অচল যুদ্ধবিরতি সচল করতে মরিয়া পাকিস্তান
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় এবং সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি সহ বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে। বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর ‘৬০ দিনের’ একটি সময় গণনা শুরু হয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের অনুমোদন না দিলে এই সময়ের পর সরকারকে সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে হয়। পহেলা মে এই সময়সীমা শেষ হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ৬০তম দিনে, শুক্রবার ট্রাম্প কংগ্রেস নেতাদের লিখেছেন, "২০২৬ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গুলি বিনিময় হয়নি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হয়েছে।" এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্য তেহরানের নতুন করে প্রস্তাব পাকিস্তানকে
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় এবং সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি সহ বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে। বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর ‘৬০ দিনের’ একটি সময় গণনা শুরু হয়।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের অনুমোদন না দিলে এই সময়ের পর সরকারকে সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে হয়। পহেলা মে এই সময়সীমা শেষ হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ৬০তম দিনে, শুক্রবার ট্রাম্প কংগ্রেস নেতাদের লিখেছেন, "২০২৬ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গুলি বিনিময় হয়নি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হয়েছে।"
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্য তেহরানের নতুন করে প্রস্তাব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন।
এই আলোচনায় ইসহাক দার জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কুয়েতের শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ পাকিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ “উম্মাহ ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আবারও যেকোনো সময় নতুন করে শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যেকোনো ‘দুঃসাহসিকতা বা বোকামির’ জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা কোনো চুক্তির প্রতি ওয়াশিংটনের শ্রদ্ধাশীল আচরণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগের আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতির পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইরান নমনীয়তা দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং ইরান যখনই নিজেদের দাবি কিছুটা শিথিল করেছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
এদিকে কিছু সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করা একটি শান্তি প্রস্তাবে ইরান তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি থেকে সরে এসেছিল। এর মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও ছিল বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। যদিও পাকিস্তান দাবি করছে তারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
What's Your Reaction?