অনিয়মের তথ্য জানতে গিয়ে অবরুদ্ধ সাংবাদিক, হেনস্তার শিকার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা, অনিয়ম ও রোগী হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের জন্য আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখানে ডেলিভারি করাতে এসে অনেক পরিবার নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ফিরেছে, আবার কেউ কেউ ভুল চিকিৎসার কারণে সন্তান হারানো বা প্রতিবন্ধিতার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে কালবেলার প্রতিবেদকসহ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. প্রমি আফরিন সুইটির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং অভিযোগ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালের ম্যানেজার এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের একটি কক্ষে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের মালিক ডা. মীর কাশেম মজুমদার সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা, অনিয়ম ও রোগী হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের জন্য আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এখানে ডেলিভারি করাতে এসে অনেক পরিবার নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ফিরেছে, আবার কেউ কেউ ভুল চিকিৎসার কারণে সন্তান হারানো বা প্রতিবন্ধিতার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে কালবেলার প্রতিবেদকসহ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. প্রমি আফরিন সুইটির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং অভিযোগ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
একপর্যায়ে হাসপাতালের ম্যানেজার এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের একটি কক্ষে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের মালিক ডা. মীর কাশেম মজুমদার সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কালবেলার প্রতিবেদকের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তিনি সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্ত মালিক অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটি স্বাভাবিক ডেলিভারির ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজার করতে চাপ দেয় এবং অতিরিক্ত টেস্টের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে। এমনকি রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থাতেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্যত্র নিতে নিরুৎসাহিত করে।
এক ভুক্তভোগী জানান, ২০২৩ সালে তার স্ত্রী সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নবজাতক হারান এবং চিকিৎসা জটিলতায় ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। অন্য এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার ভাইয়ের নবজাতক স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে হাসপাতালগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের আগস্টের পর থেকে এ উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়নি।
কালবেলার প্রতিবেদক এস এম ইকবাল হোসাইন বলেন, কারো বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়া সেটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এমন আচরণ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেনের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। তথ্য সংগ্রহে গিয়ে তাদের হেনস্তা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
What's Your Reaction?