুরি হাওরের অধিকাংশ জমি বর্তমানে পানিতে ডুবে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত রোদের দেখা না মিললে কাটা ধানও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি জমির পানি দ্রুত নেমে না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow