অফিসের বেঁচে যাওয়া চা-বিস্কুট নেওয়ায় ১৭ বছরের চাকরি হারালেন পিয়ন!

অফিস থেকে সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে চাকরি হারিয়েছিলেন এক পিয়ন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে চাকরি করার পর এই সামান্য কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় আদালতে। অবশেষে ওই পিয়নের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আদালত বলেছেন, ১৭ বছরের সেবার পর এমন ছোটখাটো ভুলের জন্য চাকরি থেকে বের করে দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খণ্ডে ঘটেছে এই ঘটনা। আরও পড়ুন ‘যা, মর!’ / পাকিস্তানি শুনে ক্ষুধার্ত সহযাত্রীকে খাবার দিলেন না ভারতীয় লেখিকা জানা যায়, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মরত পিয়ন রঞ্জিত কুমার হিমাংশুকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি এম এস সোনাক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। আদালত বলেন, শাস্তি সব সময় অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী হওয়া উচিত। কর্মীর সামান্য ভুলের কারণে সরকারের যদি কোনো বড় ক্ষতি না হয়, তবে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য

অফিসের বেঁচে যাওয়া চা-বিস্কুট নেওয়ায় ১৭ বছরের চাকরি হারালেন পিয়ন!

অফিস থেকে সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে চাকরি হারিয়েছিলেন এক পিয়ন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে চাকরি করার পর এই সামান্য কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় আদালতে। অবশেষে ওই পিয়নের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

আদালত বলেছেন, ১৭ বছরের সেবার পর এমন ছোটখাটো ভুলের জন্য চাকরি থেকে বের করে দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খণ্ডে ঘটেছে এই ঘটনা।

জানা যায়, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মরত পিয়ন রঞ্জিত কুমার হিমাংশুকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি এম এস সোনাক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

আদালত বলেন, শাস্তি সব সময় অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী হওয়া উচিত। কর্মীর সামান্য ভুলের কারণে সরকারের যদি কোনো বড় ক্ষতি না হয়, তবে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনাটি ২০২২ সালের মার্চের। বোকারোর তৎকালীন ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট কমিশনার (ডিডিসি) নিখোঁজ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে রঞ্জিত হিমাংশুকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তবে ওই নোটিশে ঠিক কোন জিনিসগুলো নিখোঁজ হয়েছিল, তা পরিষ্কার করে বলা ছিল না।

মামলার শুনানির সময় রঞ্জিতের আইনজীবী আদালতকে জানান, তার মক্কেল অফিস থেকে বেঁচে যাওয়া সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। নোটিশ পাওয়ার পর তিনি সেই জিনিসগুলো অফিসে ফেরতও দিয়ে দেন। তা সত্ত্বেও ২০২২ সালের ২ মে তার চুক্তিভিত্তিক চাকরিটি বাতিল করা হয়।

হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রশাসন এই চরম শাস্তি দেওয়ার আগে ওই কর্মীর দীর্ঘদিনের কাজের রেকর্ড এবং অভিযোগের ধরনটি বিবেচনা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

আদালত আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রঞ্জিত হিমাংশুকে তার পদে পুনর্বহাল করার জন্য ডিআরডিএ বোকারো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তার বকেয়া বেতনের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow