৫১ শতাংশ শিক্ষার্থীই ঠিকমতো পড়তে ও গুনতে পারে না: উপদেষ্টা তিতুমীর
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, দ্বাদশ শ্রেণি পাস করলেও অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে রয়ে গেছে। প্রায় ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে ও গুনতে পারে না। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুল বেঞ্চ, লাইট, ফ্যান, ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গু করেছে। আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি, সে জন্য যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একদিকে অর্থ লুট করা হয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে অবহেলিত খাত হিসেবে রাখা হয়েছিল।’ তিনি
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, দ্বাদশ শ্রেণি পাস করলেও অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে রয়ে গেছে। প্রায় ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে ও গুনতে পারে না। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুল বেঞ্চ, লাইট, ফ্যান, ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গু করেছে। আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি, সে জন্য যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একদিকে অর্থ লুট করা হয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে অবহেলিত খাত হিসেবে রাখা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যে বাংলাদেশের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করার পাশাপাশি দেশের অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মানুষকে মুক্ত করতে হলে, স্বাধীন করতে হলে এবং মানুষের অধিকার ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই। মানুষকে নিজের পায়ে সম্মানের সঙ্গে দাঁড় করানোর কাজটি একমাত্র শিক্ষাই করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে হবে এবং সবার জন্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য একদিকে যেমন দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। দেশের উন্নয়নে অধিকাংশ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ড. তিতুমীর বলেন, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার মান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যুব সমাজকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল বেঞ্চ, লাইট, ফ্যান, ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
What's Your Reaction?