শাহীন ইমতিয়াজের কিশোর কবিতা 

সà§�বাধীনতা মানে  সà§�বাধীনতা মানে à¦�কà§�য-শানà§�তি à¦� জীবনটা‌কে গড়া, সà§�খে, দà§�ঃখে থাকা চারপা‌শ জà§�‌ড়ে সঙà§�গী-সাথী‌তে ভরা।   সà§�বাধীনতা মানে হাসি, হা‌সিমà§�খে ফà§�লের বাগানে যাওয়া, ফà§�‌লের মি‌ষà§�টি ঘà§�রাণ নি‌তে নি‌জে জীব‌নের গান গাওয়া।   সà§�বাধীনতা মানে মà§�কà§�তির খোà¦�‌জে ছো‌টা সবà§�‌জের টা‌নে, সà§�বাধীনতা মা‌নে লাল ও সবà§�জ সà§�শীল সমাজ জা‌নে?   সà§�বাধীনতা মা‌নে অ‌নেক হা‌রি‌য়ে শানà§�তির খোà¦�জ পাওয়া, সà§�বাধà

শাহীন ইমতিয়াজের কিশোর কবিতা 

স�বাধীনতা মানে 

স�বাধীনতা মানে �ক�য-শান�তি
� জীবনটা‌কে গড়া,
স�খে, দ�ঃখে থাকা চারপা‌শ জ�‌ড়ে
সঙ�গী-সাথী‌তে ভরা।

 


স�বাধীনতা মানে হাসি, হা‌সিম�খে
ফ�লের বাগানে যাওয়া,
ফ�‌লের মি‌ষ�টি ঘ�রাণ নি‌তে নি‌জে
জীব‌নের গান গাওয়া।

 


স�বাধীনতা মানে ম�ক�তির খো�‌জে
ছো‌টা সব�‌জের টা‌নে,
স�বাধীনতা মা‌নে লাল ও সব�জ
স�শীল সমাজ জা‌নে?

 

স�বাধীনতা মা‌নে অ‌নেক হা‌রি‌য়ে
শান�তির খো�জ পাওয়া,
স�বাধীনতা মা‌নে য�‌দ�ধের শে‌ষে 
ফ�রফ�‌রে �ক হাওয়া।


 

আমার ছোট�ট গা�ও


সব�জ শ�যামল দৃশ�য ভরা আমার ছোট�ট গা�ও
�সে দেখো কী অপরূপ, স�বাসট�ক� নাও।
গা�য়ের পথে দা�ড়িয়ে থাকে মেঘ স�ন�দর গাছ
দেখতে পাবে বিকেল হলে উঠান জ�ড়ে নাচ।


খেতের সোনার ফসল, নদীর ইলিশ ছড়ায় রূপ
বৃষ�টি হলে প�ক�র পারে দস�যি ছেলের ড�ব।
বর�ষাতে ব�যাঙ খেলা করে নত�ন পানির ত‌লে
আসবে সবাই কাজ শে‌ষে তা দেখতে দলে দলে।


প�রান দিঘির নত�ন পা‌নি সারি বা�ধা প��টি
বায়না ধরে ছোট�টরা সব আজ আমাদের ছ�টি।
দেখ‌লে ত�মি খ�‌শি হবে আমার ছোট�ট গা�ও
�‌সো আমার মায়া ভরা গ�রাম‌টা দে‌খে যাও।

 

ত�মি আমার


ত�মি আমার রক�তে লেখা লাল-সব�জের দেশ
কত দার�ণ ত�মি, তোমার রূপের তো নেই শেষ।
তোমার তরে শান�তি যে পাই, পাই অমলিন স�খ
ঠেকাই মাথা সারে আমার মনের সকল দ�খ।


রূপে-গ�ণে ম�গ�ধ হয়ে মিলাই দ�টি আ�খি 
তোমার শীতল আ�চল তলে থাকে কত পাখি!
ত�মি আমার সোনা, হিরা, ম�ক�তার চেয়ে দামি
ত�মি আমার ভালোবাসা জানে ভবের স�বামী।


ত�মি হলে সাত রাজার ধন, আগলে রাখি আমি
তোমার মাটি, আমার ঘা�টি সবার চেয়ে দামি।

 

ছেলেবেলার খেলার সাথী


ছেলেবেলার খেলার সাথী আ�খির কথা কই
বলব তবে শর�ত আছে চ�পটি করে রই।
সকাল বেলার মিষ�টি রোদে গল�প হতো রোজ
স�ক�লে না গেলে, আ�খি করত আমার খো�জ।


নিত�য নত�ন গল�প হতো, হইচই আর খেলা
খ�নস�টি, রঙ তামাশায় কাটত সারাবেলা।
বৃষ�টি �লে আসত আ�খি আমার ক��ড়েঘর
ম�ড়িমাখা খেয়ে আ�খি বলত আমায় পর।


ঢং দেখে ওর কান�না আসে চোখের পানি ফেলি
হাসি দিয়ে বলত আবার, আয় না প�ত�ল খেলি।
কোথায় গেল দিনগ�লো সেই কোথায় গেল সাথী
সেসব স�মৃতি ভেবে �খন কাটাই সারা রাতি।

 

 

দিন চলে যায় 


দিন চলে যায় বছর আসে, আসে নত�ন দিন
সকলকিছ�ই ক�ষয় হয়ে যায় বাড়তে থাকে ঋণ।
হ�ক�কা হ�য়া যায় না শোনা আগের দিনের মতো
দিন বদলের অগ�নিমাশ�ল দিচ�ছি অবিরত।


মনে পড়ে আগের দিনে জোছনা রাতের বেলা
দল বে�ধে সব দিন কাটাতাম খেলে নানান খেলা।
গোল�লাছ�ট আর কানামা‌ছি, হাড�ড�, কিতকিত
টঙে বসে কাট‌ত সময় গে‌য়ে ভাটির গীত।


বানের জলে ত�ম�ল সা�তার কলাগাছের ভেলা
হই-হ�ল�লোড় হাসিখ�শি কাটত সারাবেলা।
বাড়ি, বাড়ি পিঠার দাওয়াত আনন�দ হইচই
স�বপ�নমাখা দিনগ�লি হায় পালিয়ে গেল কই!


ম�ঠোফোনে মাথা নিচ� ক��জো পিঠের হাড়
কেমন করে উ�চ� মাথার গড়বে জাতি আর!

 

 

ঘ�মপাড়ানির দল

 

আমার গা�য়ের গল�প শোনো— দেখতে অপরূপ 
বৈরী হাওয়ায় দোল খেতে রোজ ডাহ�কের গ�বগ�ব।
বিকেল বেলা খেলার মাঠে দেখতে পাবে সব
খেলায়, খেলায় নৃত�য কত উঠবে কলরব।


সন�ধ�যা হলে আপন মনে জোনাক পোকার দল
উড়ি, উড়ি, ঘ�রি ঘ�রি, করে কোলাহল
রাত�রি হলে শিয়াল মামার হ�ক�কাহ�য়া গান
ঘরে শ�য়েই শ�নতে পাবে মন করে আনচান।


ঘ�ম আসে না মনটা ভারি রবে টলোমল
আসবে ছ�টে ঘ�ম পাড়াতে ঘ�ম পাড়ানির দল।
সকাল বেলা উঠতে দেরি চিন�তা মনে খ�ব
কিচিরমিচির শব�দে জেগে দিঘির জলে ড�ব।

 

 

জীবন আমার


জীবন আমার বিষের বা�শি 
ফ�রায় দ�ঃখের হালে
শান�তি ব��ি খ��জে পাব
শ�কনো পাতার ডালে।


সকাল, বিকাল ছ�টে চলি
গ�বরে পোকার গা�য়
শান�তি খ��জতে মেঠোপথে
বেলা ফ�রে যায়।


আকাশ আবার করছে আড়ি
মনে ভীষণ জ�বালা
গ�বরে পোকার গা�য়ে যেতে
ধরল জোনাক খালা।


কী করি আর ভেবে-চিন�তে
দিলাম �কটা ঘ�ম
সকাল বেলা উঠেই খাচ�ছি 
সূর�যি মামার চ�ম।

 

 

শিয়াল ও ঘোড়া 


শিয়াল বলে, ঘোড়া তোমার �ত কেন কষ�ট
পরের কাছে বন�দি থাকো হয় মাথা খ�ব নষ�ট।
তোমার গায়ে শক�তি নাই তাই �মন করে থাকো
অকর�মা কাপ�র�ষ ত�মি �খান থেকে ভাগো!


আমায় যদি তোমার মতো রাখত �মন করে
লজ�জায় ম�খ দেখাতাম না যেতাম আমি মরে।
�মন করে থাকো যে তোমার লজ�জা ব�জি নাই
অলস ত�মি, পাড়াপড়শি তা বলে সবাই।


ঘোড়া বলে, শোনো শিয়াল কর�ম আমি করি
তাই মান�ষের সাথে আমি নত�ন জীবন গড়ি।
রাতের বেলা ঘ�মাই আমি দিনে থাকি কাজে
সারাক�ষণতো ছ�টে বেড়াও, ত�মি হলে বাজে।


পরের ওপর টেক�কা মেরে প�যা�চ লাগিয়ে দাও
সত�যি করে বলো দেখি �কট� শান�তি পাও?
দেখলে তোমায় লাঠি নিয়ে সবাই তেড়ে আসে,
কিন�ত� আমায় আদর করে সবাই ভালোবাসে।

 

 

হতাশ ত�মি কবে যাবে চলে


লাল নীল সাদা-কালো জীবনের কাহিনি 
মরে গেলে বে�চে যাই, ধরো লাল বাহিনী।
রং-মাখা ছবি আ�কা বাব�ইয়ের দল কানা
ঢিল ছ�ড়ে আশেপাশে মারে শ�ধ� হানা।


দিনরাত ছোটাছ�টি মনে হয় ব��ি মরি
কেউ �সে আশা দিয়ে বলে যায় সরি।
ছলেবলে ল�টপাট করে শ�ধ� খ�টখাট 
হতাশায় কষ�ট তরী-ভরা জীবনের লাট।


চোখ মেলে তাকালেই চারদিকে মর�ময়
আলো কেটে আ�ধারেই নেমে আসে ক�ষয়।
হতাশ, হতাশ ত�মি কবে যাবে চলে
চ�পিসারে �সে ভাই যাও ত�মি বলে।

 

 

��মকোলতার গা�য়


মেঘলা আকাশ বইছে বাতাস ধ�লোয় মাখা ঘাট
গা�য়ের মেয়ের ��ম�র নৃত�য দেখায় আশার মাট।
ব�ড়া-ব�ড়ির পান খাওয়া আর গ�ড়�ম গ�ড়�ম গীত
ছোট�ট ছেলে মেয়ের ভেলায় উঠতে লাগে ভীত।


আবার দেখো কিশোর দল বসায় খেলার আসর
প�ত�ল বিয়ে ধ�মধামে! করায় মনের বাসর।
ইচিং বিচিং গোল�লাছ�টে কাটায় সারাক�ষণ
দেখতে দেখতে উদাস বেলা শান�তি আনে মন।

পানকৌড়িরা নাও নিয়ে ফেরে যখন ঘাটে 
দৌড়ে যায় সবে তখন কেউ থাকে না মাঠে।
�মন করে আমার পিছ� আয়রে খ�কি আয়
মনের কথা বলব খ�লে ��মকোলতার গা�য়।

 

 

আমার ইচ�ছে জাগে

 

আমার খ�ব ইচ�ছে জাগে, পেতে আগের দিন
নাচব, গাইব, খেলব বাজাব স�খের বিন।
কলার পাতার ঘর বানিয়ে খেলতাম ট�নির সনে
বৃষ�টিতে নাচ রোদ�রে ঘ�ড়ি শ�ধ� পড়ে মনে।

�ড় �লে আম ক�ড়াতাম সবে মাথায় দিয়ে টিন
সকলে ভাগ করে নিতাম �কে অন�যের ঋণ।
স�ক�ল গিয়ে টিফিন খেতাম সারিবদ�ধ হয়ে
আনন�দময় দিনগ�লো খ�ব ভাসে স�বপ�ন হয়ে।


পাখির ছোট�ট ছানা দলবে�ধে খ��জতাম সবসময়
কল�পনার ইচ�ছের কথাগ�লো করতে হবে জয়।
সেই হাসিমাখা দিনগ�লো ফিরে পেতে চাই
ইচ�ছের কথা ভাবতে, ভাবতে স�বপ�নে চলে যাই।

 

 

বেদের মেয়ে জোছনার বিয়ে

ঘ�ম থেকে উঠে দেখি বেদের মেলা
হচ�ছে কী সব আরে বাবা 
কী কলরব চশমাটা নাই
আচমকা ভাব খ��জে বেড়াই,
সাধ�র বাসায় সকাল সকাল সাপের খেলা।


বাদ�য বাজে তালে তালে নাচন আবার
উঠান জ�ড়ে সাপের খেলা
নাচন প�রে প�ত�ল সেজে
বেদেরা কি যাচ�ছে নেচে
সবাই খাচ�ছে বেদের মেয়ের বিয়ের খাবার।


তাইতো ব��ি �লো ওরা
কিছ�ইতো ব��ি না
বেদের মেয়ের বিয়ে হবে
নত�ন শাড়ি পরছে তবে 
গোমোরতো খ��জি না।

কই গেলো তার বেদের মেলা
ফ�রায় গেলো সাপের খেলা
বর কোথায় দেখছি নাতো
বলছে ওরা তোমার মতো
আস�ক কাজি বসনার
সাধ�র বাসায় বিয়ে 
বেদের মেয়ে জোছনার।


কবি পরিচিতি : গাইবান�ধা জেলার অন�তর�গত শ�রীকলা গ�রামে পহেলা জান�য়ারি জন�মগ�রহণ করেন। ক�লাস সিক�সে পড়ার সময় থেকেই লেখালেখি করেন। সব বিষয়ে লেখালেখি করলেও ছড়া, কিশোর কবিতা, শিশ�তোষ গল�প, অর�থাৎ শিশ�সাহিত�যে বেশি চর�চা করেন।
 
বাংলাদেশের জাতীয় পত�র-পত�রিকাসহ বিভিন�ন ম�যাগাজিন �বং বাইরের দেশের পত�রিকাতেও লেখালেখি করছেন নিয়মিত। দ�বাদশ শ�রেণীর ছাত�রবস�থায় উপজেলা প�রশাসন কর�তৃক আয়োজিত ৪৩ তম জাতীয় বিঙান ও প�রয�ক�তি সেমিনারে বিঙান বিষয়ক বক�তৃতায় ২য় স�থান অধিকার করে পেয়েছেন জাতীয় প�রস�কার।
 
বর�তমানে সরকারি সাত কলেজের কবি নজর�ল সরকারি কলেজ, ঢাকা, ইতিহাস বিভাগে অধ�যয়নরত। সম�পাদনা করছেন শিশ�দের পত�রিকা- টমটম। প�রথম বই পি�পড়া ও দ�ই ছানা। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow