অনলাইন গেমে আসক্ত সন্তান? ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে
স্মার্টফোন আর দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে অনলাইন গেম এখন শিশু-কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন। তবে এই বিনোদন কখন যে আসক্তিতে পরিণত হয়, অনেক অভিভাবক তা বুঝতেই পারেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলা, পড়াশোনায় অনীহা, পরিবার থেকে দূরে থাকা, রাগান্বিত আচরণ কিংবা রাতে না ঘুমিয়ে গেম খেলা এসবই হতে পারে গেমিং আসক্তির লক্ষণ। বিশ্বজুড়ে কয়েকটি অনলাইন গেম ভয়াবহ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ। এটি প্রচলিত অর্থে একটি সাধারণ ভিডিও গেম ছিল না; বরং অনলাইনে ধারাবাহিক কিছু বিপজ্জনক কাজের নির্দেশনা দেওয়া হতো, যার শেষ ধাপ ছিল আত্মহত্যা। বিভিন্ন দেশে এই চ্যালেঞ্জকে ঘিরে কিশোর-কিশোরীদের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। যদিও অনেক ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করে। এছাড়া মোমো চ্যালেঞ্জ নিয়েও একসময় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেখা যায়, এ নিয়ে প্রচুর গুজব ও অতিরঞ্জিত তথ্যও ছড়িয়েছিল। তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমে নজরদারি না থাকলে তারা ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ বা অনিরাপদ কনটেন্টের মুখোমুখি হতে পারে। আরও পড়ুন
স্মার্টফোন আর দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে অনলাইন গেম এখন শিশু-কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন। তবে এই বিনোদন কখন যে আসক্তিতে পরিণত হয়, অনেক অভিভাবক তা বুঝতেই পারেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলা, পড়াশোনায় অনীহা, পরিবার থেকে দূরে থাকা, রাগান্বিত আচরণ কিংবা রাতে না ঘুমিয়ে গেম খেলা এসবই হতে পারে গেমিং আসক্তির লক্ষণ।
বিশ্বজুড়ে কয়েকটি অনলাইন গেম ভয়াবহ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ। এটি প্রচলিত অর্থে একটি সাধারণ ভিডিও গেম ছিল না; বরং অনলাইনে ধারাবাহিক কিছু বিপজ্জনক কাজের নির্দেশনা দেওয়া হতো, যার শেষ ধাপ ছিল আত্মহত্যা। বিভিন্ন দেশে এই চ্যালেঞ্জকে ঘিরে কিশোর-কিশোরীদের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। যদিও অনেক ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করে।
এছাড়া মোমো চ্যালেঞ্জ নিয়েও একসময় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেখা যায়, এ নিয়ে প্রচুর গুজব ও অতিরঞ্জিত তথ্যও ছড়িয়েছিল। তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমে নজরদারি না থাকলে তারা ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ বা অনিরাপদ কনটেন্টের মুখোমুখি হতে পারে।
অন্যদিকে, পাবজি, ফায়ার ফক্স, রোব্লক্স-এর মতো জনপ্রিয় গেমগুলো সরাসরি প্রাণঘাতী নয়। কিন্তু অতিরিক্ত আসক্তি ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, পড়াশোনায় অবনতি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় টানা গেম খেলতে গিয়ে হৃদ্রোগ, অবসাদ বা অবহেলার কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ছিল অতিরিক্ত গেমিংয়ের প্রভাব, গেম নিজে নয়।
সন্তানকে কীভাবে গেমের আসক্তি থেকে ফেরাবেন?
প্রথমেই সন্তানের ওপর হঠাৎ করে ফোন বা ইন্টারনেট নিষিদ্ধ করে দেবেন না। এতে সে আরও বিরূপ হতে পারে। বরং তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। কেন সে এত গেম খেলছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় একাকিত্ব, মানসিক চাপ বা বন্ধুদের প্রভাব থেকেও গেমের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তৈরি হয়।
নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। প্রতিদিন কতক্ষণ গেম খেলা যাবে, তা পরিবারে আলোচনা করে ঠিক করুন। একই সঙ্গে ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন তৈরি করুন।
শিশুকে বিকল্প আনন্দের সুযোগ দিন। বাইরে খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, সাইকেল চালানো বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ-এসব কার্যক্রম স্ক্রিনের প্রতি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে। অভিভাবকদেরও নিজের স্ক্রিন ব্যবহারে সংযম দেখানো জরুরি, কারণ শিশুরা অনেক কিছুই বড়দের দেখে শেখে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানের আচরণে যদি হঠাৎ বড় পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন অতিরিক্ত রাগ, বিষণ্নতা, বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, খাওয়া-ঘুমে অনিয়ম বা আত্মক্ষতির ইঙ্গিত, তাহলে দেরি না করে একজন শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনলাইন গেম নিজে শত্রু নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞার বদলে সচেতনতা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং ভারসাম্যপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসই সন্তানকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কেএসকে
What's Your Reaction?

