গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় রেজাউল ইসলাম নামে এক প্রাইভেটকারের চালকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১টার দিকে মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের মক্কা-মদিনা কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বুধবার (২ এপ্রিল) ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত রেজাউল ইসলাম (৩০) ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে। তিনি শ্রীপুরের ২নং সিএন্ডবি এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করে প্রাইভেটকার চালাতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় রেজাউল করিম বলেন, আনুমানিক ১ বছর ধরে শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারির প্রাইভেটকার চালাতেন রেজাউল ইসলাম। গত রাতে ডিউটি শেষে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের মক্কা-মদিনা কারখানার সামনে পৌঁছাতেই দ্রুত গতির অটোরিকশা ধাক্কা দেয় তাকে। এসময় সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন রেজাউল। পরে অটোরিকশার চালক তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বুধবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজাউলকে মৃত ঘোষণা করেন।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারি বলেন, অত্যন্ত ভদ্র ও শান্তশিষ্ট ছিলেন রেজাউল। তিনি শুধু আমার গাড়িচালকই নয়, আমার পরিবারের সদস্য হিসেবেই থাকতেন। গতকালও হাসিখুশি মনে আমার পরিবারের কাছ থেকে ঈদের ছালামি নিয়েছেন। রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলেও ভোরে আমরা জানতে পারি। জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় তার।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে অজ্ঞাতনামা একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে কোনো আঘাত ছিল না। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। ভোরে তার স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, অটোরিকশা চাপায় মারা যাওয়ার বিষয়টি কেউ থানায় অবগত করেনি। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবো।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম