অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গরু লুটে বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। পেটে লাথি মারার পর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। এ সময় ওই নারী ও নবজাতককে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরিবার এবং আশপাশের লোকজন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় এ সংক্রান্তে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে একই গ্রামের আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২) ও মজিবর মিয়াসহ (৫০) ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে হামলার ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর নাম রোকেয়া আক্তার (৩৮)। তিনি উপজেলার হাটনাইয়া (আলীপুর) গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ রোকেয়ার স্বাভাবিক ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ একই গ্রামের বাসিন্দা ওলিউল্লার ভাগ্নের হাঁস নেমে আংগুর মিয়ার ডোবার পা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গরু লুটে বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। পেটে লাথি মারার পর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। এ সময় ওই নারী ও নবজাতককে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরিবার এবং আশপাশের লোকজন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় এ সংক্রান্তে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে একই গ্রামের আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২) ও মজিবর মিয়াসহ (৫০) ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর নাম রোকেয়া আক্তার (৩৮)। তিনি উপজেলার হাটনাইয়া (আলীপুর) গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ রোকেয়ার স্বাভাবিক ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ একই গ্রামের বাসিন্দা ওলিউল্লার ভাগ্নের হাঁস নেমে আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। সংঘর্ষের সময় আংগুর মিয়ার লোকজন হাঁস লুট করে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আংগুর মিয়ার পক্ষ থেকে করা মামলায় ওলিউল্লাহসহ তার পরিবার ও আত্মীয়দের আসামি করা হয়। এরপর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওলিউল্লার পরিবারের পুরুষরা বাড়িতে না থেকে পালিয়ে বেড়ান। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওলিউল্লার বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তাদের ধরতে অভিযান চালায়। কাউকে না পেয়ে পুলিশ চলে আসে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জন ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালায় এবং গরু লুট করার চেষ্টা করে। এসময় বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় ওলিউল্লার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রোকেয়া গরু লুটে তাদের বাধা দেয়। এতে আংগুর মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়ার পেটে লাথি মারে। অন্যরাও তাকে কিলঘুষি মেরে আহত করে। ওই সময়ই পেটের তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর মৃত সন্তান প্রসব করেন রোকেয়া। পরে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। আর রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ওলিউল্লাহ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর বিচার চাই। এর আগে ওরা আমাদের হাঁস লুট করেছে। পিটিয়ে জখম করে উল্টো মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। আমাদের পালিয়ে থাকার সুযোগে গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করে গোয়ালের গরুগুলো লুট করতে গিয়েছে। বাধা দেওয়ায় আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে।
ভুক্তভোগী রোকেয়ার বড় বোন রুয়েলা আক্তার বলেন, গভীর রাতে বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় আংগুর মিয়াসহ বেশ কয়েকজন। গোয়ালে গিয়ে গরুগুলো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় রোকেয়া গিয়ে বাধা দেয়। এসময় তারা রোকেয়ার পেটে জোরে লাথি মারে এবং কিলঘুষি দেয়। এতে পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এত রাতে মহিলারা আর তাকে হাসাপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি, গাড়িও পাইনি। ভোরে প্রতিবেশী একজন ধাত্রীকে নিয়ে আসি। সকালে বাড়িতেই মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। পরে মা ও নবজাতককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। আগামী এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ স্বাভাবিক ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল রোকেয়ার। আমরা এর বিচার চাই।
মামলার ১ নম্বর আসামী আংগুর মিয়া বলেন, আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল সেই ঘটনাকে আড়াল করার জন্য এখন এসব করা হচ্ছে। আগে যে মামলা হয়েছিল সেই মামলারও ১ নম্বর আসামী আমি। সেই থেকেই পুলিশের ভয়ে আমি বাড়ি ছাড়া। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এই মিথ্যা সাজানো ঘটনা।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?