আইভীর বাসার সামনে ভিড় করছেন ভক্তরা, বসেছে সিসি ক্যামেরা

‌‘আমাদের মেয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। আমরা এতেই খুশি। তিনি অনেকদিন আমাদের মাঝে ছিলেন না। আমরা অনেক কষ্টে ছিলাম। তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরে পেয়েছি। এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা সালেহা বেগম। তার ইচ্ছা আইভী যেন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করেন এবং আবারও মেয়র হন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়ির পাশেই বসেছিলেন সালেহা বেগম। সেই সঙ্গে তিনি বসে থেকে আইভীর বাড়িতে আসা লোকজনের আনাগোনা দেখছিলেন। তিনি নিজে গিয়েও আইভীর সঙ্গে কয়েকবার কথা বলে আসেন। এর আগে বুধবার (৩ জুন) দিনগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় ফেরেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। আইভী বলেন, ‘সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।’ এদিকে আইভী বাসায় ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজনের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক লোকজন আসছেন তার বাড়িতে। আইভীর বাড়ি

আইভীর বাসার সামনে ভিড় করছেন ভক্তরা, বসেছে সিসি ক্যামেরা

‌‘আমাদের মেয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। আমরা এতেই খুশি। তিনি অনেকদিন আমাদের মাঝে ছিলেন না। আমরা অনেক কষ্টে ছিলাম। তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরে পেয়েছি। এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা সালেহা বেগম। তার ইচ্ছা আইভী যেন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করেন এবং আবারও মেয়র হন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়ির পাশেই বসেছিলেন সালেহা বেগম। সেই সঙ্গে তিনি বসে থেকে আইভীর বাড়িতে আসা লোকজনের আনাগোনা দেখছিলেন। তিনি নিজে গিয়েও আইভীর সঙ্গে কয়েকবার কথা বলে আসেন।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) দিনগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় ফেরেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

আইভী বলেন, ‘সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।’

এদিকে আইভী বাসায় ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজনের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক লোকজন আসছেন তার বাড়িতে।

আইভীর বাসার সামনে ভিড় করছেন ভক্তরা, বসেছে সিসি ক্যামেরা

আইভীর বাড়ির পাশে বসে থাকা আরেক নারী রুমা বেগম বলেন, ‘অনেকদিন পর আমাদের মা আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন। এটা আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়। তবে এখনো তাকে দেখার সুযোগ পাইনি। আপাতত তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। পরবর্তীসময়ে গিয়ে একসময় দেখা করবো। আমরা সবসময় তার সঙ্গে দেখা করতে পারবো।’

আইভীর কারামুক্তির খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরা এলাকা থেকে দেখতে এসেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হান্নান মিয়া। তিনি এসেই আইভীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। হান্নান মিয়া বলেন, ‘আইভী মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাকে দেশের মানুষ ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা থেকেই তাকে দেখতে এসেছি।’

রহিমা বেগম নামের আরেকজন বলেন, ‘আইভী নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকে ভালোবাসে। সারাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। আমরা তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।’

অন্যদিকে আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইভীর বাসার সামনে ভিড় করছেন ভক্তরা, বসেছে সিসি ক্যামেরা

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু এখানে নয়, বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম। এটা আলাদা কোনো বিষয় নয়। তাছাড়া তিনি (সেলিনা হায়াৎ আইভী) অনেকদিন পর বাসায় ফিরেছেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।’

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আবারও আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। এরপর আরও দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছিলেন।

সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তার কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা।

২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে টানা জয়ী হন তিনি।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow