‘অপরাধী সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব’

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম  বজলুর রশীদ বলেছেন, আপনার যে ভাইবোন, পিতা-মাতা, সন্তান অপরাধ করে এই তথ্যটুকু আমাদের দেন। কারণ অপরাধী কিন্তু আপনার ঘরেই থাকে এবং পুলিশ জানার আগে আপনি পিতা-মাতা হিসেবে জানেন। আপনি নিশ্চই জানেন যে, আপনার সন্তান অপরাধ করে কি-না। অপরাধী সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব।  মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৫-এর উদ্যোগে ‘টাউনহল’ মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন’ আপনার সন্তান মাদক সেবন করে কি না? ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আছে কি না? বখাটে কি না? ইভটিজিং করে কি না? অনলাইনে জুয়া খেলে কি না- এগুলো কিন্তু আপনারা জানেন। কাজেই প্রথমে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে- পরিবারের মধ্যে যিনি অপরাধী আছেন এই অপরাধের তথ্যটা আমাদের কাছে দিবেন। তাহলে আমরা মনে করি, একটি সুস্থ সমাজ এবং আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে পারব। প্রাথমিকভাবে হয়তো আপনার কাছে খারা

‘অপরাধী সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব’
রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম  বজলুর রশীদ বলেছেন, আপনার যে ভাইবোন, পিতা-মাতা, সন্তান অপরাধ করে এই তথ্যটুকু আমাদের দেন। কারণ অপরাধী কিন্তু আপনার ঘরেই থাকে এবং পুলিশ জানার আগে আপনি পিতা-মাতা হিসেবে জানেন। আপনি নিশ্চই জানেন যে, আপনার সন্তান অপরাধ করে কি-না। অপরাধী সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব।  মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৫-এর উদ্যোগে ‘টাউনহল’ মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন’ আপনার সন্তান মাদক সেবন করে কি না? ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আছে কি না? বখাটে কি না? ইভটিজিং করে কি না? অনলাইনে জুয়া খেলে কি না- এগুলো কিন্তু আপনারা জানেন। কাজেই প্রথমে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে- পরিবারের মধ্যে যিনি অপরাধী আছেন এই অপরাধের তথ্যটা আমাদের কাছে দিবেন। তাহলে আমরা মনে করি, একটি সুস্থ সমাজ এবং আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে পারব। প্রাথমিকভাবে হয়তো আপনার কাছে খারাপ লাগবে। আপনি মনে করবেন যে আমার পরিবারের মানসম্মানের ব্যাঘাত ঘটবে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। আপনার ঘরে যিনি মাদক সেবনকারী আছেন, যিনি অপরাধী আছেন; তিনি আপনার কিন্তু আরও বেশি অনাদিকালের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে।  বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাজশাহীর অপরাধ অঞ্চল এলাকা কোনগুলো? আমাদের ট্রেন স্টেশন বা ওই এলাকা। এখন আমাদের আরও যুক্ত হয়েছে- শহীদ মিনারের মতো একটি সুন্দর জায়গা। আমাদের বাঁধের পাশের যে স্থানগুলো আপনারা সন্ধ্যার পরে যান। শহীদ মিনারে দেখবেন যে আমাদের ইয়াং ছেলেমেয়েরা এখানে ভালো সময় কাটাচ্ছে। আমরা এটা প্রত্যাশা করি এবং আমরা এপ্রিশিয়েট করি কিন্তু সেখান থেকে অপরাধের জন্ম নিচ্ছে। ঘরে বসে পড়াশোনা করার সময়ে তারা বাঁধের পাশে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। তিনি আরও বলেন, তারা তো কারও না কারো ভাইবোন। কারও না কারও সন্তান। তো সেই পিতামাতা কী দায়িত্ব পালন করছেন? শুধু যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব দায়িত্ব পালন করবে তা তো নয়। আপনি পিতা-মাতা হিসেবে কি দায়িত্ব পালন করছেন? আপনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন? এই সন্তানটি রাত ৯টায় কেন মোবাইল নিয়ে বাঁধের পাশে বসে থাকবে? রাত ৯টার সময় কেন শহীদ মিনারে থাকবে? যারা হোস্টেলে থাকে তাদের হোস্টেল টিউটর কি করেন? হোস্টেলের যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত টিচার থাকেন তারা তাহলে কি করছেন। কাজেই যার যার দায়িত্ব যদি নিজেরা পালন করি, নিজের জবাবদিহির জায়গায় যদি আমরা ঠিক থাকি তাহলে মনে করি যে সবার জন্যই কাজগুলো সহজ হবে। র‌্যাব ৫ এর অধিনায়ক খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ এতে অতিথি ছিলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মোহাম্মদ শামীম হোসেন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, র‌্যাব-৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মনজুরুল কবির পিয়াল, ১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেনসহ রাজশাহী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow