অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করুন ৬ উপায়ে
আমাদের মনের অবস্থাই ঠিক করে দেয় দিনটা কেমন যাবে। মন শান্ত থাকলে কাজ করা সহজ হয়, সম্পর্ক ভালো থাকে, ঘুমও ঠিক হয়। কিন্তু দুশ্চিন্তা শুরু হলে চিন্তা বাড়তে থাকে, মাথা ভার লাগে, মন অস্থির হয়ে যায়। এই অবস্থায় একটু ভিন্নভাবে জীবনকে দেখার দরকার হয়। জাপানি সংস্কৃতিতে এমন কিছু সহজ অভ্যাস আছে, যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মন ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত চিন্তা কমানোর এমন ৬টি কৌশল। শোগানাই : যা বদলানো যাবে না, তা মেনে নেওয়া জাপানিদের একটি বিশ্বাস হলো, যেটা বদলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই, তা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। ধরুন কোনো ভুল হয়ে গেছে বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করছেন। তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিন, শোগানাই। এই বিষয়ে এখন কিছু করার নেই। সামনে এগোতেই হবে। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখলে মন অনেকটাই হালকা হয়। শিরিন ইয়োকু : প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো মাথা যখন চিন্তায় ভরে যায়, তখন ঘরে বসে না থেকে বাইরে বের হওয়াই ভালো। কাছের কোনো পার্কে একটু হাঁটুন। গাছের দিকে তাকান, পাখির ডাক শুনুন, বাতাসের স্পর্শ অনুভব করুন। জাপানিরা একে বলে শিরিন ইয়োকু, অর্থাৎ প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা। এটি খুব দ্রুত ম
আমাদের মনের অবস্থাই ঠিক করে দেয় দিনটা কেমন যাবে। মন শান্ত থাকলে কাজ করা সহজ হয়, সম্পর্ক ভালো থাকে, ঘুমও ঠিক হয়। কিন্তু দুশ্চিন্তা শুরু হলে চিন্তা বাড়তে থাকে, মাথা ভার লাগে, মন অস্থির হয়ে যায়। এই অবস্থায় একটু ভিন্নভাবে জীবনকে দেখার দরকার হয়।
জাপানি সংস্কৃতিতে এমন কিছু সহজ অভ্যাস আছে, যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মন ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত চিন্তা কমানোর এমন ৬টি কৌশল।
শোগানাই : যা বদলানো যাবে না, তা মেনে নেওয়া
জাপানিদের একটি বিশ্বাস হলো, যেটা বদলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই, তা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই।
ধরুন কোনো ভুল হয়ে গেছে বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করছেন। তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিন, শোগানাই। এই বিষয়ে এখন কিছু করার নেই। সামনে এগোতেই হবে। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখলে মন অনেকটাই হালকা হয়।
শিরিন ইয়োকু : প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো
মাথা যখন চিন্তায় ভরে যায়, তখন ঘরে বসে না থেকে বাইরে বের হওয়াই ভালো।
কাছের কোনো পার্কে একটু হাঁটুন। গাছের দিকে তাকান, পাখির ডাক শুনুন, বাতাসের স্পর্শ অনুভব করুন। জাপানিরা একে বলে শিরিন ইয়োকু, অর্থাৎ প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা। এটি খুব দ্রুত মনকে শান্ত করে।
নেনবুতসু : একটি শান্ত শব্দ বারবার বলা
মন শান্ত করার জন্য একটি শব্দ বা বাক্য বেছে নিন। যেমন - আল্লাহু আকবর, ওম, শান্তি বা ধন্যবাদ। এই শব্দগুলো মনে মনে বা আস্তে করে বারবার বলুন। শব্দের পুনরাবৃত্তি মনকে ব্যস্ত রাখে এবং অকারণ চিন্তা কমিয়ে দেয়।
জাজেন : নীরবে বসে থাকা
প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট নিজের জন্য রাখুন।
চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসুন। গভীর শ্বাস নিন, আবার ছেড়ে দিন। অন্য কিছু ভাবার দরকার নেই। শুধু নিজের শ্বাস নেওয়ার অনুভূতিতে মন দিন। এই অভ্যাস মাথার ভেতরের অস্থির চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে থামাতে সাহায্য করে।
গামন : ধৈর্য ও সহ্যশক্তি বাড়ানো
জীবনের সব কিছু আমাদের ইচ্ছেমতো হয় না। এটা মেনে নেওয়াটাও এক ধরনের শক্তি। গামন শেখায়, সময়টা কঠিন হলেও এটি স্থায়ী নয়। ধৈর্য ধরে থাকলে পরিস্থিতি বদলাবে। এই মানসিকতা মানুষকে ভেতর থেকে আরও শক্ত করে তোলে।
ওয়াবি সাবি : অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করা
জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে না, আর সেটাই স্বাভাবিক।
ওয়াবি সাবি শেখায় ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্ত খুঁজে নিতে। পুরনো একটি কাপ, জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া আলো, বৃষ্টির শব্দ। এসব সাধারণ জিনিসের মাঝেই লুকিয়ে থাকে প্রশান্তি। জীবনকে যেমন আছে, তেমনভাবেই গ্রহণ করতে শেখায় এই ভাবনা।
মন শান্ত রাখার চাবিকাঠি আসলে আমাদের হাতেই। এই ছয়টি জাপানি অভ্যাস ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনে আনতে পারলে চিন্তা অনেকটাই কমবে, মনও থাকবে হালকা।
মনে রাখবেন, মন ভালো থাকলেই জীবন সুন্দর।
সূত্র : মিডিয়াম
What's Your Reaction?