অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে ঢুকছে পানি, ঝুঁকিতে ৯ হাজার হেক্টর জমি
টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ৮২টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে নজরখালী বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে দ্রুত ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম ও বজলু মিয়া জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এই বাঁধে কোনো কাজ করেনি। ফলে কৃষকদের নিজ উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হচ্ছে। জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (রামসার সাইট) হওয়ায় নজরখালী বাঁধটি এখনো পাউবোর তালিকাভুক্ত হয়নি। এর ফলে সরকারি কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্পের আওতায় না আসায় বছরের পর বছর অবহেলিত রয়েছে বাঁধটি। নজরখালী বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্
টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ৮২টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে নজরখালী বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে দ্রুত ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম ও বজলু মিয়া জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এই বাঁধে কোনো কাজ করেনি। ফলে কৃষকদের নিজ উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হচ্ছে।
জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (রামসার সাইট) হওয়ায় নজরখালী বাঁধটি এখনো পাউবোর তালিকাভুক্ত হয়নি। এর ফলে সরকারি কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্পের আওতায় না আসায় বছরের পর বছর অবহেলিত রয়েছে বাঁধটি।
নজরখালী বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এই অঞ্চলে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অংশ এবং মধ্যনগর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়।
স্থানীয় কৃষক আব্দুছ সালাম ও আবদুল জলিল জানান, প্রতি বছর ফসল রক্ষায় কৃষকদেরই চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে হয়। এবারও প্রতি কিয়ার জমির জন্য ৩০০ টাকা হারে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে বাঁশ, চাটাই ও বস্তা কিনে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রূপনগর, রংচী, খিদিরপুর, আমানীপুর, আন্তরপুরসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকরা জানান, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে গনিয়াকুড়ি, নান্দিয়া, রাঙামাটিয়া ও সামসাগরসহ বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার ফসল তলিয়ে যাবে। এতে পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ করেন। প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন জানিয়েও নজরখালী বাঁধটি পাউবোর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষকদের দুর্ভোগ কমছে না।
এদিকে, চলতি অর্থবছরে তাহিরপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৮৮টি প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নজরখালী বাঁধটি অনুমোদিত তালিকায় স্থান পায়নি। এতে চারটি ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত নয়। তাই আমাদের পক্ষে এ বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।
What's Your Reaction?