৫০০ স্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ১১৫ বার কোরআন খতম

কিশোরগঞ্জে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পবিত্র কোরআন ১১৫ বার খতম সম্পন্ন হয়েছে। পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে আফটার স্কুল মাকতাব বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সম্মিলিত দোয়া, গণ-ইফতার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ। আয়োজকরা জানান, কোরআন তেলাওয়াতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ১০০ বার কোরআন খতমের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়। ১ রমযান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। নির্ধারিত সময়ে ১০০ বার কোরআন খতম সম্পন্ন করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে আরও ১৫টি খতম সম্পন্ন করে, ফলে মোট ১১৫ বার কোরআন খতম সম্পন্ন হয়। আফটার স্কুল মাকতাবের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ ওবায়েদ নেহান বলেন, কোরআন পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। আমরা বন্ধুরা মিলে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করি। আজ সবাই একসঙ্গে খোলা মাঠে ইফতার করব- এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে। উকিলপাড়া শাখার শ

৫০০ স্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ১১৫ বার কোরআন খতম

কিশোরগঞ্জে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পবিত্র কোরআন ১১৫ বার খতম সম্পন্ন হয়েছে। পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে আফটার স্কুল মাকতাব বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সম্মিলিত দোয়া, গণ-ইফতার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ।

আয়োজকরা জানান, কোরআন তেলাওয়াতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ১০০ বার কোরআন খতমের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়। ১ রমযান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। নির্ধারিত সময়ে ১০০ বার কোরআন খতম সম্পন্ন করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে আরও ১৫টি খতম সম্পন্ন করে, ফলে মোট ১১৫ বার কোরআন খতম সম্পন্ন হয়।

আফটার স্কুল মাকতাবের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ ওবায়েদ নেহান বলেন, কোরআন পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। আমরা বন্ধুরা মিলে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করি। আজ সবাই একসঙ্গে খোলা মাঠে ইফতার করব- এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে।

উকিলপাড়া শাখার শিক্ষার্থী নাবায়িল হাসান বলেন, আমি কোরআন খতম সম্পন্ন করেছি। এজন্য আজ আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই আনন্দের। আমি চাই ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত হোক।

অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল বাবুল বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোররা ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করছে-এটি সত্যিই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

আরেক অভিভাবক ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সামীম আহসান বলেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য আফটার স্কুল মাকতাব একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

আফটার স্কুল মাকতাব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মাঝে কোরআনভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার আগ্রহ তৈরি করবে এবং সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, কোরআন খতম কর্মসূচির পাশাপাশি রমযান উপলক্ষে দাওয়াহ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমও আয়োজন করা হয়। এসব প্রতিযোগিতা ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়।

আফটার স্কুল মাকতাব বাংলাদেশের দাওয়াহ বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা জুবায়ের আহমদ নাঈমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক মাওলানা আকরাম খন্দকার। 

শেষে সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া পরিচালনা করেন আফটার স্কুল মাকতাব বাংলাদেশ ও দারুল আরকাম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাইয়ুম। এরপর অনুষ্ঠিত হয় সম্মিলিত ইফতার মাহফিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow