অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় চলছে বিএনপি সরকার: আনু মুহাম্মদ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি জনগণকে অন্ধকারে রেখে বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, জনগণকে অন্ধকারে রেখে করা সেই চুক্তির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিমান কেনা, এলএনজি আমদানিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এর বাস্তব রূপ দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার আগের সরকারের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাক রেহমান সোবহান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ ভেবেছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ এগোবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি জনগণকে অন্ধকারে রেখে বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, জনগণকে অন্ধকারে রেখে করা সেই চুক্তির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিমান কেনা, এলএনজি আমদানিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এর বাস্তব রূপ দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার আগের সরকারের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
সভায় অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাক রেহমান সোবহান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ ভেবেছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ এগোবে। কিন্তু গত ১০০ দিনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উন্নয়ন দর্শন, নীতি নির্ধারণ, বৈষম্য, বিচারহীনতা ও আন্তর্জাতিক নির্ভরতার জায়গায় আগের সরকারের ধারাবাহিকতাই বজায় রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বড় বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কিন্তু জনগণ কিছুই জানে না। যারা নীতি নির্ধারণ করেন তারা জানেন, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী জানে; কিন্তু জনগণ জানে না। এটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অথচ সেই চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিদের একজন এখন পররাষ্ট্র সচিব। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত জনগণের সামনে আনা হয়নি, সংসদেও আলোচনা হয়নি। অথচ সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বলেছিল—জনসম্মতি ও স্বচ্ছতা ছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে। সরকার যদি এখনো ব্যাখ্যা না দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা সেই পথেই হাঁটছে।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনেও আগের ধারার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন ভাবনা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনমান উপেক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণের ফলে বৈষম্য বেড়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমান সরকারও সেই ধারার বাইরে যেতে পারেনি।
ত্বকী হত্যা, তনু হত্যা, সাগর-রুনি হত্যা ও মুনিয়া হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বহাল রয়েছে মন্তব্য আনু মুহাম্মদ বলেন, বহু আলোচিত ঘটনার বিচার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিচার হয়নি, এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে, তাহলে মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাবে।
সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক মতামতকে অবজ্ঞা বা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী—সবখানেই অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সরকার সংলাপে না গিয়ে আন্দোলনের পেছনে তৃতীয় পক্ষ বা ষড়যন্ত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। এটা আগের সরকারের পুরোনো বয়ানেরই পুনরাবৃত্তি।’
ইএইচটি/জেএইচ
What's Your Reaction?