অস্তিত্ব সংকটে ‘জিয়া খাল’
নাটোরের গুরুদাসপুরে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। আত্রাই নদী থেকে উৎসারিত এক সময়ের প্রমত্তা এই খালটি বর্তমানে অবৈধ দখল, দূষণ এবং দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় মৃতপ্রায়। খালটি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কখনো একটি প্রবাহমান খাল ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদী থেকে বের হয়ে খালটি পৌরসদরের চাঁচকৈড় মৎস্যজীবী পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ কান্দিপাড়া, তারবাড়িয়া, কচুগাড়ি এবং পাবনার চাটমোহরের ছাইকোলা হয়ে সিরাজগঞ্জের হুসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমে চলনালী, পাঁচশিশা এবং দক্ষিণে নাড়িবাড়ী ও সেনাবাজু হয়ে তুলশীগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করত। চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলায় জিয়া খালসহ মোট ৩৯টি খাল রয়েছে, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৩ কিলোমিটার। তবে এসব খালের বেশিরভাগই এখন অবহেলিত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও ‘জিয়া খাল’ এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি
নাটোরের গুরুদাসপুরে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। আত্রাই নদী থেকে উৎসারিত এক সময়ের প্রমত্তা এই খালটি বর্তমানে অবৈধ দখল, দূষণ এবং দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় মৃতপ্রায়। খালটি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কখনো একটি প্রবাহমান খাল ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদী থেকে বের হয়ে খালটি পৌরসদরের চাঁচকৈড় মৎস্যজীবী পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ কান্দিপাড়া, তারবাড়িয়া, কচুগাড়ি এবং পাবনার চাটমোহরের ছাইকোলা হয়ে সিরাজগঞ্জের হুসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমে চলনালী, পাঁচশিশা এবং দক্ষিণে নাড়িবাড়ী ও সেনাবাজু হয়ে তুলশীগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করত।
চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলায় জিয়া খালসহ মোট ৩৯টি খাল রয়েছে, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৩ কিলোমিটার। তবে এসব খালের বেশিরভাগই এখন অবহেলিত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও ‘জিয়া খাল’ এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে এই খালটির খননের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তার নামানুসারেই ‘জিয়া খাল’ নামকরণ করা হয়। খননের পর খালটির প্রস্থ কোথাও ২৬ ফুট, কোথাও ৪০ ফুট ছিল এবং গভীরতাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু বর্তমানে খালের চাঁচকৈড় মৎস্যজীবী পাড়া থেকে চরকাদহ কান্দিপাড়া পর্যন্ত অংশে অবৈধ দখলদাররা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি গড়ে তুলেছে। ফলে খালটি তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, একসময় এই খালে বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় নৌকা চলাচল করত। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ ছিল এবং শুকনো মৌসুমেও খালে পানি থাকত, যা কৃষিকাজে সহায়ক ছিল। বর্তমানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, জিয়া খাল পুনর্খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত খনন কাজ শুরু করা হবে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, জিয়া খাল পুনর্খননের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অচিরেই খনন কাজ শুরু হবে এবং খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় প্রবাহমান করা হবে।
এ বিষয়ে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গুরুদাসপুরে অবস্থিত জিয়া খালকে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আমি সচেষ্ট থাকব। জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করার পাশাপাশি খাল পুনর্খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে খনন কাজের উদ্বোধনের ব্যবস্থাও করা হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী জিয়া খালকে পুনরায় প্রাণবন্ত করে তোলা হবে।
What's Your Reaction?