অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী: নারীবাদের দ্বন্দ্বময় সংলাপ
ফারজানা অনন্যা আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১) বাংলা সাহিত্যের বিরল ব্যক্তিত্ব। যিনি প্রথাকে ভাঙতে ভয় পাননি, সমাজকে ভয় পাননি, প্রতিষ্ঠানকে তোয়াক্কা করেননি এবং নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ অভিজ্ঞতাকেও সাহিত্যের আলোয় আনতে দ্বিধা করেননি। ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ (১৯৯৬) তাঁর সেই প্রথাবিরোধী সাহসের উজ্জ্বল দলিল। উপন্যাসটি আত্মজৈবনিক, প্রেমের আখ্যান এবং একইসাথে নারীকে বোঝার পুরুষের আজীবনের অসম্পূর্ণ চেষ্টার বয়ান। কিন্তু নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে উপন্যাসটি পাঠ করলে একটি গভীর প্রশ্ন উঠে আসে যে, এখানে নারী কি নিজের ভাষায় কথা বলেন, নাকি পুরুষের দর্পণে নিজের প্রতিফলন দেখেন মাত্র? ফরাসি তাত্ত্বিক সিমোন দ্য বোভোয়ার তাঁর ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’ (১৯৪৯) গ্রন্থে বলেছিলেন, পুরুষ হলো ‘সত্তা’ আর নারী হলো ‘অপর’। পুরুষ নিজেকে কেন্দ্র ধরে নারীকে সংজ্ঞায়িত করে; নারীর অস্তিত্ব তাই সর্বদা পুরুষের সাপেক্ষে নির্মিত। ছফার এ উপন্যাসে কথক জাহিদ, যিনি মূলত লেখক স্বয়ং। অর্থাৎ আহমদ ছফা তাঁর জীবনে আসা দুই নারী দুরদানা ও শামারোখকে নিজের অনুভূতির আলোয় বর্ণনা করেছেন। নারী দুজন এখানে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিয়ে উপস্থিত নন বরং একজন
ফারজানা অনন্যা
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১) বাংলা সাহিত্যের বিরল ব্যক্তিত্ব। যিনি প্রথাকে ভাঙতে ভয় পাননি, সমাজকে ভয় পাননি, প্রতিষ্ঠানকে তোয়াক্কা করেননি এবং নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ অভিজ্ঞতাকেও সাহিত্যের আলোয় আনতে দ্বিধা করেননি। ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ (১৯৯৬) তাঁর সেই প্রথাবিরোধী সাহসের উজ্জ্বল দলিল। উপন্যাসটি আত্মজৈবনিক, প্রেমের আখ্যান এবং একইসাথে নারীকে বোঝার পুরুষের আজীবনের অসম্পূর্ণ চেষ্টার বয়ান। কিন্তু নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে উপন্যাসটি পাঠ করলে একটি গভীর প্রশ্ন উঠে আসে যে, এখানে নারী কি নিজের ভাষায় কথা বলেন, নাকি পুরুষের দর্পণে নিজের প্রতিফলন দেখেন মাত্র?
ফরাসি তাত্ত্বিক সিমোন দ্য বোভোয়ার তাঁর ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’ (১৯৪৯) গ্রন্থে বলেছিলেন, পুরুষ হলো ‘সত্তা’ আর নারী হলো ‘অপর’। পুরুষ নিজেকে কেন্দ্র ধরে নারীকে সংজ্ঞায়িত করে; নারীর অস্তিত্ব তাই সর্বদা পুরুষের সাপেক্ষে নির্মিত। ছফার এ উপন্যাসে কথক জাহিদ, যিনি মূলত লেখক স্বয়ং। অর্থাৎ আহমদ ছফা তাঁর জীবনে আসা দুই নারী দুরদানা ও শামারোখকে নিজের অনুভূতির আলোয় বর্ণনা করেছেন। নারী দুজন এখানে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিয়ে উপস্থিত নন বরং একজন পুরুষ পর্যবেক্ষকের স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষার ভেতর দিয়ে নির্মিত হয়েছেন। নির্মাণপ্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, ছফা একদিকে প্রথাবিরোধী; অন্যদিকে তিনিও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণের বাইরে পুরোপুরি যেতে পারেননি।
লরা মালভে ১৯৭৫ সালে তাঁর যুগান্তকারী প্রবন্ধ ‘ভিজ্যুয়াল প্লেজার অ্যান্ড ন্যারেটিভ সিনেমা’তে পুরুষ দৃষ্টিভঙ্গির ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। মালভের মতে, পুরুষ সৃষ্টিকর্তা তাঁর রচনায় নারীকে দর্শনের বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করেন; নারী সক্রিয় বিষয়ী নয় বরং দৃষ্টির নিষ্ক্রিয় লক্ষ্য। যদিও মালভের তত্ত্বটি চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক, সাহিত্যতত্ত্বেও এর প্রয়োগ সমানভাবে অর্থবহ। ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ উপন্যাসে শামারোখের শরীরের বর্ণনা, তাঁর সৌন্দর্যের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ এবং দুরদানার দেহের প্রতি জাহিদের প্রতিক্রিয়াই মালভের ‘মেল গেজ’-এর কাঠামোর সাথে স্পষ্টভাবে সংযুক্ত। ছফা স্বয়ং লিখেছেন, ‘সুন্দরী মাত্রই বেশি আকর্ষণীয়া’। এ স্বীকারোক্তি সৎ এবং সাহসী কিন্তু নারীকে সৌন্দর্যের মানদণ্ডে বিচার করার প্রবণতাটি এখানে অটুট থাকে। তবে এখানেই ছফার বিশিষ্টতা এবং এখানেই তাঁর রচনাকর্মের নারীবাদী পাঠের জটিলতা।
দুরদানা চরিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই ষাট-সত্তরের দশকে শার্ট-প্যান্ট পরে, সাইকেল চালিয়ে, পকেটে ছুরি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই তরুণী আসলে বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসে অতি বিরল প্রতিচ্ছবি। দুরদানা প্রচলিত নারীত্বের সংজ্ঞাকে অস্বীকার করেন; তিনি যাপন করেন নিজের শর্তে, নিজের ভাষায়। বাস্তব জীবনে চরিত্রটি ছিলেন ভাস্কর শামীম শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’র নির্মাতা। একজন নারী যিনি পাথর কেটে স্বাধীনতার রূপ গড়েছেন, পরিচয়টি নিজেই একটি নারীবাদী বিবৃতি। ছফা এই নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ঠিক এ কারণেই অর্থাৎ তাঁর ‘অ-নারীসুলভ’ স্বাতন্ত্র্যের কারণে। ছফার ভাষায়, ‘নারী আসলে যা, তার বদলে যখন সে অন্যকিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার আকর্ষণ করার শক্তি হাজার গুণ বেড়ে যায়।’ (৬ পরিচ্ছেদ)। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, দুরদানার নারীত্ব প্রকাশ পেলে জাহিদ কেন সরে যান? কারণ তিনি দুরদানাকে ভালোবেসেছিলেন তাঁর ‘অ-নারী’ সত্তার জন্য, নারী হিসেবে নয়। এই প্রেমের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পুরুষতান্ত্রিক দ্বন্দ্ব: নারী যখন তার সামাজিকভাবে নির্মিত ভূমিকার বাইরে যান, তখন পুরুষ মুগ্ধ হয়; কিন্তু সেই নারী যখন আবার ‘নারী’ হয়ে ওঠেন, তখন পুরুষ বিভ্রান্ত হয়ে পিছু হটেন।
জুডিথ বাটলার তাঁর ‘জেন্ডার ট্রাবল’ (১৯৯০) গ্রন্থে বলেছেন, লিঙ্গ পরিচয় কোনো স্থায়ী সত্তা নয়, এটি বারবার সম্পাদিত একটি সামাজিক পারফরম্যান্স। দুরদানা সেই পারফরম্যান্সকে ভাঙছিলেন পুরুষের পোশাক পরে, পুরুষের গতিতে চলে, পুরুষের সাহসে কথা বলে। ছফা এই ভাঙনকে প্রেমের উপাদান করেছেন, যা তাঁর প্রথাবিরোধিতার প্রমাণ। কিন্তু বাটলারের তত্ত্বের আলোয় আরও গভীরে গেলে বোঝা যায় যে, দুরদানার ‘পুরুষালি’ আচরণকে আকর্ষণীয় মনে করার মধ্যে একটি সমস্যা থেকে যায়। কারণ তখনো পুরুষালি বৈশিষ্ট্যকেই ‘শক্তিশালী’ এবং ‘মূল্যবান’ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, নারীর নিজস্ব সত্তাকে নয়।
শামারোখের ক্ষেত্রে আরেকটি জটিল প্রশ্ন দেখা দেয়। তিনি উচ্চশিক্ষিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, স্বামীর ঘর ছেড়ে স্বাধীনভাবে বাঁচার চেষ্টা করছেন; এ অর্থে তিনি নারীর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক। কিন্তু আখ্যানে তিনি উপস্থিত হন প্রধানত জাহিদের সহায়তাপ্রার্থী হিসেবে, তাঁর সৌন্দর্যের বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে এবং শেষ পর্যন্ত পুরুষ থেকে পুরুষে বিচরণের একটি আখ্যান হিসেবে। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক ‘ক্যান দ্য সাবঅল্টার্ন স্পিক?’ প্রবন্ধে জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রান্তিক নারীর নিজস্ব কণ্ঠস্বর কি আদৌ শোনা যায়, নাকি সব সময় অন্যের ভাষ্যের মধ্য দিয়ে তিনি উপস্থিত হন?
শামারোখ বা দুরদানার নিজের কণ্ঠস্বর এ উপন্যাসে কার্যত অনুপস্থিত। তাঁরা জাহিদের স্মৃতি ও ভাষার ভেতর দিয়ে বেঁচে আছেন, নিজের জবানিতে নয়। কিন্তু এখানেই ছফাকে সম্পূর্ণ দোষারোপ করে শেষ করলে অবিচার হবে। কারণ ছফা এমন কিছু কথা বলেছেন, যা তাঁর সময়ের বিচারে অত্যন্ত সাহসী। তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, প্রেমে শরীর একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান, যা বাংলা সাহিত্যে প্রায়ই ভণিতায় ঢেকে রাখা হয়। এই সততা তাঁর প্রথাবিরোধিতারই অংশ। তিনি একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে দাঁড়িয়ে দুরদানার মতো ‘অপ্রচলিত’ নারীকে প্রেমের যোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন, এটি তুচ্ছ নয়। শামারোখের প্রতি তিনি অপূর্ব সৌন্দর্য ও প্রবল জেদ থেকেই আকৃষ্ট হয়েছিলেন, এ কথাও স্বীকার করেছেন অবলীলায়। শামারোখের চোখের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তার চোখ দুটো যেন চোখে নয়, থরোথরো কম্পিত হৃদয়।’ (১১ পরিচ্ছেদ)। সেই সত্তরের দশকে শামারোখকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দিতে নিজের শত্রুদের সংখ্যা বাড়িয়েছেন, একজন নারীর পেশাগত মর্যাদার জন্য লড়াই করেছেন। এটি সেকালের বিচারে উল্লেখযোগ্য।
তবুও নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে যে প্রশ্নটি অমীমাংসিত থেকে যায়, তা হলো ছফা নারীকে বুঝতে চেয়েছেন পুরুষের প্রয়োজনের জায়গা থেকে। জাহিদ বলেছেন, প্রতিটি পুরুষ একটি ‘সম্পূর্ণ নারী’কে কামনা করে এবং তা না পেয়ে ‘খণ্ড খণ্ড নারীতে’ সন্তুষ্ট থাকে। এই দর্শনে নারী পুরুষের সম্পূর্ণতার উপকরণ, নারীর নিজস্ব সম্পূর্ণতার কথা এখানে অনুচ্চারিত। এটিই বোভোয়ারের ‘অপর’ নারীর আধুনিক রূপ।
আজকের বাংলাদেশে, যেখানে নারীর স্বায়ত্তশাসন, যৌন স্বাধীনতা এবং পেশাগত পরিচয় নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ পাঠ করলে উপন্যাসটি আরও বহুমাত্রিক হয়ে ওঠে। দুরদানা আজকের প্রেক্ষাপটে হয়তো একজন কোয়ার ফেমিনিস্ট আইকন হতেন। শামারোখ হয়তো নিজের গল্প নিজেই লিখতেন, জাহিদের স্মৃতির মুখাপেক্ষী হতেন না। কিন্তু সেটি ছফার উপন্যাসের ব্যর্থতা নয়, সেটি তাঁর কালের সীমাবদ্ধতা।
ছফার সত্যিকারের মহত্ব এ উপন্যাসে এখানে যে, তিনি পুরুষের অপূর্ণতাকে স্বীকার করেছেন অকুণ্ঠে। জাহিদ বারবার ব্যর্থ হয়েছেন, বারবার হেরেছেন এবং সেই হারটিকে লুকাননি। এই স্বীকারোক্তিতে একটি আত্মসমালোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্য অনেক পুরুষ লেখকের রচনায় অনুপস্থিত। কিন্তু নারীবাদ চায় কেবল পুরুষের অপূর্ণতার স্বীকারোক্তি নয়, চায় নারীর পূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি।
‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ তাই একটি দ্বিধার উপন্যাস, প্রথাবিরোধী কিন্তু পুরুষদৃষ্টিমুক্ত নয়, সৎ কিন্তু নারীর নিজস্ব কণ্ঠস্বরবর্জিত। এটিকে সম্পূর্ণ নারীবিরোধী বলা যায় না, আবার নারীবাদী বলাও অতিরিক্ত দাবি হয়ে যায়। বরং এটি একটি পুরুষের আন্তরিক কিন্তু অসম্পূর্ণ যাত্রার দলিল; নারীকে বোঝার চেষ্টা, নারীর কাছাকাছি যাওয়ার প্রয়াস, কিন্তু নারীর ভেতর থেকে দেখার অক্ষমতা। সেই অক্ষমতা আহমদ ছফার একার নয়; এটি পুরুষতন্ত্রের সেই চিরকালীন সীমারেখা, যা ভাঙতে এখনো আমাদের অনেকটা পথ বাকি।
তবু ইতিহাসের বিচারে একটি কথা অবশ্যই বলতে হয়, আহমদ ছফা তাঁর সময়ের তুলনায় নারীকে দেখার প্রশ্নে বাঙালি পুরুষদের চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন। যে সমাজে নারীর প্রেম গোপন রাখতে হয়, শরীরকে লুকিয়ে রাখতে হয়, স্বাধীনতাকে লজ্জার মতো বহন করতে হয়; সেই সমাজে দাঁড়িয়ে দুরদানার স্বাতন্ত্র্যকে ভালোবাসা, শামারোখের পেশাগত অধিকারের জন্য লড়া এবং নিজের প্রেমের ব্যর্থতাকে অকপটে স্বীকার করা, এগুলো সামান্য কাজ নয়। ছফা নারীকে আদর্শায়িত করেননি, আবার অবমাননাও করেননি; বরং নারীকে বুঝতে চেয়েছেন তাঁর সমস্ত জটিলতা সমেত। এই চেষ্টাটুকুই তাঁকে তাঁর কালের বাঙালি পুরুষ লেখকদের মধ্যে আলাদা করে রাখে। নারীবাদ যদি কেবল নারীর অধিকারের দাবি না হয়ে নারীকে একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখার অঙ্গীকারও হয়, তাহলে ছফা সেই অঙ্গীকারের দিকে পুরোপুরি না হলেও, আংশিক মুখ ফিরিয়েছিলেন।
প্রথাবিরোধী মানুষটি জীবনে যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে মাথা নোয়াননি, তেমনি সাহিত্যেও সত্যকে সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিবেশন করেননি। এ নির্ভীক সততাই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার। জন্মদিনে এই মহৎ, জটিল, অনন্য মানুষটির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
এসইউ
What's Your Reaction?



