অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি 

ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় তাকে চিরবিদায় জানায় তার দেশবাসী। তবে তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনো দেখা যায়নি জনসমক্ষে।  বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাতে খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহব্যাপী জানাজা, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটল। একই সময়ে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে খামেনির মরদেহ ইমাম রেজা (আ.) মাজারে নেওয়া হয়। মরদেহবাহী গাড়ির দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাদের পেছনে কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ইরান ও ইরাকে এক সপ্তাহ ধরে চলা শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম নিশ্চিত করতে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব ব্যাপক উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও আদর্শিক ঐক্য প্রদর্শনের চেষ

অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি 

ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় তাকে চিরবিদায় জানায় তার দেশবাসী। তবে তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনো দেখা যায়নি জনসমক্ষে। 

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাতে খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহব্যাপী জানাজা, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটল। একই সময়ে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতও শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে খামেনির মরদেহ ইমাম রেজা (আ.) মাজারে নেওয়া হয়। মরদেহবাহী গাড়ির দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাদের পেছনে কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

ইরান ও ইরাকে এক সপ্তাহ ধরে চলা শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম নিশ্চিত করতে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব ব্যাপক উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও আদর্শিক ঐক্য প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। 

তবে দীর্ঘ কয়েক মাসের যুদ্ধে টিকে গেলেও ইরান এখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে। খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের উত্তরাধিকার নিয়েও দেশটিতে মতভেদ রয়েছে। খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মার্চের শুরুতে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি আর জনসমক্ষে আসেননি।  

এ সময় তিনি কয়েকটি লিখিত বিবৃতি দিলেও তার কোনো ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠ রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, যে হামলায় তার বাবা নিহত হন, সেই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মুখ বিকৃত হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক আঘাত লাগে। তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবে এখনো প্রকাশ্যে আসার মতো অবস্থায় নেই। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও তার জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখছে।

মাশহাদে খামেনির দাফন উপলক্ষে জড়ো হওয়া জনতার একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেয়।

তারা স্লোগান দেয়, ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্তের শপথ, ট্রাম্প, আমরা তোমাকে হত্যা করব।’ এ সময় কয়েকজন নারী ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ লেখা প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করেন।

সন্ধ্যার পর ইমাম রেজা (আ.) মাজারের প্রাঙ্গণ হাজারো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। লাউডস্পিকারে শোকসংগীত ও শিয়া ধর্মীয় বিলাপের পাশাপাশি জনতার ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান শোনা যায়। 

অত্যধিক ভিড়ের কারণে শেষ অংশে হেলিকপ্টারের সাহায্যে খামেনির কফিন মাজারের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তার বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি জানাজায় ইমামতি করেন। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন বহন করে শোকাহতরা মাজারের ভেতরে নিয়ে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত অনেকেই মোমবাতি হাতে কফিনের দিকে হাত বাড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।  

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের পরও কৌশলগতভাবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে যুদ্ধের কারণে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আলি খামেনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা নিজের কার্যালয়ের অধীনে কেন্দ্রীভূত করেন। এই প্রক্রিয়ায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসাও এই বাহিনীর সমর্থনেই হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow