অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তেও নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশভিত্তিক বৈদেশিক নীতি অনুসরণ না করার কথা বললেও বাস্তবে বাণিজ্যচুক্তির কারণে কার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা হবে, সে ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি খাতকে অর্থনীতির ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক খাতের সঙ্গে মিলেই এ খাত দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। কিন্তু গত প্রায় দেড় দশকে জ্বালানি খাতে নীতিগত বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তেও নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশভিত্তিক বৈদেশিক নীতি অনুসরণ না করার কথা বললেও বাস্তবে বাণিজ্যচুক্তির কারণে কার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা হবে, সে ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ তৈরি হচ্ছে।
জ্বালানি খাতকে অর্থনীতির ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক খাতের সঙ্গে মিলেই এ খাত দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। কিন্তু গত প্রায় দেড় দশকে জ্বালানি খাতে নীতিগত বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
তার অভিযোগ, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের বদলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশীয় গ্যাসের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথেষ্ট অনুসন্ধান ও বিনিয়োগ হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়নি।
অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কেন ঋণের কিস্তি ছাড় করছে না? প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোই বা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে কেন?
তিনি বলেন, অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হলেও তা বাস্তবে প্রয়োগ না হলে কোনো সুফল আসবে না। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কমিশন গঠনের উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত ক্যাবিনেট সাবকমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ সারি কমাতে না পারলে এ কমিটির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি জ্বালানি খাতে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো, ধনীদের ভর্তুকি কমানো, জ্বালানি অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার ওপর জোর দেন।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্কে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, জিয়াউল হক সবুজ ও শেখ আবদুল্লাহ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
What's Your Reaction?