অভিযান মানেই রোমাঞ্চ নয়, অদৃশ্য যন্ত্রণাদায়ক লড়াই
বিকট শব্দে দুই দিক থেকে ধেয়ে আসা দুটো ট্রেনের দানবীয় গর্জন তখন চারপাশ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি ঠিক মাঝখানে; মৃত্যুশীতল এই কুড়িলের দুই রেললাইনের মাঝখানে। গলার শিরদাঁড়া ফুলিয়ে আমি চিৎকার করছি। কিন্তু সেই চিৎকারের শব্দ ট্রেনের প্রচণ্ড শব্দের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে। ট্রেন দুটি একে অপরকে অতিক্রম করতে যতটা সময় নিলো, আমার ভেতরের জমানো আগ্নেয়গিরিও ঠিক ততটা সময় ধরেই লাভা উগরে দিলো। এই চিৎকার কোনো মানুষের কানে শোনার জন্য নয়। এই চিৎকার কেবল আকাশ শুনুক, এই চিৎকার শুনুক মহাকাল। এতে মিশে আছে বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো হাড়ভাঙা লড়াই, প্রতিটি ব্যর্থতায় ঝরে পড়া নোনা জল আর একবুক জমানো পাহাড় সমান হতাশা। কিন্তু আজ এই চিৎকার কেবল যন্ত্রণার নয়; এ হলো তীব্র আনন্দের। ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে সেই পরম সত্যের মুখোমুখি হলাম। অভিযান শুরু হচ্ছে। আর কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ নেই। ঠিক আজ রাতেই সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য সমুদ্রের নোনা জলের কক্সবাজার। আর আগামীকাল ভোরে? ভোরে শুরু হবে এক মহাকাব্যিক যাত্রা। আরও পড়ুনপর্বতারোহীদের কোন দেশে কী পুরস্কার দেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি ছুঁয়ে শুরু হবে আমার সেই মহাকাব্যিক যাত্রা, যার শ
বিকট শব্দে দুই দিক থেকে ধেয়ে আসা দুটো ট্রেনের দানবীয় গর্জন তখন চারপাশ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি ঠিক মাঝখানে; মৃত্যুশীতল এই কুড়িলের দুই রেললাইনের মাঝখানে। গলার শিরদাঁড়া ফুলিয়ে আমি চিৎকার করছি। কিন্তু সেই চিৎকারের শব্দ ট্রেনের প্রচণ্ড শব্দের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ট্রেন দুটি একে অপরকে অতিক্রম করতে যতটা সময় নিলো, আমার ভেতরের জমানো আগ্নেয়গিরিও ঠিক ততটা সময় ধরেই লাভা উগরে দিলো। এই চিৎকার কোনো মানুষের কানে শোনার জন্য নয়। এই চিৎকার কেবল আকাশ শুনুক, এই চিৎকার শুনুক মহাকাল। এতে মিশে আছে বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো হাড়ভাঙা লড়াই, প্রতিটি ব্যর্থতায় ঝরে পড়া নোনা জল আর একবুক জমানো পাহাড় সমান হতাশা। কিন্তু আজ এই চিৎকার কেবল যন্ত্রণার নয়; এ হলো তীব্র আনন্দের।
ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে সেই পরম সত্যের মুখোমুখি হলাম। অভিযান শুরু হচ্ছে। আর কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ নেই। ঠিক আজ রাতেই সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য সমুদ্রের নোনা জলের কক্সবাজার। আর আগামীকাল ভোরে? ভোরে শুরু হবে এক মহাকাব্যিক যাত্রা।
বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি ছুঁয়ে শুরু হবে আমার সেই মহাকাব্যিক যাত্রা, যার শেষ সীমানা পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর, এভারেস্টের চূড়ায়। শরীরে অদ্ভুত এক শিহরণ, যা ট্রেনের কম্পনের চেয়েও তীব্র এক কম্পন আজ আমার হৃদপিণ্ডে। আমি জানি, এই চিৎকারের পর যে নীরবতা, সেই নীরবতাই হবে আমার আগামী দিনে এগিয়ে চলার একমাত্র মন্ত্র।
অথচ এতকিছুর পরেও যাত্রার শুরুতেই আমি দাঁড়িয়ে আছি এক অদ্ভুত বিশৃঙ্খলার মধ্যে। রুকস্যাক পড়ে আছে অবহেলায় ধুলা গায়ে মেখে, জামাকাপড় অগোছালো, কাগজপত্রের ভাঁজে লুকানো চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। অভিযানের সময় যত এগিয়ে আসছে, মনে হচ্ছে আমি প্রস্তুতির চেয়ে বেশি লড়াই করছি সময়ের, বাস্তবতার আর নিজের ভেতরের এক অদৃশ্য ভয়ের ভয়ংকর দেও-এর সাথে।
অনেকেই ভাবেন, অভিযানে যাওয়া মানেই রোমাঞ্চ আর রোমাঞ্চ। কিন্তু এর পেছনে থাকে এক অদৃশ্য যন্ত্রণাদায়ক লড়াই। অর্থ সংগ্রহের লড়াই, অনুমতির দীর্ঘসূত্রতা, যাত্রার প্রতিটি ধাপে হোঁচট খাওয়া, অনিশ্চয়তার বিরান ভূমি; সব মিলিয়ে যেন প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত একেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। এ যেন পাহাড়ে ওঠার আগেই যুদ্ধ করছি পাহাড়সম বাঁধার সঙ্গে।
আমি বিশ্বাস করি, যারা সেই লড়াইয়ের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারেন; তারাই শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন।
এসইউ
What's Your Reaction?