৮০০ একর জমিতে চায়নিজ ইকোনমিক জোন, নতুন দিগন্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে সোমবার সকাল ১০টায় প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে প্রায় ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বেজা ও চীনের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিআরবিসির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি বিনিময় হয়। চীন সরকার

৮০০ একর জমিতে চায়নিজ ইকোনমিক জোন, নতুন দিগন্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে সোমবার সকাল ১০টায় প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে প্রায় ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বেজা ও চীনের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিআরবিসির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি বিনিময় হয়। চীন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের প্রথম চার মাসেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। 

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ-চীনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, উন্নত টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। একই সঙ্গে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে প্রকল্পটি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow