৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বগুড়া সিটি
যানজট নিরসনে আসছে ওয়ানওয়ে সড়ক ফুটপাত দখলমুক্তে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ১০০ সিসিটিভি ও ডিজিটাল সেবার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের পৌরসভা পরিচয় পেরিয়ে সম্প্রতি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে বগুড়া। নতুন এ নগর প্রশাসনের সামনে যেমন বেড়েছে সম্ভাবনা, তেমনি বেড়েছে চ্যালেঞ্জও। যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও নাগরিক সেবার জটিলতার মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে ইতোমধ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ২১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে নতুন অন্তর্ভুক্ত ও দীর্ঘদিন অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন যানজট ও জলাবদ্ধতা। এ দুটি সমস্যাকে সামনে রেখে প্রথম পর্যায়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং ফুটপাত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে। প্রশাসকের
- যানজট নিরসনে আসছে ওয়ানওয়ে সড়ক
- ফুটপাত দখলমুক্তে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী
- ১০০ সিসিটিভি ও ডিজিটাল সেবার পরিকল্পনা
দীর্ঘদিনের পৌরসভা পরিচয় পেরিয়ে সম্প্রতি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে বগুড়া। নতুন এ নগর প্রশাসনের সামনে যেমন বেড়েছে সম্ভাবনা, তেমনি বেড়েছে চ্যালেঞ্জও। যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও নাগরিক সেবার জটিলতার মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে ইতোমধ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ২১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে নতুন অন্তর্ভুক্ত ও দীর্ঘদিন অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন যানজট ও জলাবদ্ধতা। এ দুটি সমস্যাকে সামনে রেখে প্রথম পর্যায়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং ফুটপাত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।
প্রশাসকের ভাষ্য, ইতোমধ্যে বনানী-মাটিডালি এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
ফুটপাত উদ্ধারে নতুন কৌশল
শহরের যানজট ও পথচারী দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ফুটপাত দখল। সাতমাথা, পুলিশ প্লাজা, রানা প্লাজা, নবাববাড়ি সড়ক, বনানী, চারমাথা ও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে হকার ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যানজটও তীব্র করছে।
সিটি করপোরেশন প্রশাসকের দাবি, আগের মতো শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হবে না। কারণ অতীতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই ফুটপাত আবার দখল হয়ে গেছে। এবার সেই পুনর্দখল ঠেকাতে ভিন্ন কৌশল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ / এক লাফে ব্যয় বাড়ছে ৭ হাজার কোটি টাকা

বগুড়ার আলোচিত সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ার মোকামতলায় ৩ নতুন ইউনিয়ন, পৌরসভা গঠন চূড়ান্ত পর্যায়ে
এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যোগদানের পর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় দখলমুক্ত অভিযান শুরু হবে। অভিযানের পর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখতে ৫০ থেকে ১০০ জন ইউনিফর্মধারী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাদের পোশাকে ‘স্বেচ্ছাসেবক, বগুড়া সিটি করপোরেশন’ লেখা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০ থেকে ২৫ ফুট পরপর অবস্থান নিয়ে তারা নজরদারির দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে উচ্ছেদের পর কেউ আবার বসতে না পারে। পুলিশ সদস্যের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এসব স্বেচ্ছাসেবক পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ফুটপাত, সড়ক ও জনচলাচলের জায়গা নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
ওয়ানওয়ে সড়ক ও অটোর নিয়ন্ত্রণ
নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সামনে সবচেয়ে বড় নাগরিক সংকট হিসেবে উঠে এসেছে যানজট। শহরের সাতমাথা, চারমাথা, বনানী, মাটিডালি, নবাববাড়ি সড়ক, রেলগেট, জহুরুল নগর, কলোনি ও শেরপুর রোড এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। অফিস ও স্কুল শুরুর সময় এবং বিকেলের ব্যস্ত সময়ে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগার অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন সড়কগুলো ওয়ানওয়ে করা হবে, কোথায় প্রবেশ ও কোথায় বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে একটি ট্রাফিক ম্যাপ তৈরির কাজ চলছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বনানী-মাটিডালি করিডোর, কাঁঠালতলা সংলগ্ন সড়ক এবং শহরের কয়েকটি ব্যস্ত মোড়কে প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক থেকে শহরে প্রবেশ করা যানবাহনের চাপ কমাতে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বগুড়া শহরের বর্তমান সড়ক নেটওয়ার্কের বড় অংশই বহু বছর আগে নির্মিত। কিন্তু গত এক দশকে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও সড়কের সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে একই সড়কে রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত যান, সিএনজি, বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় যানজট তীব্র হচ্ছে।
লাইসেন্সের আওতায় অটোরিকশা
যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী অটোরিকশা ও রিকশাকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বর্তমানে বগুড়া শহরে ঠিক কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে তার নির্ভুল হিসাব নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কয়েক হাজার অটোরিকশা প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়ক ব্যবহার করছে।
এসব যানবাহনের অনেকগুলোর কোনো নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট বা নির্ধারিত রুট নেই। ফলে যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এবং একই রুটে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে যানজট আরও বাড়ছে।
এ অবস্থায় সব অটোরিকশা ও রিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় এনে ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে সেই রুটের বাইরে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ
শহরের যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে অবৈধ পার্কিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতমাথা, বনানী, নবাববাড়ি সড়ক, চারমাথা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তার পাশেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এসব যানবাহনের জন্য বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তরা সিনেমা হলসংলগ্ন খালি জায়গাসহ কয়েকটি স্থানে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে পার্কিং জোন তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কারাগারে শত বাংলাদেশি

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন এম আর ইসলাম স্বাধীন
একই সঙ্গে শহরের বড় হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শপিং কমপ্লেক্স ও বহুতল ভবনগুলোকে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। ভবিষ্যতে নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পার্কিং বা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে।
সিসিটিভির নজরে সিটি
যানজট নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং নগর নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রথম ধাপে প্রায় ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। আগামী এক মাসের মধ্যে এই কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার ব্যস্ত সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই সড়কটি উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই করিডোর ব্যবহার করে শহরে প্রবেশ ও বের হয়। একই সঙ্গে এখানে রয়েছে আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা।
বর্তমানে শহরে সরকারি বা সমন্বিত কোনো কেন্দ্রীয় সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। ফলে দুর্ঘটনা, ছিনতাই, চুরি, যানজট সৃষ্টি কিংবা সড়ক দখলের মতো ঘটনায় তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানিয়েছেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। কোথায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, কোন এলাকায় অবৈধ পার্কিং হচ্ছে, কোথায় সড়ক দখল করা হচ্ছে কিংবা কোন রুটে যানবাহনের চাপ বেশি এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বনানী-মাটিডালি করিডোর ছাড়াও পর্যায়ক্রমে সাতমাথা, চারমাথা, নবাববাড়ি সড়ক, জহুরুল নগর, কলোনি, পুলিশ প্লাজা মোড়, রেলগেট, শেরপুর রোড এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের চলাচল হয় এবং বেশিরভাগ যানজটের কেন্দ্রবিন্দুও এসব এলাকা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ
নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার ফলে সেবার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের চাপও। কিন্তু সেই তুলনায় প্রয়োজনীয় যানবাহন, ডাম্পিং স্টেশন ও অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
সিটি করপোরেশন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুরো নগর এলাকায় বর্জ্য অপসারণের জন্য পূর্বতন পৌরসভার মাত্র দুটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এখন সিটি করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ২১টি ওয়ার্ড। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অন্তত প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ট্রাক প্রয়োজন। সে হিসাবে প্রয়োজন কমপক্ষে ২১টি ট্রাক। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে মাত্র দুটি।
ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ময়লা অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। অনেক জায়গায় দিনের পর দিন রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা অস্থায়ী ডাম্পিং পয়েন্টে আবর্জনা জমে থাকছে। বিশেষ করে বনানী, মালতীনগর, চেলোপাড়া, কলোনি, সূত্রাপুর ও শহরতলির নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

নতুন চ্যালেঞ্জে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি

নিকারের বৈঠক / বগুড়া সিটি করপোরেশন ও নতুন ৫ উপজেলার অনুমোদন
প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নিজেই অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার স্থান এবং ময়লার ভাগাড়ের চিত্র দেখেছেন। সেবার পরিধি বাড়লেও প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অবকাঠামো না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় নতুন ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি সম্ভাব্য স্থান চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি রাজাপুর এলাকায়, যেখানে আগে বালু উত্তোলন করা হতো। অন্যটি গাবতলী-বাগবাড়ী সড়কের লিচুতলা এলাকায়, যেখানে বিভিন্ন সময় মেলা বসে। জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও স্থান পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মূল্য নির্ধারণ ও ক্রয়সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত ডাম্প ট্রাক সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প নেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।
ঘরে বসেই মিলবে সিটি সেবা
নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত করা। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ কিংবা পানির বিল পরিশোধের মতো সেবা নিতে নগরবাসীকে একাধিকবার সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা, কাগজপত্র যাচাই এবং দাপ্তরিক জটিলতার অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ সেবাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ও নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, পানির বিল পরিশোধ, জন্ম ও নাগরিকত্ব সনদের আবেদন, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ এবং অভিযোগ দাখিলের মতো সেবাগুলো অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিল ও কর পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।
বর্তমানে দেশের বড় সিটি করপোরেশনগুলো যেমন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এ অনেক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। বগুড়াও সেই মডেলে যেতে চায়।
জনবল সংকট, নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো
নতুন সিটি করপোরেশনের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার ঘাটতি। বর্তমানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সাবেক পৌরসভার জনবল দিয়ে। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় প্রতি ওয়ার্ডের ২০-২৫ জন কর্মীকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো হচ্ছে এবং নিয়মিত জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও প্রকট। বর্ধিত জনবল ও কর্মকর্তাদের বসার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ নেই।
এ অবস্থায় সিটি করপোরেশনকে চারটি জোনে ভাগ করে আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলা পরিষদের খালি জায়গায় অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনানীর চারমাথা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমিতে স্থায়ী প্রধান কার্যালয় নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ২১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অবহেলিত ১৩ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ ও পরামর্শ সরাসরি গ্রহণের জন্য প্রশাসক নিজেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম
What's Your Reaction?

