অবসরে বুড়িগঙ্গায় ভ্রমণ, অপেক্ষায় নৌকার মাঝিরা

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের একপ্রান্তে নীরবে বয়ে চলেছে বুড়িগঙ্গা নদী। এটি শুধু একটি নদী নয়। এটি পর্যটন, ইতিহাস, জীবিকা আর সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দিনের অবসরে অনেকেই এখানে সময় কাটাতে আসেন। নৌকা ভাড়া করে ভেসে থাকেন নদীর বুকে। এই নদীর পানিতে লুকিয়ে আছে হাজারো মানুষের গল্প। সেই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ নৌকার মাঝিরা। রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় পা রাখলেই চোখে পড়ে নৌকার মাঝিদের জীবনচিত্র। এখানে কেউ থেমে নেই, প্রতিটি মুহূর্ত যেন সংগ্রাম আর টিকে থাকার নিরন্তর প্রচেষ্টা। ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা নেমে পড়েন নদীর বুকে। নিস্তব্ধ ভোরে নদীর কিনারাজুড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা। কেউ কেউ নদীর ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী পাওয়ার অপেক্ষায়। পারাপার কম হলে মাঝিদের অনেকেই গল্প-আড্ডায় ভরিয়ে তোলেন। ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন প্রতিটি নৌকাই একেকটি গল্প। একেকটি পরিবার আর সংগ্রামের প্রতীক। নদীর কোলঘেঁষে থাকা নৌকাগুলো মানুষের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। যাত্রী এলে মাঝিরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে একে একে ডাক দেন। কোথাও কোনো হট্টগোল নেই, নেই অস্থিরতা। সব কিছুই শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে চলছে। যাত্রী তোলা ও নামানোর হাক

অবসরে বুড়িগঙ্গায় ভ্রমণ, অপেক্ষায় নৌকার মাঝিরা

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের একপ্রান্তে নীরবে বয়ে চলেছে বুড়িগঙ্গা নদী। এটি শুধু একটি নদী নয়। এটি পর্যটন, ইতিহাস, জীবিকা আর সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দিনের অবসরে অনেকেই এখানে সময় কাটাতে আসেন। নৌকা ভাড়া করে ভেসে থাকেন নদীর বুকে। এই নদীর পানিতে লুকিয়ে আছে হাজারো মানুষের গল্প। সেই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ নৌকার মাঝিরা।

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় পা রাখলেই চোখে পড়ে নৌকার মাঝিদের জীবনচিত্র। এখানে কেউ থেমে নেই, প্রতিটি মুহূর্ত যেন সংগ্রাম আর টিকে থাকার নিরন্তর প্রচেষ্টা। ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা নেমে পড়েন নদীর বুকে। নিস্তব্ধ ভোরে নদীর কিনারাজুড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা।

কেউ কেউ নদীর ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী পাওয়ার অপেক্ষায়। পারাপার কম হলে মাঝিদের অনেকেই গল্প-আড্ডায় ভরিয়ে তোলেন। ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন প্রতিটি নৌকাই একেকটি গল্প। একেকটি পরিবার আর সংগ্রামের প্রতীক। নদীর কোলঘেঁষে থাকা নৌকাগুলো মানুষের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।

river

যাত্রী এলে মাঝিরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে একে একে ডাক দেন। কোথাও কোনো হট্টগোল নেই, নেই অস্থিরতা। সব কিছুই শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে চলছে। যাত্রী তোলা ও নামানোর হাকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে ঘাট। শান্ত পরিবেশের মাঝেও হঠাৎ প্রাণ ফিরে আসে নদীর তীরে। মাঝিদের ডাক, যাত্রীর সাড়া আর ওঠানামার শব্দে পুরো ঘাটটি জীবন্ত হয়ে ওঠে।

একসময় নদীর বুকে ছিল বৈঠাচালিত নৌকার রাজত্ব। মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে নদীতে ঘুরে বেড়ানো বা পণ্য পরিবহন—সবকিছুর প্রধান ভরসা ছিল নৌকা। মাঝিরাই ছিলেন তার অপরিহার্য অংশ। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নদীর বুকে জায়গা করে নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। সংখ্যা কম হলেও গতি ও সুবিধার কারণে এগিয়ে গেছে এসব নৌকা।

দ্রুততার এ দৌড়ে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছেন ঐতিহ্যবাহী বৈঠার মাঝিরা। তাদের হাতের বৈঠার টান, নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে চলা আজ সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার পথে। তবুও মাঝিরা থেমে যাননি। প্রতিকূলতার মাঝেও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন নিজেদের পেশা।

river

মাত্র ১০ টাকার ভাড়ায় তারা যাত্রী পারাপার করেন। এই অল্প আয়ের ওপরই টিকে থাকে সংসারের নিত্য খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনা। সময়ের সঙ্গে মাঝির সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রী কমেছে, বেড়েছে প্রতিযোগিতা, কমেছে আয়। একটু বাড়তি আয়ের জন্য কেউ কেউ ঘণ্টা বা দিনের ভিত্তিতে নৌকা চালান। বিশেষ করে যারা নদীতে ঘুরতে চান।

এমন সুযোগ সব সময় আসে না। ঝড়-বৃষ্টির দিনে আয় একদমই কম। কারণ তখন যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকে। এমনও দিন যায়, একদম যাত্রীই মেলে না। তাই মাঝে মাঝে ঘুরতে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বাড়তি টাকা চেয়ে নেন অনেকেই। দিন শেষে নৌকার ভাড়া বাবদ দিতে হয় ১৩০ টাকা। তার সঙ্গে খাওয়ার খরচও যোগ হয়। সারাদিনের পরিশ্রমের পর হাতে যা থাকে, তা-ই পরিবারের একমাত্র ভরসা।

ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন মাঝিরা। কেউ যাত্রী পারাপার করেন, কেউ নৌকা মেরামত করেন, কেউ আবার যাত্রীদের মালপত্র তুলতে সাহায্য করেন। নদীর বুকে ভাসতে ভাসতে তারা দেখেন শহরের দ্রুতগামী জীবন। সব মিলিয়ে নদীর সঙ্গে মাঝির সম্পর্ক শুধু পেশাগত নয়, আবেগেরও। তারা নদীকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন।

river

দিন শেষে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখনো কেউ নদীতে শেষ যাত্রীর অপেক্ষায় থাকেন, কেউ নৌকা গুছিয়ে বাড়ির পথে হাঁটেন। ক্লান্ত শরীর কিন্তু মনে একটাই প্রশ্ন—আগামীকাল কি একটু ভালো হবে? বুড়িগঙ্গার মাঝিদের জীবন নিঃশব্দ সংগ্রামের গল্প। তারা শহরের অংশ হয়েও অনেকটাই অদৃশ্য। অথচ তাদের ছাড়া এ শহরের নদীপথ কল্পনা করা যায় না।

বুড়িগঙ্গার অনিবার্য অধ্যায় মাঝিরা। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা আজও গেয়ে চলেছেন টিকে থাকার গান। তবে একটু পর্যটনকেন্দ্রিক পরিকল্পনাই হয়তো তাদের আশার আলো হয়ে দেখা দিতে পারে। বুড়িগঙ্গার এই নৌকাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে বিনোদনকেন্দ্র। অবসরে নির্মল বাতাস আর শান্ত জলে সান্নিধ্য পেতে পারেন নগরবাসী।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow