অস্থির সমাজে দুর্বল পুলিশিং, লাগামহীনভাবে ঘটছে খুনখারাবি
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী হয়ে এখন দেশ পরিচালনার ভার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাঁধে। দেড় বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এসব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সমাজ হয়ে আছে অস্থির। অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনী রয়েছে দুর্বল অবস্থায়। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সামাজিক-পারিবারিক বিরোধে লাগামহীনভাবে ঘটছে খুনখারাবি। এসব রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে তারা কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সারাদেশে মোট হত্যা মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪২টি। যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসের তুলনায় যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। হত্যার হার ঊর্ধ্বমুখী পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে যথাক্রমে ২৩১, ২৪০, ২৩৯ ও ২৯৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। মোট মামলা এক হাজার ছয়টি। ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩টি জেলায় এই চার মাসে এমন মামলা হয় যথাক্রমে ৫৯, ৫৪, ৬০ ও ৭৫টি। আর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় এর
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী হয়ে এখন দেশ পরিচালনার ভার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাঁধে। দেড় বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এসব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সমাজ হয়ে আছে অস্থির। অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনী রয়েছে দুর্বল অবস্থায়।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সামাজিক-পারিবারিক বিরোধে লাগামহীনভাবে ঘটছে খুনখারাবি। এসব রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে তারা কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সারাদেশে মোট হত্যা মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪২টি। যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসের তুলনায় যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।
হত্যার হার ঊর্ধ্বমুখী
পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে যথাক্রমে ২৩১, ২৪০, ২৩৯ ও ২৯৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। মোট মামলা এক হাজার ছয়টি। ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩টি জেলায় এই চার মাসে এমন মামলা হয় যথাক্রমে ৫৯, ৫৪, ৬০ ও ৭৫টি। আর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় এর পরিমাণ ৩৪, ৫২, ৩৩ ও ৫৪টি।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে হওয়া হত্যা মামলার তুলনামূলক চিত্র/ছবি: এআই নির্মিত
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে যথাক্রমে ২৯৪, ২১৭, ২৩৯ ও ২৬৭টি হত্যা মামলা হয়। মোট মামলা এক হাজার ১৭টি। ঢাকা রেঞ্জে এই চার মাসে এমন মামলা হয় যথাক্রমে ৭৬, ৬৬, ৬৬ ও ৭৪টি আর চট্টগ্রাম রেঞ্জে হয় ৫১, ৫০, ৬৫ ও ৬৬টি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হত্যা মামলা হয়েছে যথাক্রমে ২৮৭, ২৫০, ৩১৭ ও ২৮৮টি। মোট মামলা এক হাজার ১৪২টি। চার মাসে ঢাকা রেঞ্জে এমন মামলা হয় যথাক্রমে ৭৩, ৫৭, ৭১ ও ৬৪টি আর চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৬, ৫৪, ৬১ ও ৫৪টি।
পুলিশ সদর দপ্তর সারা দেশের থানাগুলোতে হওয়া মামলার ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধ সংঘটনের পরও অনেক সময় মামলা হয় না। এছাড়া ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় একের পর এক অপরাধ ঘটছে।
কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড
গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত হন শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। এর আগে মোহাম্মদপুরে ১২ এপ্রিল বিকেলে এলেক্স ইমন নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এবং ১৫ এপ্রিল গভীর রাতে আসাদুল হক নামের আরেক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়।
১৪ এপ্রিল রাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্রী মাহাদিয়া হাসান নবনী ওরফে দিয়ামনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার মা, বোন ও ভাইও গুরুতর আহত হন। মায়ের একটি কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
আতঙ্কের নগরী নারায়ণগঞ্জ, দিনে বের হতেও ভয়
বাবলু-নাছিরের পর রাজু হত্যাকাণ্ড, খুনের বদলা নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব?
লাল বাতি জ্বললেই ব্রেক, চাকা দাগ ছুঁলেই মামলা
প্রেম-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১৫ মার্চ রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে জড়িতদের ধাওয়া দিলে সিহাব নামের একজন ধরা পড়ে এবং তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মতিঝিলে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে মরদেহ সাত টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তার রুমমেট শাহীন আলম। পরে পুলিশ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে শাহীনকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
ঢাকার বাইরে ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজের দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারা হয়। ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান যুবদলের কর্মী নাসির উদ্দিন।
নতুন রাজনৈতিক সরকার বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুনর্গঠনের কাজ করছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ দমনে তারা প্রত্যাশিত মাত্রায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অপরাধীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।- ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক
এছাড়া, রাজধানীর মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে উপহার দেওয়ার টোপ দিয়ে দুই মাসে অন্তত ১৩ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। পরে এতে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এসব খুন-ধর্ষণের ঘটনা ছাড়াও সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক সময় এসব ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে, যা দেখে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এই চার মাসে ঘটা অন্তত ১৫টি আলোচিত হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- পারিবারিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাগুলো ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের অভিযানও চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া, রাজধানীর অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মোহাম্মদপুরে চালানো হয় কয়েক দফা অভিযান। এরপরও মোহাম্মদপুরে প্রায়ই গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন/ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার
বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
গত ১১ মে মোহাম্মদপুরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী পলাশ দলবল নিয়ে ফিল্মি কায়দায় ছিনতাই করছিলেন। পুলিশ খবর পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। এসময় ছিনতাইকারীরা চাইনিজ কুড়াল, চাপাতিসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে এক পুলিশ সদস্য পিস্তল দিয়ে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপরও ছিনতাইকারীরা হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ওই পুলিশ সদস্য এক ছিনতাইকারীর পা লক্ষ্য করে গুলি করেন। পরে অবশ্য ধরা পড়েন পলাশ। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
এর আগে ১৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহে এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর তার লোকজন হামলা চালান। এসময় হাতকড়াসহ আরিফুলকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয় জানুয়ারিতে ৪২, ফেব্রুয়ারিতে ৪২, মার্চে ৬৩ ও এপ্রিলে ৬৬টি। অর্থাৎ, বছরের প্রথম চার মাসে মোট মামলা হয় ২১৩টি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০২ ও ২২৩।
এছাড়া, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মবের শিকার হন পুলিশ সদস্যরা।
অপহরণ বেশি ছিল গত বছর
২০২৪ সালের প্রথম চার মাসে অপহরণের ঘটনা ছিল ২০০টি। ২০২৫ সালে একই সময়ে তা ছিল ৩৫৪টি। চলতি বছর চার মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৪৭ জন।
আরও পড়ুন
ট্রাইব্যুনালে জনবল সংকট, পুনর্গঠন হচ্ছে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা
পুলিশের ঝুঁকিভাতা-ওভারটাইমসহ এক গুচ্ছ দাবি, সরকারের আশ্বাস
শিশু নির্যাতনের ক্ষত শুধু শরীরে নয়, গভীরভাবে আঘাত করে মনেও
উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অনেক অস্ত্র-গুলি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র এবং দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গুলি উদ্ধার হয়নি।
এছাড়া, কারাগার থেকে লুট হওয়া বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি এখনো বেহাত। সেই সঙ্গে কারাগার থেকে পলাতক ৭০০ আসামি এখন পর্যন্ত ধরা পড়েননি।
বর্তমানে পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে একই গোষ্ঠীর মধ্যে তিন-চারটি গ্রুপিং হয়েছে। কেউ কারও কথা মানে না। এসব ঘটনা কমাতে স্বাভাবিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং জোরদার করা দরকার।- সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশের লুণ্ঠিত সব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দ্রুত এসব উদ্ধার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। যদিও গত অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী একাধিক দফায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরবর্তী সময়কে মূলত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রথমটি হলো সিজনাল ভেরিয়েশন ইন ক্রাইম বা ঋতুভিত্তিক অপরাধের প্রবণতা। দ্বিতীয়টি দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। ক্ষেত্র দুটি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীগুলোকে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুনর্গঠনের কাজ করছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ দমনে তারা প্রত্যাশিত মাত্রায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অপরাধীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হবে।

পুলিশের ওপর হামলার মামলার তুলনামূলক চিত্র/ছবি: এআই নির্মিত
পুলিশের প্রতি বিশ্বাস-শ্রদ্ধা ফেরাতে জোর
এ নিয়ে কথা হলে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে একই গোষ্ঠীর মধ্যে তিন-চারটি গ্রুপিং হয়েছে। কেউ কারও কথা মানে না। এসব ঘটনা কমাতে স্বাভাবিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং জোরদার করা দরকার। কমিউনিটি পুলিশিং চালু হয়েছে কিন্তু কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। ভালো ভালো লোকবল নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং জোরদার করলে হত্যাকাণ্ডের মতো অনেক অপরাধ কমে আসবে।’
তিনি জানান, পুলিশের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস-শ্রদ্ধা ছিল তা গত ১৫ বছরে অনেক কমে গেছে। এর কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে, তবে পুরোপুরি এখনো যায়নি। আরও কিছুটা সময় লাগবে। পুলিশের জনসংযোগ খুব কার্যকরী করা দরকার। পুলিশের আস্থা অর্জনের জন্য বাস্তব ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাচল করতে পারে তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন স্বস্তি পায় এবং শান্ত-সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে।
টিটি/একিউএফ
What's Your Reaction?