৯৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৫০ গ্রাম

কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কারণে শেরপুর প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজ না করতে পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পর থেকেই বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় টানা ৮০ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকার বেশিরভাগ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন। ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, কালিবাড়ি, তাওয়াকুচা, দারিয়াপাড়া, কুচনিপাড়া ও হালুহাটি গ্রামসহ বহু এলাকায় তিন থেকে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। একই চিত্র শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল, সিংগাবর্ণা ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম, কাকিলাকুড়া ও তাঁতিহারি ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে। অন্যদিকে নালিতাবাড়ী

৯৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৫০ গ্রাম

কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কারণে শেরপুর প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজ না করতে পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পর থেকেই বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় টানা ৮০ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকার বেশিরভাগ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন।

ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, কালিবাড়ি, তাওয়াকুচা, দারিয়াপাড়া, কুচনিপাড়া ও হালুহাটি গ্রামসহ বহু এলাকায় তিন থেকে চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। একই চিত্র শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল, সিংগাবর্ণা ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম, কাকিলাকুড়া ও তাঁতিহারি ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে।

অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি, খলচন্দা, কাটাবাড়ী, বারোমারী, নন্নী, পাঁচগাঁও ও যোগানিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামেও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের দেখা মিলছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

এদিকে স্বাভাবিক সময়েও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয় গ্রাহকদের। তার মধ্যে ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার দারিয়ারপাড় এলাকার আতিক আকন্দ বলেন, তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, যার জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না। খুব তাড়াতাড়ি যেন বিদ্যুৎ আসে, এটাই চাই।

শ্রীবরদী উপজেলার বালিঝুড়ি কালিবাড়ি এলাকার সোহেল বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না, তার মধ্যে ঝড়ের কারণে গত ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। কোনো কাজই করতে পারছি না। মোবাইল পর্যন্ত চার্জ দিতে পারছি না, এজন্য সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে।

শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এজন্য আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শ্রীবরদী উপজেলার ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য নারায়ণ ভৌমিক বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। একদিকে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা মেরামত করছি, আবার ঝড়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে লোকবল রয়েছে, সেগুলো সাধারণ সময়ের জন্য। ইমার্জেন্সি ঝড়-বৃষ্টির জন্য সাপোর্ট দেওয়ার মতো তেমন লোক নেই, যার জন্য বিদ্যুতের এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সব এলাকায় মোটামুটি বিদ্যুৎ চালু রয়েছে, তবে কিছু কিছু এলাকায় এখনো চালু হয়নি। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শেরপুর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এটা সত্যি। তবে এটা সামান্য পরিমাণ।

তিনি আরও বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাতির জন্য বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রয়েছে। ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, এ তথ্য জানা নেই। অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য আমাকে জানায়নি। যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, সেসব গ্রামের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ নেই। এ বিষয়ে আমরা পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা কাজ করছে। আশা করি তারা খুব দ্রুতই সমাধান করবে।

শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে তাকে জানানো হচ্ছে

মো. নাঈম ইসলাম/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow